প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০২২ ২১:৪৩ পিএম
নির্বাচন কমিশনের আলোচিত ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আন্ত:মন্ত্রণালয় প্রোগ্রামিং কমিটির বিশেষ সভার সুপারিশ এবং পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদনের প্রেক্ষিতে এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মূল্যায়নে কিছু বিষয় বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত “নির্বাচন ব্যবস্থায় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার বৃদ্ধি ও টেকসই ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক প্রকল্প মূল্যায়নে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনার জন্য বলা হয়েছে।
প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থানের লক্ষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় অর্থবিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে অর্থায়নের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
প্রকল্প ব্যয় নিবিড় পর্যালোচনা করে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট খাতগুলি সঠিক রেখে পুরো ব্যয় প্রয়োজনে পুনর্বিন্যাস করতে হবে। প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের জন্য প্রস্তাবিত ৪টি জীপ এবং ৫৩৪টি ডাবল কেবিন পিকআপ ক্রয়ের পরিবর্তে গাড়িগুলো ভাড়া করা যায় কিনা তা বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। এছাড়া, ডিপিপির ক্রয় পরিকল্পনা অংশের ক্রয় পদ্ধতি এবং ধরণ কলামে অর্পিত ক্রয় কার্য এবং ডিপিএমের পরিবর্তে ওটিএম উল্লেখ করতে হবে।
ডিপিপিতে প্রস্তাবিত প্রশাসনিক ব্যয় , পেশাগত সেবা ও সম্মানী, মেরামত ও সংরক্ষণ , ভবন স্থাপনা, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামদি এবং ভূমি অধিগ্রহণ খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ যৌক্তিকভাবে পুন:নির্ধারিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এগুলো সংশোধেন করে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার আগেই কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে। এরপরেই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় নির্বাহী পরিষদের একনেক এডিপিভুক্ত হলে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য তোলা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি এডিপির সবুজ তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ছিলো না। জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় চলতি অর্থবছরের নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আগামী সংসদ নির্বাচনে কমপক্ষে ১৫০টি আসনে ইভিএম মেশিন ব্যবহার করতে চায় ইসি। এ লক্ষ্যে গত ১৯ অক্টোবর ইভিএম প্রকল্পের ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় নির্বাচন কমিশন। ‘নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় নতুন করে ২ লাখ ইভিএম মেশিন কেনা হবে।
পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রকল্পের ডিপিপি থেকে জানা গেছে, প্রতিটি ইভিএমের মূল্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ টাকার বেশি। এর সঙ্গে যুক্ত হবে ভ্যাটসহ অন্যান্য শুল্ক। সব মিলিয়ে প্রতি সেট ইভিএমের দাম ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। প্রকল্পে ইভিএম কিনতেই যাবে ৬ হাজার ৬৬০ কোটি ২৯ লাখ টাকা। প্রকল্পে ইভিএম সংরক্ষণের জন্য ইসির ১০টি অঞ্চলে ওয়্যারহাউস নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা। ইভিএম পরিবহনের জন্য প্রতিটি থানা ও উপজেলা অফিসে একটি করে গাড়ি কেনার জন্য অর্থ ধরা হয়েছে। এ ছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় ইভিএম ব্যবস্থাপনার জন্য বিপুলসংখ্যক জনবল ও প্রশিক্ষণ ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রকল্পটিতে ৫৩৪টি শুধু ডাবল কেবিন পিকআপ কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে ব্যয় হবে ২৬২ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে সংশোধিত ডিপিপি সোমবার পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে পারে নির্বাচন কমিশন।