× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আমানতের পাশাপাশি মুনাফা অর্জন ব্যাংক খাতে বড় চ্যালেঞ্জ

জোনায়েদ মানসুর

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৪ ২১:৫৩ পিএম

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের এমডি ও সিইও আরিফ কাদরী। প্রবা ফটো

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের এমডি ও সিইও আরিফ কাদরী। প্রবা ফটো

ব্যাংক খাতে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে ডলার সংকট অন্যতম। এ ছাড়া ব্যাংক খাতে সুশাসনেরও ঘাটতি রয়েছে। রেমিট্যান্স আসছে না আশানুরূপ। এর মধ্যে আমানত সংগ্রহের পাশাপাশি মুনাফা অর্জন এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) আরিফ কাদরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জোনায়েদ মানসুর

প্রবা : বর্তমানে ব্যাংক খাতে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

আরিফ কাদরী : ব্যাংক খাতে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তার মধ্যে আমানত সংগ্রহের পাশাপাশি মুনাফা অর্জন এখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ আমানত সংগ্রহ করতে হচ্ছে সাড়ে আট শতাংশের বেশি মুনাফা দিয়ে। ঋণ বিতরণ করতে হচ্ছে সাড়ে দশ শতাংশে। ফলে মুনাফা ও আমানত সংগ্রহে ব্যাংক খাতে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।


প্রবা : চলমান ডলার সংকট কীভাবে মোকাবিলা করছেন? 

আরিফ কাদরী : শুরু থেকেই আমি এলসি সরাসরি মনিটরিং করি। সম্প্রতি ডলার সংকটেও কৌশলী ভূমিকা রাখায় প্রয়োজন অনুযায়ী এলসি খুলতে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। সাম্প্রতিক সময় আমাদের আমদানি রপ্তানি ছিল কাছাকাছি। রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের আয়ের অর্থ দিয়েই ডলার চাহিদার জোগান দিতে পেরেছি। 


প্রবা : গ্রাহককে নির্ভুল ও নিরাপদ সেবা দিতে ইউসিবি কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে? 

আরিফ কাদরী : ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) বয়স হয়েছে ৪১ বছর। যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। এত বছরে ইউসিবি গ্রাহকের আস্থার জায়গা করে নিয়েছে। ইউসিবির হেলথ ভালো। রিটেইল, এসএমই এবং কার্ড বিভাগ ফোকাস দিচ্ছি এবং সেগমেন্টগুলোর বৃদ্ধি করপোরেট বিভাগে তুলনায় বেশি। মোট কথা আমরা গ্রাহকবান্ধব। গ্রাহককে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকি। অন্য ব্যাংকগুলোর চেয়ে ইউসিবির সেবার মান অনেক উন্নত। গ্রাহকের চাহিদামতো ইউসিবির কর্মীরা হাসিমুখে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে থাকেন। ইউসিবি একটি করপোরেট ব্যাংক হলেও আমরা বড়দের বা করপোরেট ব্যাংকিংয়ে বেশি ফোকাস করছি না। প্রান্তিক মানুষকেও সেবা দিচ্ছে। নতুন নতুন সেবার সংযোজন করা, গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন, নিরাপদ ও নির্ভুল সেবার নিশ্চয়তার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিটি কর্মী। আমরা চেষ্টাই করছি ইউসিবি মানুষের মুখে মুখে থাকুক। তাই আমাদের ব্যাংকে গ্রাহক বেশি আসছে, আসবে। 


প্রবা : গ্রমীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ইউসিবি কীভাবে ভূমিকা রাখছে?

আরিফ কাদরী : গ্রমীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে প্রতিনিয়ত কাজ করছে ইউসিবি। প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের জন্য ক্ষুদ্রঋণ দিতে অনেক ব্যাংক তেমন আগ্রহ দেখায় না, সেক্ষেত্রে ইউসিবির সব সময় রিটেইল এবং এসএমই ঋণের প্রতি আগ্রহ ছিল। আমরা কৃষকদের ঋণ দিই। এতে আমাদের সুনামও আছে। বিশেষ করে অ্যাগ্রো সিএসআর খাতে বেশি সুনাম কুড়িয়েছে ইউসিবি। সারা দেশে কৃষকদের মাঝে ২৫ কোটি টাকা দিয়েছি। যা ফেরত দিতে হবে না কৃষকদের। তাদের সোলার প্যানেল করে দিয়েছি। বজ্রপাত প্রতিরোধে সহায়তা করেছি। আর এখন সেটাকে আরও বাড়ানো হয়েছে। আগে ঋণের ৩০ শতাংশ ঋণ দেওয়া হতো রিটেইল এবং এসএমই খাতে। এখন সেটাকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে। সারা দেশে ৬০ হাজার কৃষককে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষি খাতে ঋণ দিচ্ছে ইউসিবি। 


প্রবা : ইউসিবির আমানত ও ঋণ বিতরণ পরিস্থিতি কেমন যাচ্ছে? 

আরিফ কাদরী : ইউসিবির মোট আমানতের পরিমাণ হলো ৫৪ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে করপোরেট খাতে ১৭ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা, এসএসই খাতে ৬ হাজার ৪৮ কোটি টাকা, রিটেইল খাতে ২৯ হাজার ১২৫ কোটি টাকা এবং ইসলামি ব্যাংকিং খাতে ১ হাজার ৯৬১ কোটি টাকার আমানত রয়েছে। আমরা সব পর্যায়েই ঋণ দিয়ে থাকি। তবে বর্তমানে যে খাতে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, অর্থনৈতিক অবদান বেশি সে বিষয়টিকে মাথায় রেখে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ঋণ দিয়ে থাকি। তবে আমাদের বিতরণ করা ঋণের সিংহভাগই শিল্প খাতে। কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএসএসএমই) খাতে ঋণ মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ২০ শতাংশ। সেটাকে বাড়িয়ে এবার ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। তাই এখন রিটেইল এবং এসএমই খাতে ঋণের গুরুত্ব বেশি দিচ্ছি। ইউসিবির মোট ঋণ বিতরণের পরিমাণ হলো ৫৩ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে করপোরেট খাতে ৩৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা, এসএমই খাতে ১১ হাজার ২৮১ কোটি টাকা, রিটেইল খাতে ২ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা এবং তাকওয়া ইসলামি খাতে ১ হাজার ৩২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। আমাদের বর্তমানে ২২৯ শাখা, ১৫২ উপশাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং ৯২৭টি এবং এটিএম-সিআরএম ৭০৩টি। এ ছাড়া পস মেশিন রয়েছে ২২ হাজার ৯৭টি।


প্রবা : আপনাদের এটিএম ও সিআরএম এ আসার বিষয়ে জানতে চাই। 

আরিফ কাদরী : আমরা ই-সার্ভিসে সেরা এবং বাংলাদেশে রোবটিকে ইউসিবি প্রথম, আছে দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক। যেকোনো জায়গা থেকে ইউসিসির সেবা পেতে পারেন বা নিতে পারেন গ্রাহকরা। এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) বুথ মানুষকে প্রযুক্তিভিত্তিক লেনদেনে অভ্যস্ত করার ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। সিআরএম স্থাপনের ক্ষেত্রে ইউসিবি অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সিআরএমএ প্রথম ইউসিবি। ক্যাশ রিসাইকেলার মেশিন (সিআরএম) টাকা জমা ও উত্তোলন দুই-ই করা যায়। এতে নিরাপত্তার বিষয়টিও সর্বাধুনিক। সিআরএম মেশিনে এক লাখ টাকা পর্যন্ত তোলা যায়। সিআরএম টাকা জমা দেওয়া বা উত্তোলনে ২৪ ঘণ্টা সাপোর্ট তো দেবেই, সেই সঙ্গে অর্থের পুরো নিরাপত্তাও দেবে। দিন-রাত যেকোনো সময় এ মেশিনে টাকা জমা দেওয়া যাবে। গ্রাহকদের এখন আর ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না, বিড়ম্বনামুক্ত সেবা দেয় নতুন এ প্রযুক্তি। আমরা রূপগঞ্জে ২০১৭ সালে প্রথম যখন সিআরএম স্থাপন করি। তখন মানুষের ব্যাপক সাড়া পেলাম, ফলে আরও কয়েক জায়গায় সিআরএম স্থাপন করা হয়। পরবর্তী সময় বাংলাদেশ ব্যাংকও আমাদের উদ্যোগে আগ্রহ দেখিয়েছে।


প্রবা : ন্যাশনাল ব্যাংক ও ইউসিবির একীভূতকরণের আলোচনা হচ্ছে এ বিষয়ে আপনারা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? 

আরিফ কাদরী : সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছিল দেশে কিছু দুর্বল ব্যাংক আছে। সে ব্যাংকগুলো সবল ব্যাংকের সঙ্গে যদি মার্জ করে, তাহলে ব্যাংক খাত আরও ভালো হবে। সে আগ্রহের জায়গা থেকে আমরা আগ্রহ দেখাই। ন্যাশনাল ব্যাংক অনেক পুরোনো ব্যাংক। রেমিট্যান্সে তারা ভালো করে। যদি মার্জ হয় তাহলে তো ভালোই হয়। এখন খবরের মাধ্যমে জানতে পেরেছি তারা মার্জ হতে চায় না। তাই এ ব্যাপারে আর কিছু বলার নেই।


প্রবা : ইউসিবিতে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

আরিফ কাদরী : ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আছে গ্রাহকের উন্নত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খেলাপি ঋণ কমানো। ইউসিবির নন পারফর্মিং লোন (এনপিএল) যা আছে তা আরও কমিয়ে আনা। আমাদের এনপিএল ২০২৩ সালের শেষে ৪ দশমিক ৯৫ ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে ইউসিবির এনপিএল ৫ দশমিক ৩০ শতাংশের ঘরে। এখান থেকে ১ দশমিক ৫-২ শতাংশে কমিয়ে আনা। 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা