× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর

নির্ধারিত দামে বিক্রি হয় না এলপিজি সিলিন্ডার

রাকিবুল ইসলাম, (রায়পুর) লক্ষ্মীপুর

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৪ ১০:৩১ এএম

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৪ ১০:৩৮ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

মার্চ মাসের প্রথমে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ভোক্তাপর্যায়ে এবার ৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৮২ টাকা নির্ধারণ করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। খুচরা পর্যায়ে এই দামে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও তা মানছেন না অসাধু ব্যবসায়ীরা। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অন্তত ১০০-১৬০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে প্রতি সিলিন্ডার। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

মার্চ মাসের জন্য প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৮২ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে দাম ছিল ১ হাজার ৪৭৪। জানুয়ারিতে দাম ছিল ১ হাজার ৪৩৩ টাকা। গত রবিবার থেকে নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর হয় বলে জানায় কমিশন। কিন্তু সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলেন্ডার।

খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারিতেই তাদের সরকারি দরের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হয়। এ কারণে খুচরায় বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ছাড়া এর সঙ্গে ভাড়া যোগ করলেও খরচ বেড়ে যায়। 

রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, পৌর শহর থেকে শুরু করে গ্রামপর্যায়ে প্রায় সব দোকানেই বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার। তবে বেশিরভাগ খুচরা ব্যবসায়ীরাও জানে না সরকারি নির্ধারিত দাম কত।

দোকানিরা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে তারা যে দামে কেনেন, তার থেকে ৩০-৫০ টাকা বেশি দামে ক্রেতার কাছে বিক্রি করেন। তবে খুচরা পর্যায়ে কোনো ব্যবসায়ী তাদের সিলিন্ডার ক্রয়ের রসিদ দেখাতে পারেননি। শহর থেকে গ্রামপর্যায়ে এসব সিলিন্ডারের দাম আরও বেশি। 

ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলায় প্রতি মাসে ২৫ হাজারের বেশি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হয়। সেই হিসাবে গড়ে প্রতি সিলিন্ডারে ১০০ টাকা দাম বেশি নিলে গ্রাহকের পকেট থেকে প্রতি মাসে বাড়তি যায় ২৫ লাখ টাকা। মূলত এই ২৫ লাখ টাকা বাড়তি লাভ করে এলপি গ্যাসের ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন খুচরা বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা কিনি বেশি দামে। সরকারের নির্ধারিত দামে তো আমাদের কাছে বিক্রি করে না, যেই দামে কিনি এর থেকে কিছু লাভ করেই তো বিক্রি করব। সিন্ডিকেট করে দাম বেশি রাখে কোম্পানিগুলো। সরকার কী দাম ঠিক করে দিল না দিল, তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।’

রায়পুর নতুন বাজারের এক চা দোকানি বলেন, ‘আমার দোকানে প্রতি মাসে ১২ কেজি ওজনের তিনটি গ্যাস সিলিন্ডার লাগে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতিটি গ্যাস সিলিন্ডারে ৮০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখেন।’

রায়পুর পৌর শহরের বাসিন্দা সিয়াম পণ্ডিত বলেন, ‘কোনো জিনিসই সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি হয় না। তার মধ্যে সিলিন্ডার গ্যাস একটি। সরাসরি ডিলারের কাছ থেকে কিনলেও দাম বেশি রাখে। বেশি দামের কথা বললে তারা নানা যুক্তি দেখায়। সরকার প্রতি মাসে দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছে। এরপর তা বাস্তবায়ন হলো কি হলো না, তা দেখার দায়িত্ব নেই কারও।’

তাছলিমা আক্তার নামে একজন বলেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডার কেনার পর ব্যবসায়ীদের কাছে ক্যাশ মেমো চাইলে তারা দেয় না। উল্টো নানান কথা বলে। প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে নজরদারি করা।’

বাড়তি দাম নেওয়ার বিষয়ে রায়পুর উপজেলার বেক্সিমকোর ডিলার ফাহিম বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার আনতে কোম্পানিতে গাড়ি পাঠানো হলে তা কয়েক দিন বসিয়ে রাখে। এতে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে হয় বেশি দামে। তা ছাড়া আমরা খরচ বাদ দিয়ে ১০ টাকার মতো লাভ করি, খুচরা ব্যাবসায়ীরা যদি বেশি রাখে তাহলে তো আমাদের কিছু করার থাকে না। 

সেনা এবং আই গ্যাসের ডিলার জুটন বলেন, আমরা নতুন দামে পাইকারি ১৪৬০ বিক্রি করি, ক্যাশ মেমো দিচ্ছি, কোন ডিলার যদি বেশি দাম রাখে এবং ক্যাশ মেমো না দেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর খুচরা বিক্রেতারা বেশি নিলে আমরা কি করব। আমার দাবি প্রশাসন ডিলারদেরকে নিয়ে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। 

এই বিষয় রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমা বিনতে আমিন বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটর করছি, কোনো ভোক্তা এখন পর্যন্ত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা ভোক্তা আইনে ব্যবস্থা নেব।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা