প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৪ ২১:৩৬ পিএম
আপডেট : ১৫ মে ২০২৪ ২২:২১ পিএম
রাজধানীর পুরানা পল্টনে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা আরোপ বিষয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে অবহিতকরণ-বিষয়ক এক সভা। প্রবা ফটো
দরবেশ পীর-বাবাদের ছত্রছায়ায় ব্যাংক খাতে এখন আড়তদার তৈরি হয়েছে। চলছে হাজার হাজার কোটি টাকার লুটপাট ও নৈরাজ্য। এসব লুটপাটের পাহারা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বলে জানিয়েছেন সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতারা।
তারা জানান, সাংবাদিকরা জনগণ ও সরকারের সহায়ক হিসেবে কাজ করে থাকেন। তাই অর্থনৈতিক এ সংকট ও আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে এখনোই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশের বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তা না হলে আগামী দিনে বড় ধরনের আন্দোলনের হুমকি দেন জাতীয় প্রেস ক্লাব, বিভিন্ন সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।
বুধবার (১৫ মে) রাজধানীর পুরানা পল্টন অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সাংবাদিক নেতারা এসব কথা বলেন।
‘সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা আরোপ বিষয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে অবহিতকরণ’ বিষয়ক এক সভার আয়োজন করা হয়। ইআরএফ সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সম্পাদক আবুল কাশেম।
ইআরএফ সভাপতি বলেন, ‘দেড় মাসের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে তথ্য সংগ্রহে বাধা ও অবাধ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে কী করতে পারি, এ বিষয়ে পরামর্শ ও মতামত নিতে এ আয়োজন করা হয়েছে।’ রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে সাংবাদিকদের স্বার্থে সবাইকে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান ইআরএফ সভাপতি।
এরপর কবে থেকে কীভাবে কেন বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশ করা প্রয়োজন, তা বিস্তারিত তুলে ধরেন ব্যাংক খাতের রিপোর্টার সমকালের বিশেষ প্রতিবেদক ওবাইদুল্লাহ রনি।
তিনি জানান, দেড় মাস ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে স্পর্শকাতর ফাঁস হয়ে যায়। যদি স্পর্শকাতর তথ্য দেশ ও জনগণের জন্য উপকার হয়, তাহলে এটাই তো প্রকাশ করা আমাদের কাজ। এ ছাড়া সাংবাদিকরা বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে কিংবা দেখা করে, তাদের ডেকে নিয়ে গিয়ে চাকরিচ্যুত করা ও পদোন্নতি না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’ এসব বিষয় সুরাহা করে আগের মতো অবাধ সংবাদিক প্রবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ইআরএফের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, ইআরএফের সাবেক সভাপতি মনোয়ার হোসেন, বেসরকারি বার্তা সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) উপদেষ্টা সম্পাদক ফরিদ হোসেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি সোহেল হায়দায় চৌধুরী, সাজ্জাদ আলম খান তপু, ডিইউজের অপর অংশের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি, ইআরএফের সিনিয়র সদস্য সোহেল মঞ্জুর, ইআরএফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান, এসএম রাশিদুল ইসলাম প্রমুখ।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক বিশৃঙ্খলা লুটপাট ও নৈরাজ্য যে চলছে সেটির অংশ হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা। এটি করে কোনো লাভ হবে না। কারণ বর্তমান যুগে তথ্য গোপন রাখা সম্ভব নয়। যেকোনো উপায়ে তথ্য-ফাইল বের হবেই। রিজার্ভের যে অর্থ চুরি হয়েছে সে সময় চোরকে কি বাংলাদেশ ব্যাংকে আসতে হয়েছে? চোরকে তো বাংলাদেশের সীমানায় আসতে হয়নি। এখন সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে লুটপাটের তথ্য আড়াল করা যাবে না। টাকা লুটপাট করে নিয়ে যাবেন অথচ কিছু বলা যাবে না, এটা তো হতে পারে না।’
ব্যাংকে যে লুটপাট হচ্ছে তা দেখে মাঝেমধ্যে সহ্য করতে কষ্ট হয় জানিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের এ নেতা বলেন, ‘একটি গ্রুপ সাত-আটটি ব্যাংকের মালিক হয় কীভাবে? এর মধ্যে আরেকটি ব্যাংক নিয়ে গেছে খুব সুন্দর কায়দা করে। এখানে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা গ্রহণযোগ্য নয়।’ তাই আলোচনায় সমাধান না হলে প্রয়োজনে আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার আদায় করতে হবে বলে জানান শ্যামল দত্ত।
বিএফউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, ‘ব্যাংক রিপোর্টাররা আজ সমস্যায় পড়েছেন, এটা আরও বাড়বে। ধীরে ধীরে সাংবাদিকরা আরও সমস্যার সম্মুখীন হবেন। দলমতের বাইরে এসে পেশাদারত্বের জায়গায় আমাদের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সকল সংগঠন সংঘবদ্ধ হয়ে আগাতে হবে। অতীতেও আমরা সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের অধিকার আদায় করেছি। শেয়ারবাজার, ডলার বাজারে যেসব অপকর্ম করা হয়, এগুলো তো কর্মকর্তারাই ঘটান, সাংবাদিকরা শুধু তা লিখে তুলে ধরেন।’
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে এমন একজন গভর্নরকে বসানো হয়েছে তিনি তার যোগ্যই নন। তার যেই দুর্বলতা আছে সেটি ঢাকার জন্যই তিনি সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। বর্তমান গভর্নরের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো সূচকেই সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই ডলারের দাম এক লাফে সাত টাকা বাড়িয়ে দিলেন কিসের ভিত্তিতে? কিছু পীর-আওলিয়া-দরবেশদের সুবিধা দিতে গিয়েই সাংবাদিকদের এমন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তারা দরজায় খিল দিয়েছে, কিন্তু দরজা বন্ধ করতে পারেনি। প্রয়োজনে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গেটে অবস্থান নেব। গভর্নরকে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করতে দেব না। আমাদের অধিকার আদায় করেই ছাড়ব।’
ডিইউজের সভাপতি ও ইআরএফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ১৯৭১ সালে আমাদের দেশের মুক্তিযোদ্ধারা এ দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন। এখন সাংবাদিকদের বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশাধিকার নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এ স্বাধীনতাকে কলুষিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে গভর্নর সাহেবকে পদক্ষেপ নিতে হবে। সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে অতিদ্রুত। মুখপাত্রের কাছে কোনো তথ্য চাওয়া হলে তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিকদের প্রদান করতে হবে।’
বিএফইউজের মহাসচিব আব্দুল কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে এখন আড়তদার তৈরি হয়েছে, একজনই অনেক ব্যাংকের মালিক। এ ছাড়া রিজার্ভ চুরি, ভল্টের সোনা চুরি এসবের খবর যেন জনগণের সামনে না আসে, তাই চোরদের পাহারা দেওয়ার জন্যই এমন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়ন্ত্রণ সংস্থায় সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞায় আমরা বিষ্তিত হয়েছি, এর মাধ্যমে কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘অতীতেও পেরেছি এবারও পারব। যখন সকল মত-পথের সাংবাদিক একসঙ্গে হয়েছি, সেহেতু পারবই। যে তথ্য নিয়ে জনগণের জন্য সংবাদ করা হয় তা কখনও চুরি হতে পারে না। এখন শুধু আর্থিক খাতেই কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবাই মিলে ভাগাভাগি করে খাওয়ার (অনিয়ম) যে জায়গা, সেটিই সাংবাদিকরা বন্ধ করে দিচ্ছে বলেই আজ এই অবস্থা। গণমাধ্যম একটা চরম সংকটে আছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে।’
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শুকুর আলী শুভ বলেন, ‘সাংবাদিক যদি বাংলাদেশে থাকে তথ্য তাকে দিতেই হবে। যখনোই তথ্য দেবে না তখনি লুকোচুরির বিষয় থাকবে বলেই আমরা ধরে নেব। গভর্নর তো কিছু দিনের জন্য। আমাদের অধিকার আমাদেরই আদায় করে নিতে হবে৷ যুগে যুগে সাংবাদিকদের অধিকার আদায় করে নিতে হয়। সাংবাদিকরা কোনো ব্যক্তির জন্য কাজ করেন না, তারা পুরো দেশের জন্য কাজ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের অবশ্যই সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গেট বন্ধ করে অবস্থান নেব, প্রয়োজনে প্রেস ক্লাবে রাস্তা বন্ধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করব।’
ইআরএফের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগে ১৯৭৩-৭৪ সালের দিকে আমাদের যেসব তথ্য দেওয়া হতো, এখন আর সেগুলো হয় না। অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রকাশ করলে তাদের সমস্যা হয়- এ কারণেই প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।’
ইউএনবির সম্পাদক ফরিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করছে। এই যে প্রতিনিয়ত পত্রিকায় তাদের ব্যাপারে রিপোর্টগুলো হচ্ছে, এসব করে তাদের নিজেদের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তারা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতেই এমন করছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।’
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সাংবাদিকদের নিষেধাজ্ঞা শুধু ব্যাংক রিপোর্টার বা অর্থনীতির রিপোর্টারদের অসম্মান করাই হচ্ছে না, এটি পুরো গণমাধ্যমের গলা টিপে ধরা হচ্ছে। আমাদের সবার উচিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অবস্থান নেওয়া। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তার দুর্নীতির ফাইল জমা হয়ে আছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করলে তারা নিজেরাই আমাদের কাছে চলে আসবে।’
ইআরএফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘এ ইস্যু শুধু ব্যাংক রিপোর্টারদের জন্য না, এটি সবার জন্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, এটির যদি সফলতা পেয়ে যায়, তাহলে সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া শুরু হবে। আর এই হুমকি আমাদের আগামীর ভবিষ্যতের জন্য ভয়ানক। টাকা ছাপিয়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ানো হচ্ছে। সরকার যদি মনে করে যে বাংলাদেশ ব্যাংকে নিষেধাজ্ঞা থাকলে সরকার অনেক কিছু আড়াল করে ভালো থাকবে, তাহলে এটা ভুল। বরং সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশ করে দিলে অর্থনীতি আরও ভালো থাকবে। দুর্নীতিগুলো সামনে আসবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে।’
ইআরএফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নাগরিক প্রতিষ্ঠান, আর নাগরিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য জনগণের পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাই দ্রুতই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা উচিত। সরকারের ভালোর জন্যই এই সুযোগ তৈরি করা উচিত।’
রেফায়েত উল্লাহ মীরধা বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, গভর্নরের সঙ্গে কথা বলেছি, উনি বলেছেন আসা-যাওয়া করতে থাকো ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু দেড় মাস পার হলেও এখনও আমাদের সহকর্মী সাংবাদিক ভাইয়েরা বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করতে পারছেন না। আগে সাংবাদিকরা যেভাবে সহজে যেকোনো অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে পারতেন, তা এখন পারছেন না। সহকর্মীরা বলছেন যে তাদের ফোন ট্র্যাকিং করা হচ্ছে। যা খুবই ভয়ানক ব্যাপার।‘ এ অবস্থা চলতে থাকলে সবার পরামর্শ ও অংশগ্রহণে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ইআরএফ সভাপতি।