× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দরপতনের বৃত্তে পুঁজিবাজার

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৪ ১৫:৪২ পিএম

দরপতনের বৃত্তে পুঁজিবাজার

আবারও আস্থার সংকটে পড়েছেন পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা। ঈদুল ফিতরের ছুটির পর থেকে পুঁজিবাজারের দরপতন চলছে। কোন কোন সূচক কিছুটা বাড়লে পরদিন আবার কমছে। এ অবস্থায় দরপতনের তীব্রতা কমাতে শেয়ারদর কমার নতুন সীমা বেঁধে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এক্ষেত্রে যেসব শেয়ারের ওপর ফ্লোর প্রাইস রয়েছে সেগুলো বাদে বাকি সব শেয়ারের দর সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারবে।

ফলে গত বৃহস্পতিবার তালিকাভুক্ত কোনো শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমার সুযোগ ছিল না। তবে এ নিয়ম কার্যকর করার পর লেনদেনের প্রথম ঘণ্টাতেই ডিএসইর প্রধান সূচকটি ১০০ পয়েন্ট কমে যায়। এ সময় লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ সীমা ৩ শতাংশ পর্যন্তই কমে যায়। ফলে দিনের শুরুতে সূচকের বড় পতন হয়। দিনশেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৬০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫১৮ পয়েন্টে অবস্থান করে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে ১ হাজার ২১৭ ও ১ হাজার ৯৭৪ পয়েন্টে অবস্থান করে।

গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই পুঁজিবাজারে দরপতন হয়েছে। সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। এতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার ওপরে কমেছে। বড় অঙ্কের বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি সূচকেরও বড় পতন হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। দাম কমেছে ৮৫ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের। আর দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে সাড়ে ১৫ শতাংশের বেশি।

তবে পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সার্কিট ব্রেকারের সিদ্ধান্তের ফলে পুঁজিবাজারের উপকার হবে না। বরং বাজারে স্বাভাবিক চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটবে।

এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবু আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাজারকে বাজারের মতো চলতে দেওয়া উচিত। বাজারের গতিপ্রকৃতির উপর কোনভাবে বাইরে থেকে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। এই যে ফ্লোর প্রাইজ দিয়েছে সেটারও আমি বিরোধীতা করেছিলাম। দেড়বছর পর ফ্লোর প্রাইস ঠিকই তুললো কিন্তু এর মধ্যে অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাজার তো পরতেই পারে। সুদের হার বেড়েছে। রিজার্ভ কমতির দিকে। এক্সচেঞ্জ রেট আমাদের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। মূল্যস্ফিতি সাড়ে ৯ এর উপর। এখন সবকিছু মিলিয়ে বাজার পড়ছিল। বাজার হয়ত দুই এক দিনের মধ্যে কারেকশন হয়ে যেত, আর হয়তো পড়তো না। কিন্তু তিন শতাংশের বেশি কমতে দিব না। এই মানসিকতা থেকে বের হতে হবে। ব্যারিয়ার দিয়ে কোনদিন বাজারকে আটকে রাখা যায় না। আমি আশা করি তারা (বিএসইসি) হয়ত সহসা এটা তুলে নেবে।’ 

বাজার মূলধন কমেছে

গত সপ্তাহের লেনদেন শুরু হওয়ার আগে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ৬ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। ধারাবাহিকভাবে কমে সপ্তাহ শেষে সেই বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। অর্থাৎ পতনের মধ্যে পড়ে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৬ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া মাত্র ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। কমেছে ৩২৭টির আর ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া ৮৫ দশমিক ১৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে।

এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১৬৮ দশমিক ২১ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ১৭৭ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। অর্থাৎ ঈদের পর লেনদেন হওয়া দুই সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমেছে ৩৪৫ দশমিক ৬১ পয়েন্ট।

অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহে কমেছে ১০ দশমিক শূন্য ৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৫১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৪৭ দশমিক ৮১ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

আর ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক গত সপ্তাহে কমেছে ২৯ দশমিক ২৯ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচটি কমে ৩৫ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

সবকটি মূল্যসূচক কমলেও লেনদেনের গতি কিছুটা বেড়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৫৫২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৪৭৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৭৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বা ১৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

বাজারে সার্বিক অবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে মিডওয়ে সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আশেকুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গত পাঁচ কার্যদিবস থেকে আমরা দেখেছি মার্কেটে বটম আউট হওয়া শুরু হচ্ছে। অনেক শেয়ার একটা প্রাইস রেঞ্জের মধ্যে লেনদেন হচ্ছিল। আজকে বাড়লে কালকে পড়বে। পরশু আবার বেড়ে যাবে। ধরেন একটা শেয়ার গড় দাম ৩৫ টাকা। এটা হয়তো সর্বোচ্চ ৩৬ উঠতো অথবা কমলে ৩৪ টাকায় নামতো। এই রেঞ্জে লেনদেন হচ্ছিল। সবচেয়ে বড় বিষয় হল লেনদেন বাড়ছিল। গত দুই সপ্তাহ আগে গড় লেনদেন ছিল ৪০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। এর পরের সপ্তাহে ৫০০ কোটির উপরে ৬০০ কোটির কাছাকাছি লেনদেন চলে আসছে। ফলে আমরা বাজার নিয়ে আশাবাদি ছিলাম।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘হাই ইস্টারেস্ট রেটে (উচ্চ সুদ) পুঁজিবাজার কখনো ইতিবাচক থাকে না। এটাই নেচার অব স্টক মার্কেট বা পুঁজিবাজরে গতি প্রকৃতি। ইন্টারেস্ট রেট হাই হলে পুঁজিবাজার লো থাকবে। ইন্টারেস্ট রেট লো থাকলে স্টক মার্কেট হাই হবে। রেগুলেটর হয়ত মার্কেট নিয়ে এতো কনফিডেন্ট ছিল না। এজন্য হয়ত সার্কিট ব্রেকার দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমার পয়েন্ট অব ভিউ হল-এই তিন শতাংশে সার্কিট ব্রেকারটা এই সময়ে অপ্রয়োজনীয়। ভলিউমে কিন্তু মার্কেট রিকভারি করছিল।’ 

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ার। দৈনিক গড়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ২৭ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার দৈনিক গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা। ২৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাভেলো আইসক্রিম।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- গোল্ডেন সন, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, বেস্ট হোল্ডিং, মালেক স্পিনিং, স্যালভো কেমিক্যালস, কহিনুর কেমিক্যালস এবং বিচ হ্যাচারি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা