× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভৈরবে কেমিক্যাল সংকটে বন্ধ জুতা উৎপাদন

মিলাদ হোসেন অপু ,ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)

প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৪ ১৭:৪৩ পিএম

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৪ ১৮:৫৬ পিএম

 ভৈরব শহরের একটি কারখানায় নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা জুতা উৎপাদনের কাজ করছেন। প্রবা ফটো

ভৈরব শহরের একটি কারখানায় নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা জুতা উৎপাদনের কাজ করছেন। প্রবা ফটো

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কেমিক্যাল সংকটে বেশ কয়েকটি জুতা উৎপাদন কারখানার কাজ বন্ধ রয়েছে। রমজান উপলক্ষে যেখানে দিন-রাত জুতা উৎপাদন করতেন শ্রমিকরা, সেখানে অলস সময় কাটাচ্ছেন ভৈরবের বিভিন্ন কারখানার কর্মচারীরা। এদিকে যাদের মজুদকৃত কিছু কেমিক্যাল ও কাঁচামাল ছিল, রমজান উপলক্ষে তারাই কিছুটা জুতা উৎপাদন করতে পারছে। এ ছাড়া দেশের বৈশ্বিক মন্দার প্রভাবে বেচাকেনা আগের মতো নেই বলে দাবি জুতা ব্যবসায়ীদের। কেমিক্যালসহ জুতা তৈরির বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিতে গতবারের তুলনায় জুতা তৈরি ও আমদানি-রপ্তানি কমে অর্ধেকে নেমেছে। 

ভৈরবে ৪২টির মতো পিউ ফুটওয়্যার কারখানাসহ ছোট-বড় তিন-চার হাজার কারখানা রয়েছে। ভৈরব শহরজুড়ে বিভিন্ন কারখানায় নারী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার ও পুরুষ শ্রমিক রয়েছেন ১ লাখের মতো। জুতাশিল্পকে ঘিরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তিন-চার লাখ শ্রমিক জড়িয়ে আছে। 

গতকাল রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, হাতে তৈরি জুতা শ্রমিকরা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে জিনিসপত্রের দাম বেশি থাকায় যেখানে দিনে ২০ থেকে ২৪ জোড়া জুতা তৈরি হতো, সেখানে ১০-১২ জোড়া জুতা তৈরি হচ্ছে। তবে কেমিক্যাল সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে আরাম ফুটওয়্যারসহ ছোট-বড় ১০-১২টি কারখানা। কারখানাগুলোতে শুধু হাতে তৈরি জুতা উৎপাদন চলছে। যাদের মজুদকৃত কেমিক্যাল ও কাঁচামাল আছে তারাই মেশিনগুলো চালাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এ সিজনে ব্যবসা তো হবে না, বরং লোকসান গুনতে হবে জুতা উৎপাদন কারখানার মালিকদের। 

এ বিষয়ে শ্রমিকরা জানান, কেমিক্যাল সংকটে আমরা বেকার বসে আছি। রমজানের সিজনে বেশি জুতা উৎপাদন করে আমরা মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কিছু টাকা নিতে পারতাম। কিন্তু এবার আমরা হতাশায় রয়েছি। মালিকরাই কীভাবে লাভবান হবে বা আমরাই কীভাবে বেতন নেব! এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসায় ধস নামবে। 

এ বিষয়ে আরাম পিউ ফুটওয়্যারের মালিক আব্দুল আলিম বলেন, ‘কেমিক্যাল সংকটে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জুতা উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা বলছেন দুয়েক দিনের মধ্যে কেমিক্যাল পেয়ে যাব। কিন্তু কখন পাব নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না। এদিকে অলস সময় কাটাচ্ছে আমার শ্রমিকরা এবং বন্ধ রয়েছে কারখানার মেশিনগুলো। যেখানে রমজানের ১০ দিনের ভেতরে আমরা ব্যবসায়ীদের চাহিদা মিটিয়ে জুতা মজুদ রাখতে পেরেছি, সেখানে রোজার ছয় দিন চলে গেলেও আমাদের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এমনিতেই জিনিসপত্রের যে দাম আবার এদিকে কেমিক্যাল সংকট। এই ঈদে ব্যবসায় অনেক লোকসান হবে।’ 

ঈগল ফুটওয়্যারের মালিক সাফিক মিয়া বলেন, ‘কোনো এক অজানা কারণে কেমিক্যাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। করোনার পর ভেবেছিলাম এবার মনে হয় ভালো ব্যবসা করতে পারব। কিন্তু চায়না থেকে আমদানিকৃত পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে প্রতিটি মালের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের কাঁচামাল কিনে শ্রমিকের বেতন দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানে পাদুকা শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের মধ্যে অনীহা এসে গেছে। বেশিরভাগ শ্রমিক বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। আগের তুলনায় চাহিদা ও ব্যবসায় অর্ধেক লাভ কমেছে।’ 

ব্যবসায় লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ী নূরুল হক, নবী হোসেন, মঞ্জুরুল করিম জানান, আগের তুলনায় ক্রেতাদের অনেক চাহিদা কমেছে। প্রতিবছর ভৈরবে যে পরিমাণ জুতার চাহিদা ছিল, সেটি মেটাতে আমাদের হিমশিম খেতে হতো। এবার জুতা উৎপাদনের মাল-ম্যাটারিয়েলসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাহিদা কমেছে। আগে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা যে পরিমাণ জুতা নিত, এ বছর তা অর্ধেক হয়েছে। 

এ বিষয়ে ক্রেতা এমএ মামুন, জাকির হোসেন, রফিক মিয়া জানান, আগের তুলনায় জুতার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষ আগে খাদ্যপণ্য ক্রয়ের কথা চিন্তা করে, পরে অন্য সকল চাহিদা পূরণের কথা ভাবে। গত বছরের তুলনায় এবার জুতার প্রতি জোড়াতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে ১ লাখ টাকা এনে যে জুতা নিতে পারতাম এবার অর্ধেক জুতা নিতে পারছি। 

ভৈরবের জুতা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আল আমিন মিয়া বলেন, ‘বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর ব্যবসা অনেকটা কমেছে। করোনার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে দেশের সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। পাদুকা শিল্পেরও সকল কেমিক্যালসহ কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। রমজানের শুরুতে কেমিক্যাল সংকটে পাদুকাও ঠিকমতো উৎপাদন হচ্ছে না। সরকারের পাদুকা শিল্পে আরও আন্তরিকতা প্রয়োজন। ভৈরবে একটি কমন ফেসিলিটি সেন্টার প্রয়োজন। তাহলে শ্রমিকরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অত্যাধুনিক পাদুকা তৈরি করতে পারবেন ও তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’ 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা