নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২২ ১৪:৪১ পিএম
আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২২ ১৬:৩২ পিএম
ফাইল ছবি
চাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম কমায় জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গত জুন মাসে যা ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ, যা গত জুন মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে বুধবার সাংবাদিকদের এক জরুরি বিফ্রিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এসব তথ্য জানান।
এম এ মান্নান বলেন, ‘অনেকে বলেছিল বাংলাদেশ হবে শ্রীলঙ্কা, তাদের জন্য বলতে চাই আমরা শ্রীলঙ্কা হইনি, হব না। মূল্যস্ফীতির হার কমতে শুরু করেছে। আপনারা দেখবেন, খাদ্যের জাহাজ রাশিয়া থেকে সাগরে ভাসতে ভাসতে আমাদের তীরে আসবে। তেল, চাল ও গমের দাম কমছে। সামনে মূল্যস্ফীতির হ্রাসের ধারা অব্যাহত থাকবে। এটি আমাদের জন্য ভালো খবর। আমরা জানি মূল্যস্ফীতি বাড়লে মানুষের কষ্ট হয়। ৪২২টি পণ্যের গড় করে মূল্যস্ফীতি দেওয়া হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘রোপা আমন হচ্ছে। আরও একটি ভয়ংকর বন্যা যদি না আসে, তবে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। চাল আমদানির দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। ৪২২টি আইটেমের ওপর ভর করে বিবিএস মূল্যস্ফীতির তথ্য দেয়। সার্বিক মূল্যসূচক দশমিক ০৮ শতাংশ কমেছে, এটি বিরাট খবর। খাদ্যের মূল্যসূচকও কমেছে। আমি বিশ্বাস করি, এ ধারা বজায় থাকবে।’
জুলাইয়ে গ্রামে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ২ শতাংশ, অথচ শহরে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। অর্থাৎ শহরের চেয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে বেশি পুড়ছে গ্রামের মানুষ। ধনী শ্রেণির মানুষ ৮০ থেকে ৯০ ধরনের পণ্য ব্যবহার করে। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষ ২০ থেকে ২২ ধরনের পণ্য ব্যবহার করে।
নিম্ন আয়ের মানুষদের ব্যহার করা পণ্য নিয়ে কিছু করা হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গ্রামের মানুষ কিছুটা দার্শনিক। তারা ব্যথাটা ফিল করে না। গ্রামের মানুষ ঘরের খাবার খায়। তারা মূল্যস্ফীতির খবর নেয় না। নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি সহনশীল। তবে এটা আমরা আলাদা করব। ২০ থেকে ২২টি পণ্য নিয়ে কয়েকমাসের মধ্যে কিছু একটা করব। এখন ধনী ও গরিব সবার পণ্য একইভাবে হিসাব করা হয়। কয়েকমাসের মধ্যে এটি আলাদা করব।’
বিবিএসের তথ্যে মাসওয়ারী পেঁয়াজ, ডাল, চিনি, মুড়ি, মাছ, মাংস, ব্রয়লার মুরগি, ফল, তামাক, দুগ্ধজাতীয় পণ্য ও অন্যান্য খাদ্যের দাম কিছুটা কমেছে। ডিম, শাকসবজি ও মসলাজাতীয় পণ্যের দামও কমেছে বলে দাবি সংস্থাটির।
খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে জুলাইয়ে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ হয়েছে, জুনে যা ছিল ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বাড়িভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালী, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণ ও বিবিধ সেবাখাতের মূল্যস্ফীতির হার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
প্রবা/রাই