আনিছুর রহমান
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২২ ১৮:০৮ পিএম
আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২২ ১৮:৩৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
শেয়ার কারসাজির দায়ে বানকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হামদুল ইসলামকে পুঁজিবাজারের সব কর্মকাণ্ড থেকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি। একই সঙ্গে তাকে ১০ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। কারসাজিতে জড়িত থাকায় তাঁর স্ত্রী, শ্বশুর, ভাই এবং বোনকেও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছে বিএসইসি। অর্থদণ্ডে দণ্ডিতরা হামদুল ইসলামকে কারসাজিতে সহায়তা করেছেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। তথ্য মতে, হামদুল ইসলামকে কারসাজিতে সহায়তাকারী স্বজনদের মধ্যে রয়েছেন—স্ত্রী শাহিদা আরাবি, ভাই সাইফুল ইসলাম হেলালি, বোন হোসনে আরা বেগম, শ্বশুর মো. আব্দুস সুলতান ও বোন জামাই কাজী এমদাদুল হক। এর মধ্যে হামদুল ইসলামকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলস, ২০১৫ এর রুল ৩(২) (ডি) ভঙ্গের দায়ে ১০ কোটি টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া পুঁজিবাজারের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে আগামী পাঁচ বছর নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিষিদ্ধ হওয়া হামদুল ইসলাম বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন-বিএমবিএর নির্বাহী কমিটির সদস্য। দেশের পুঁজিবাজারে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেন হামদুল ইসলাম। এর আগে কাজী সাইফুর নামের বিতর্কিত আরেক ব্যক্তিকেও পাঁচ বছরের জন্য দেশের পুঁজিবাজারে নিষিদ্ধ করেছিল বিএসইসি।
এ ছাড়া হামদুল ইসলামের ভাই মো. সাইফুল ইসলাম হেলালিকে ৪ কোটি টাকা, বোন জামাই কাজী এমদাদুল হককে ৪ কোটি টাকা, বোন হোসনে আরা বেগমকে ৩ কোটি টাকা, শ্বশুর আব্দুস সুলতানকে ৩ কোটি টাকা ও স্ত্রী শাহিদা আরাবিকে ২ কোটি টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই পাঁচ জনের জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের নামে পরিচালিত সব বিও হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন ও লিংক হিসাবে শেয়ার স্থানান্তর বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির তদন্তে দেখা যায়, পুঁজিবাজারে ইস্যু ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি হামদুল ইসলাম অবৈধভাবে প্লেসমেন্ট ব্যবসা করতেন। এই প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়ে তিনি কারসাজি করতেন। এ ছাড়া কোম্পানি রাইট শেয়ার ইস্যুতে কারসাজির প্রমাণ মিলেছে। গত ৮ বছরে শেয়ারবাজারে যেসব কোম্পানি রাইট শেয়ার ইস্যু করেছে সেগুলোতেও তার আধিপত্য ছিল বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। উক্ত সময়ে যতগুলো কোম্পানির রাইট শেয়ার ইস্যু হয়েছে তার প্রত্যেকটিতেই জড়িত ছিলেন হামদুল। কোনোটিতে ইস্যু ম্যানেজার আবার কোনোটিতে আন্ডার-রাইটার হিসেবে ছিল তার প্রতিষ্ঠান। এই কাজ করে অবৈধভাবে প্রচুর অর্থ উপার্জন করার প্রমাণ মিলেছে তদন্তে। এসব কারসাজিতে হামদুল ইসলাম তার স্বজনদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি করতেন। তার ইস্যু ব্যবস্থাপনার আওতায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড, বিবিএস কেবলস, নাহি অ্যালুমুনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল লিমিটেড এবং তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম পিএলসি।
প্রসঙ্গত, বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে লেনদেন বন্ধ থাকা ব্রোকার হাউজ বানকো সিকিউরিটিজ ও বানকো ফাইন্যান্স একই মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান।
২০২১ সালে ১৫ জুন অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় বানকো সিকিউরিটিজের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় ডিএসই। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। এ ছাড়া ডিএসইর অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিচালকদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রাথমিক তদন্তে বিনিয়োগকারীদের সম্মিলিত গ্রাহক অ্যাকাউন্ট থেকে ৬০ কোটি টাকার অর্থ ও শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে বানকো সিকিউরিটিজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় বানকো সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান আব্দুল মুহিতকে কারাগারে পাঠান আদালত।