প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৪ ২১:২৩ পিএম
প্রবা ফটো
দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) তাৎক্ষণিকভাবে ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী ১ জুলাই থেকে সিআইবি ডাটাবেইজে বাল্ক আকারে রিপোর্ট করতে নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবির এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটা নীতিমালা যখন ঠিকমত বাস্তবায়ন না করা হয় তখন দুষ্কৃতিকারীরা আরও বেশি সাহস পেয়ে যায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংক এবং ফাইন্যান্স কোম্পানি কোনো ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণ গ্রহীতা’ শনাক্ত ও চূড়ান্তকরণের পর এ সংক্রান্ত তথ্য সিআইবিতে রিপোর্ট করতে হবে। ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণ গ্রহীতার তথ্য নির্ধারিত ছকে এর নির্দেশনা অনুসরণ করে আগামী ১ জুলাই হতে সিআইবি ডাটাবেইজে এন্ট্রি বা বাল্ক আকারে ‘রিয়েল টাইম’এ রিপোর্ট করতে হবে।
ইচ্ছাকৃত খেলাপির সংজ্ঞার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, কোনো ঋণ গ্রহীতা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানী নিজের, তার পরিবারের সদস্যের, স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির অনুকূলে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহীত ঋণ, অগ্রিম, বিনিয়োগ বা আরোপিত সুদ বা মুনাফা তার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পরিশোধ করে না করলে তিনি ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন।
এছাড়া জালিয়াতি, প্রতারণা বা মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে বা যে উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে সে উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো খাতে ব্যবহার করলে অথবা অন্য কোনো ব্যাংকের জামানতকৃত সম্পদ অনুমতি ছাড়া নতুন ঋণে জামানত হিসেবে দেখালে তাকে ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এর আগে এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের প্রতিবেদন প্রতি ত্রৈমাসিকে ব্যাংকের অডিট কমিটির সভায় উপস্থাপন করতে হবে। অডিট কমিটি উপস্থাপিত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়া পর্যালোচনা করে গুরুত্ব বিবেচনায় এ বিষয়ে তাদের মতামত বা সিদ্ধান্ত পরবর্তী পর্ষদ সভাকে জানাবে।
ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত নিয়মিত বা বিশেষ অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণ গ্রহীতার বিষয়ে পর্যালোচনাসহ একটি আলাদা অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং তা নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে টীকা আকারে প্রকাশ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়। অপর আরেক নির্দেশনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্ত করতে পৃথক ইউনিট গঠনের নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, খেলাপিদের ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞা এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের (আরজেএসসি) কাছে কোম্পানী নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে তালিকা পাঠাবে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃত খেলাপীর তালিকা গাড়ি, জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ইত্যাদির নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে সংস্থাটি। এসব সংস্থা তাদের আইন অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত খেলাপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি কোনো ইচ্ছাকৃত খেলাপী রাষ্ট্রীয় পুরস্কার বা সম্মাননা পাওয়ারও যোগ্য হবেন না বলেও জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানায়, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছাকৃত খেলাপির তালিকায় কারও নাম আসলে ঋণ পরিশোধ করে তালিকা থেকে অব্যহতির পাঁচ বছরের মধ্যে কোনো ব্যাংকের পরিচালক হতে পারবেন না। আর যদি কোনো পরিচালক ইচ্ছাকৃত খেলাপি হয়ে পড়েন তবে তার পরিচালক পদ বাতিল হবে। কেউ ইচ্ছাকৃত খেলাপি হওয়ার পর তালিকার বিরুদ্ধে আপিল না করলে বা আপিল করার পর না মঞ্জুর হলে তাকে দুই মাসের মধ্যে অর্থ পরিশোধে জন্য নোটিশ দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ক্রমে খেলাপির বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করবে ব্যাংক।