× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নওগাঁয় সেচ সংকট অনাবাদি ১০০ বিঘা জমি

এম আর ইসলাম রতন, নওগাঁ

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৪ ০৯:৫৪ এএম

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৪ ১৬:২৭ পিএম

নওগাঁ পৌরসভার হাজীপাড়া মহল্লাসংলগ্ন মাঠে এই গভীর নলকূপটি দীর্ঘদিন বন্ধ। প্রবা ফটো

নওগাঁ পৌরসভার হাজীপাড়া মহল্লাসংলগ্ন মাঠে এই গভীর নলকূপটি দীর্ঘদিন বন্ধ। প্রবা ফটো

নওগাঁ সদর উপজেলায় কৃষিকাজে ব্যবহৃত একটি গভীর নলকূপ বন্ধ আছে। ফলে সেচ সংকটে নলকূপটির আশপাশের প্রায় ১০০ বিঘা জমি অনাবাদি পড়ে আছে। এ পরিস্থিতিতে কোনো কোনো কৃষক জমিতে তিলের চাষ করেছিলেন। কিন্তু তিলের গাছও মরতে বসেছে অনাবৃষ্টির কারণে। 

সব মিলিয়ে প্রচণ্ড দুরবস্থায় পড়েছেন নওগাঁ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া, মাদ্রাসাপাড়া, সরদারপাড়া, শেখপুরা ও মণ্ডলপাড়া এলাকার কৃষকরা। তারা জানিয়েছেন, পৌরসভার হাজীপাড়া মহল্লাসংলগ্ন মাঠে একটি গভীর নলকূপ রয়েছে। মকবুল হোসেন ওরফে গ্যাদো নামে এক ব্যক্তি সেটি পরিচালনা করে থাকেন।

এ নলকূপের অধীনে প্রায় ১৫০ বিঘা ফসলি জমিতে চাষাবাদ হয়। চলতি বোরো মৌসুমের শুরুতে মকবুল হোসেন কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান আবাদের ক্ষেত্রে সেচের জন্যে বিঘাপ্রতি দুই হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু সেচের এই হার আশপাশের অন্যান্য নলকূপের তুলনায় বেশি হওয়ায় কৃষকরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। গভীর নলকূপের পরিচালক মকবুল এরপর থেকে সেচযন্ত্রটি বন্ধ রেখেছেন। এ নিয়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কৃষকরা প্রতিকার পাননি। 

গত ১৯ মার্চ ৬০ কৃষক স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ পৌরসভার হাজীপাড়া, সরদারপাড়া ও মাদ্রাসাপাড়া মহল্লার মধ্যবর্তী মাঠে প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি আছে। এসব জমিতে প্রতি মৌসুমে কয়েক হাজার মণ ধান হয়। বোরো মৌসুমে ওই এলাকার কৃষকদের কথা মাথায় রেখে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ফসলের মাঠে দুটি গভীর নলকূপ স্থাপন করে দেয়। ওই দুটি সেচযন্ত্রের মধ্যে মকবুল হোসেন পরিচালিত গভীর নলকূপটির অধীনে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে চাষাবাদ হয়ে থাকে। গত তিন বছর ধরে মকবুল হোসেনের ছেলে সবুজ কৃষকদের জিম্মি করে সেচ বাবদ বেশি টাকা আদায় করছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, আশপাশের বোয়ালিয়া ও শেখপুরা এলাকায় গভীর নলকূপ থেকে প্রতি বিঘা জমিতে সেচ খরচ বাবদ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা করে আদায় করা হয়। কিন্তু ডিপ টিউবওয়েলের মালিক মকবুলের ছেলে সবুজ সেচ খরচ দাবি করছেন দুই হাজার টাকা। অধিকাংশ কৃষক এই পরিমাণ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় মকবুল হোসেনের ছেলে সবুজ সেচযন্ত্র দিয়ে পানি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে ধানের বীজতলায় সেচ দিতে না পারায় কৃষকদের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। অনাবাদি অবস্থায় পড়ে আছে প্রায় ১০০ বিঘা জমি। এই সংকট উত্তরণে জেলা ও উপজেলা সেচ কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কৃষকরা।

গতকাল সোমবার পৌরসভার হাজীপাড়াসংলগ্ন ওই ফসলি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ওই মাঠে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে আছে। কিছু জমিতে তিলের চাষ করা হয়েছে। কিন্তু পানির অভাবে অনাবাদি জমি ও তিলের ক্ষেতের জমি শুকিয়ে আছে। তিলবীজ থেকে চারাও গজায়নি। কিছু কিছু জমিতে চারা গজালেও সেগুলোর পাতা শুকিয়ে লালচে হয়ে মরতে বসেছে।

ওই মাঠে তিন বিঘা জমি আছে হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল আমিন বাশারের। তিনি বলেন, এই জমিতে ইরি-বোরো ও আমন মৌসুমে যে পরিমাণ ধান হয়, তা দিয়ে তাদের সংসার চলে। জমিতে এবার ধান লাগানোর জন্য ৭-৮ হাজার টাকা খরচ করে বীজতলা চারা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু নলকূপ থেকে পানি তোলা বন্ধ রাখায় এবং অন্য কোনো উপায়ে জমিতে সেচের ব্যবস্থা না থাকায় সেই চারা জমিতে তিনি লাগাতে পারেননি। পরে তিনি সেখানে তিলের বীজ বপন করেন। কিন্তু পানির অভাবে সেই তিলগাছও মরতে বসেছে।

হাজীপাড়া মহল্লার আরেক কৃষক আলাউদ্দিন। বর্গা জমিতে চাষাবাদ করেন তিনি। এবার ধান চাষের জন্য দেড় বিঘা জমি প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু পানির অভাবে সেই জমিতে এবার তিনি ধান আবাদ করতে পারেননি। আলাউদ্দিন বলেন, আশপাশের কোনো ডিপ টিউবওয়েলেই দুই হাজার টাকা করে সেচ খরচ নেওয়া হচ্ছে না।

অথচ সবুজ কৃষকদের কাছ থেকে বিঘাপ্রতি দুই হাজার টাকা সেচ খরচ দাবি করছেন। কৃষকেরা প্রথমে ১৪০০ টাকা করে দিতে চান। তাতেও সবুজ রাজি হননি। পরে তাকে ১৬০০ টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও সম্মত হননি সবুজ। ফলে কয়েক গ্রামের শতাধিক কৃষক পরিবার বিপাকে পড়েছে।

সরদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাব্বানী হোসেন বলেন, ‘কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য সরকার বরেন্দ্র এলাকার মাঠে মাঠে গভীর নলকূপ বসিয়েছে। অথচ ডিপ টিউবওয়েলের পরিচালক মকবুল ও তার ছেলে কৃষকদের জিম্মি করে গত কয়েক বছর ধরে অতিরিক্ত সেচ খরচ আদায় করছেন। এবার এ নিয়ে প্রতিবাদ এবং প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করায় তারা সেচ দেওয়া বন্ধ রেখেছেন।’

কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সেচযন্ত্রের মালিক মকবুল হোসেন ওরফে গ্যাদো বলেন, ‘প্রতি মৌসুমে একটা ডিপ টিউবওয়েল চালালে তিন থেকে চার লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে। এ ছাড়া ট্রান্সফরমার বা সেচযন্ত্রের অন্য কোনো অংশ নষ্ট হয়ে গেলেও বাড়তি খরচ হয়। মেশিন চালানোর খরচ তুলতে না পারলে লোকসান গুনতে হবে। তাই পানি তোলা বন্ধ রেখেছি।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি এস এম রবিন শীষ বলেন, ‘বেশ কিছু দিন আগে এ ধরনের একটি অভিযোগ পেয়েছিলাম। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সম্ভবত এ বিষয়ে তদন্ত করতে বলেছিলাম। কৃষকদের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে সেচযন্ত্রটি চালু করার জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা