× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আইনি জটিলতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৪ ২১:৩৫ পিএম

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪ ২২:০৪ পিএম

এফবিসিসিআইয়ের মতিঝিল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিজনেস রিলেটেড ব্যারিয়ার্স অ্যান্ড পসিবল ওয়ে-আউট শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু‍। প্রবা ফটো

এফবিসিসিআইয়ের মতিঝিল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিজনেস রিলেটেড ব্যারিয়ার্স অ্যান্ড পসিবল ওয়ে-আউট শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু‍। প্রবা ফটো

আইনকানুনের জটিলতা, বন্দরের সমস্যা এবং নানামুখী হয়রানির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের ব্যবসা। বাণিজ্য সম্প্রসারণে সব ধরনের বাধা থেকে মুক্তি চেয়েছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। আর অর্থনীতির স্বার্থে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী। মঙ্গলবার (১৪ মে) এফবিসিসিআইয়ের মতিঝিল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিজনেস রিলেটেড ব্যারিয়ার্স অ্যান্ড পসিবল ওয়ে-আউট শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তাদের আলোচনায় এসব বিষয় উঠে এসেছে।  

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু‍। যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআই, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড বাংলাদেশ।

এ সময় এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজার এখন আর দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্য ও মিয়ানমারকে বিবেচনার মধ্যে নিলে এই বাজারের আকার ২০ কোটি ছাড়িয়ে যায়। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৫তম শীর্ষ বাজার, ২০৩০ সালের মধ্যে ২৩তম শীর্ষ বাজার হবে।’

অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু খাতে ব্যবসা করতে গিয়ে অনেক সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। বিশেষ করে, আইনকানুনের জটিলতা, বন্দরের সমস্যা- এসব কারণে আমাদের ভুগতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে ক্ষুদ্র, মাঝারি থেকে শুরু করে বৃহৎ সব খাতে মূসক ও শুল্কের জটিলতা দূর করতে হবে।‘ ব্যবসায়ীদের হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, ‘নানাবিধ জটিলতার কারণে বাংলাদেশ যেমন সহজে ব্যবসার সূচকে পিছিয়ে যাচ্ছে, তেমনি ব্যবসার খরচও বেড়ে যাচ্ছে এখানে। এ পরিস্থিতিতে অটোমেশনের বিকল্প নেই, শুল্ক বিভাগ থেকে শুরু করে রাজস্ব বিভাগ, সবখানেই এটা করা যায়। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ব্যবসা সহজীকরণে কাজ করছে; ব্যবসায়ীরা এক্ষেত্রে সহায়তা করতে প্রস্তুত।’

মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বিডার মতো যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা সহজীকরণে কাজ করছে, তারা অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতাহীন। আবার বিডার সব সেবা সহজে পাওয়া গেলেও অন্যখানে বিলম্ব হয়। এখানেই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে। এক দরজায় সেবা দেওয়ার পরিধি বৃদ্ধি করা গেলে দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রবাহ বাড়বে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, ‘বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা যাতে বাধাহীনভাবে ও সহজে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারে, সেজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যেন সহজে ব্যবসা করতে পারে সেই প্রক্রিয়া সহজীকরণে কাজ করছে সরকার। যেকোনো ব্যবসা উদ্যোগকে সফল ও প্রতিষ্ঠিত করা আমাদের দায়িত্ব।’ ব্যবসায়ীদের মার্কেট অ্যাক্সেসের সুযোগ তৈরিতেও সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশে শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী। এজন্য এফবিসিসিআইসহ বেসরকারি খাতের সকল অংশীজন, গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা এবং একাডেমিশিয়ানদের সঙ্গে নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বেসরকারি খাতের বলিষ্ঠ অবদানের প্রশংসা করে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উদ্যোক্তারা সাহস করে ঝুঁকি না নিলে বাংলাদেশে এত দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব ছিল না। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবসহ আগামীর চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় বিজনেস প্রোসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর জোর দিয়ে শিল্পের উন্নয়নে খাতভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকায় জার্মান দূতাবাসের উপপ্রধান জায়ান জানোভস্কি। তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, নামে-বেনামে বিভিন্ন মাশুল আদায়- বাংলাদেশে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে জার্মান ব্যবসায়ীদের কাছে এগুলো গুরুতর উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।’ 

জার্মানি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক মেধাবী কর্মশক্তি থাকলেও জার্মান বিনিয়োগকারীদের জন্য এই দেশ এখনও অতটা আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারেনি।’

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে জার্মান সরকার সমন্বিত চীন ও ভারত কৌশল বাস্তবায়ন শুরু করেছে বলে জানান জার্মান মিশনের উপপ্রধান। অনেক কোম্পানি নিজেরা ঠিক করছে, কীভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো যায়। জার্মানিতে এই নীতি চায়না প্লাস ওয়ান হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ জার্মানি উৎপাদনের নতুন কেন্দ্র খুঁজছে; চীন থেকে সরে আসতে চাচ্ছে। বাংলাদেশ সেই প্লাস ওয়ান এমনকি তার চেয়ে বেশি কিছু হতে পারে। কিন্তু এ মুহূর্তে জার্মান বিনিয়োগকারীরা মূলত ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ সেক্ষেত্রে তেমন একটা অগ্রগতি অর্জন করতে না পারলেও গত দুই বছরে জার্মান বিনিয়োগ ও ব্যবসা ২০ শতাংশ বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন জার্মান মিশনের উপপ্রধান। ভবিষ্যতে জার্মানির আরও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসবেন। অনুষ্ঠানে দেশের ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা