× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আমবাগান বেচতে পারছেন না চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা

মেহেদী হাসান শিয়াম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

প্রকাশ : ১১ মে ২০২৪ ১২:৩৯ পিএম

আপডেট : ১১ মে ২০২৪ ১৫:৫০ পিএম

আমবাগানে পরিচর্যায় ব্যস্ত শ্রমিকরা। শিবগঞ্জের শেখটলা থেকে সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

আমবাগানে পরিচর্যায় ব্যস্ত শ্রমিকরা। শিবগঞ্জের শেখটলা থেকে সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগান বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন মালিকরা। নানা কারণে ব্যবসায়ীরা দাম কম বলছেন। এ কারণে এবার হয়তো বাগানমালিকদের নিজ দায়িত্বে গাছ থেকে নামিয়ে বাজারে বিক্রি করতে হবে।

আম ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। আবার বাগানমালিকেরা যে দাম চাইছেন সেই দামে আম কিনে লাভে বেচা যাবে তেমন সম্ভাবনা এবার কম।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সবচেয়ে বেশি আমবাগান রয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলায়। সাধারণত ব্যবসায়ীদের আগ্রহ এই উপজেলা ঘিরেই। এখানকার আমবাগানি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার আমের ফলন খুবই কম, যা আমাদের খুব ভাবাচ্ছে। আমবাগান বিক্রি করতে গিয়ে খুব বেগ পেতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বাগান দেখতে আসছে, কিন্তু গাছে আম না থাকায় তারা কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তারা যে দাম বলছে তা অপ্রত্যাশিত।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, গত বারের তুলনায় এবার ১৬ হেক্টর বেড়ে ৩৭ হাজার ৬০৪ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এবার আমের মুকুল এসেছে ৭৩ শতাংশ গাছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ কম। চলতি বছর আমের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন কম।

বাগানমালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুকুল থেকে গুটি বের হলেই শুরু হয় আমবাগান বেচাকেনার কার্যক্রম। কিন্তু এবার প্রলম্বিত শীত আর বিচিত্র আবহাওয়ার কারণে মুকুল এসেছে কম। ফাগুনের বৃষ্টিতে আমের মুকুল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কানসাটের আমবাগানি মোহাম্মদ বাবু বলেন, ‘আমার ৪টা জায়গায় বাগান আছে। সেসব বাগানে এবার আমের ফলন খুবই কম। তাও বাড়তি দামে কীটনাশক-রাসায়নিক ব্যবহার করে গাছের পরিচর্যা করেছি। এখন আমবাগান বিক্রি করতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তারা বাগান দেখে বলছে, আম নাই। এজন্য তারা নায্য দাম বলছে না। কম দামে বাগান বিক্রি করতে গেলে আমার সব পুঁজি হারিয়ে যাবে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমগাছগুলোয় মুকুল কম এসেছিল। তবুও কম মুকুল নিয়ে কিছুটা আশার আলো দেখেছিলেন এখানকার চাষিরা। কিন্তু ফাগুনের বৃষ্টিতে আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে আমের কাঙ্ক্ষিত গুটি আসেনি। সে কারণে এবার আমের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্যই ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

আমচাষিরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে এখানকার আমচাষিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবারও যদি এমন হাল হয় চাষিদের তাহলে জেলার অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। সংকট নিরসনে চাষিদের প্রণোদনা দেওয়া দরকার বলে মনে করেন ইসমাইল খান শামীম। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, আমবাগান বিক্রি করতে কোনো বাগানি পরামর্শ চাইলে পরামর্শ দেওয়া হবে। এ ছাড়া আমাদের কিছুই করার নাই।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা