× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাচ্ছে আজ

স্বাধীনতা স্তম্ভ এলাকা থেকে শাহবাগ থানা স্থানান্তর হচ্ছে

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৪ ০৯:৪২ এএম

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৪ ১১:৩৯ এএম

শাহবাগ থানা। ছবি : সংগৃহীত

শাহবাগ থানা। ছবি : সংগৃহীত

অবশেষে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ (তৃতীয়) এলাকার মধ্য থেকে শাহবাগ থানা স্থানান্তর হচ্ছে। অবসান ঘটতে চলেছে থানা স্থানান্তর নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ, স্বরাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টানাপড়েনের।

উল্লেখ্য, প্রকল্প এলাকায় থানা থাকার কারণে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছিল। প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এটি সরিয়ে নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন রমনা মৌজার সাকুরা রেস্টুরেন্টের স্থানে স্থাপনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু সমন্বয়হীনতার কারণে থানা স্থানান্তর হচ্ছিল না। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গত মার্চে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আবারও চিঠি দেওয়া হয়। এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠালে প্রধানমন্ত্রী তাতে সায় দেন। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পেতে পারে। এ ছাড়া ‘বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন আইন, ২০২৪’ এবং ‘ড্রেজিং ও ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৪’ আজ চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে। 

ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে থানার জমিটি হস্তান্তরের ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে থানা স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভের তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের নির্মাণ সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ কাজ মূলত শাহবাগ থানা সংলগ্ন এলাকায়। কিন্তু থানা থাকায় এই নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন নানাভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সাত মার্চের ভাষণ ও মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ভাস্কর্যের দৃশ্যমানতাও ব্যাহত হবে। প্রকল্পটির নান্দনিকতা ফুটিয়ে তোলাসহ সার্বিক কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে অসুবিধা হবে। 

সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পের চলমান অগ্রগতিবিষয়ক পর্যালোচনা সভায় বলা হয়, এ প্রকল্পের অগ্রগতি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ হয়েছে। শাহবাগ থানা দ্রুত স্থানান্তর না করা গেলে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। সম্ভব হবে না নির্মাণ করা ফুলের দোকানের হস্তান্তর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতার দাবিতে যখন দেশ উত্তাল, সেই সময় একাত্তরের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (রেসকোর্স ময়দান) লাখো জনতার সমাবেশে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন তিনি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সুহৃদ ইন্দিরা গান্ধী এ দেশ সফরকালে এই ময়দানেই ভাষণ দিয়েছিলেন। ঘটনাবহুল এ উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ১৯৯৮ সালের ২৯ জুন।

অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং করা যাবে না 

দেশের নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়, জলাশয়-পুকুরে সরকারের অনুমোদনবিহীন মেশিনচালিত যন্ত্র ব্যবহার করে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং করা যাবে না। এমন বিধান যুক্ত করে ড্রেজিং ও ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৪ প্রস্তুত করা হয়েছে। আজ এ নীতিমালা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেতে পারে। 

নীতিমালার খসড়া থেকে জানা গেছে, ক্রমাগত পলি জমার কারণে দেশের নদ-নদীর পানি পরিবহন ও ধারণক্ষমতা কমে আসছে এবং তীর ভেঙে নদীর প্রশস্ততা বাড়ছে। এ কারণে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে ক্রমশ বন্যার প্রকোপ বাড়ছে। অন্যদিকে, শুষ্ক মৌসুমে নদ-নদীতে ক্ষীণধারা প্রবাহিত হচ্ছে। বিবেচ্য নীতিমালাটি সুপরিকল্পিত ড্রেজিং এবং ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ সকল সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ভূমি পুনরুদ্ধার, মৎস্য, কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, জলাভূমির জীববৈচিত্র্য, বিভিন্ন জলজ প্রজাতির প্রজনন ও আবাসস্থল রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলাসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও উদ্যোগী হবে। তাই এমন প্রেক্ষাপটে ড্রেজিং সম্পাদন এবং উত্তোলিত ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়ন অত্যাবশ্যক। 

গাছ কাটতেও লাগবে সরকারের অনুমতি 

অতীতে প্রকল্প কিংবা সৌন্দর্যবর্ধনের নামে একাধিকবার গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ব্যক্তিগত প্রয়োজনেও অনেকে নির্বিচারে গাছ কেটে থাকেন। কিন্তু এখন থেকে ব্যক্তিগত বা বাসাবাড়ির গাছ কাটতেও লাগবে সরকারের অনুমতি। এমন বিধান রেখে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন আইন, ২০২৪-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। এটি আজ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেতে পারে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা