প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৪ ২৩:০৪ পিএম
রাজধানীর গুলশানে এমসিসিআই কার্যালয়ে পিএমআই সূচক প্রকাশ অনুষ্ঠান। প্রবা ফটো
দেশের অর্থনীতির গতি কমেছে। এপ্রিল মাসে পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) সূচক ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। মার্চ মাসে এই সূচক ছিল ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ। পিএমআই হলো অর্থনৈতিক সূচক, যা একটি দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য বুঝতে সাহায্য করে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে প্রথমবারের মতো পিএমআই সূচক প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ মে) রাজধানীর গুলশানে এমসিসিআই কার্যালয়ে পিএমআই সূচক প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তাদের আলোচনায় এ সকল তথ্য উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার ম্যাট ক্যানেল। স্বাগত বক্তব্য দেন এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রহমান খান, এমসিসিআই সাবেক সভাপতি নাহিদ কবির, ব্যাংকার আনিস এ খান, দোহাটেক নিউ মিডিয়া চেয়ারম্যান একেএম শামসুদ্দোহাসহ অন্যরা।
এমসিসিআই, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের (পিইবি) সঙ্গে অংশীদারত্বে, যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন কমনওয়েলথ এবং ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) সহায়তায় প্রথম ক্রয় ব্যবস্থাপক সূচক (পিএমআই) প্রকাশ করেছে।
অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসেকা আয়েশা খান বলেন, বাংলাদেশের দক্ষ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট দরকার ছিল এবং এর জন্য দরকার সঠিক ডেটা। পিএমআই রিপোর্ট অর্থনীতিতে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করবে, যা সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
স্বাগত বক্তব্যে এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, পিএমআই সূচক প্রকাশের ফলে দেশে তথ্য–উপাত্তভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার যুগ শুরু হবে। শুরুতে প্রান্তিক হিসাব, পরে প্রতি মাসের নির্ধারিত তারিখে এ সূচক নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হবে। সেবা, নির্মাণ, কৃষি ও উৎপাদন এই চার খাতের কর্মকাণ্ড নিয়ে এ সূচক প্রকাশ করা হবে। সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্ট এবং যুক্তরাজ্যের ইউকে ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এই সূচক প্রণয়নে সহায়তা করেছে। সেবা ও নির্মাণ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের গতি কমে যাওয়ায় এপ্রিল মাসে অর্থনীতির গতি মন্থর হয়েছে। তবে কৃষি ও উৎপাদন খাতের দ্রুততর প্রবৃদ্ধির কারণে সেই ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নেওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, মার্চ মাসে সেবা খাতের পিএমআই ছিল ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ, এপ্রিল মাসে তা কমে ৫৬ দশমিক ২ হয়েছে। মার্চ মাসে নির্মাণ খাতের পিএমআই ছিল ৬৭ দশমিক ৭ শতাংশ, এপ্রিলে যা ৬৩ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসে। তার মানে এই দুই খাতের উৎপাদন কর্মকাণ্ড মার্চের চেয়ে এপ্রিলে খারাপ ছিল। তবে কৃষি ও উৎপাদন খাতের সূচক বেড়েছে। মার্চে কৃষি খাতের পিএমআই ছিল ৫৫ দশমিক ৭ শতাংশ, এপ্রিলে তা বেড়ে হয়েছে ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ। মার্চে উৎপাদন খাতের সূচকের মান ছিল ৬৮ দশমিক ৪ শতাংশ, এপ্রিলে তা বেড়ে হয়েছে ৭৪ দশমিক ৫ শতাংশ, অর্থাৎ এ দুই খাতে মার্চের চেয়ে এপ্রিলে উৎপাদন বেশি ছিল।
এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, পিএমআই অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। এই সূচকের ভিত্তিতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নীতি-সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ও মূল্যস্ফীতির মতো সূচকের সঙ্গে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ধীরে ধীরে এই সূচক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠবে। এর মধ্য দিয়ে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার যুগ শুরু হবে।
অনুষ্ঠানে পিএমআইয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্টের (এসআইপিএমএম) নির্বাহী পরিচালক স্টিভেন পোহ ও পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক পিএমআই রিডিংগুলো অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং চলমান ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে উদ্ভূত অনিশ্চয়তার মুখে বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতার ইঙ্গিত দেয়। এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের পিএমআই ৬২ দশমিক ২ শতাংশ। কৃষি ও উৎপাদন খাতে মার্চ মাসে সামান্য হ্রাসের পর এপ্রিলে প্রবৃদ্ধির পথে ফিরে আসে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেপুটি ব্রিটিশ হাইকমিশনার এবং ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর ম্যাট ক্যানেল বলেন, দেশের অর্থনীতির জন্য পিএমআই রিপোর্ট প্রকাশ করা অপরিহার্য ছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পিএমআই নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতাদের তথ্য ও সময়োপযোগী বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কৃষি, নির্মাণ, উৎপাদন ও পরিষেবা এই ৪ খাতের ৫০০টির বেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের মতামতের ভিত্তিতে পিএমআই প্রকাশ করা হবে। শুরুতে প্রতি প্রান্তিকে এই সূচক প্রকাশ করা হবে, পরে তা প্রতি মাসে প্রকাশিত হবে। সূচক তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পণ্যের ক্রয়াদেশ, মজুত, উৎপাদন, সরবরাহ পরিস্থিতি ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে তথ্য নেওয়া হবে। পিএমআই শূন্য থেকে ১০০ নম্বরের মধ্যে পরিমাপ করা হবে। আগের মাসের তুলনায় স্কোর ৫০-এর বেশি হলে অর্থনীতির সম্প্রসারণ আর তার নিচে হলে সংকোচন বোঝাবে। স্কোর ৫০ হলে ধরে নিতে হবে ওই প্রান্তিকে অর্থনীতির সংকোচন বা প্রসারণ হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্য ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) সহায়তায় পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের (পিইবি) সঙ্গে অংশীদারত্বে বাংলাদেশের জন্য পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) প্রোগ্রাম চালু করে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)।