হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৪ ১০:০৯ এএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৪ ১৪:২২ পিএম
ফাইল ফটো
চিনির গুদামে আগুন লাগার এক দিনের মাথায় ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে চিনির দাম বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার রাতে এস আলম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডের গুদামে আগুন লাগার পর গতকাল মঙ্গলবার খাতুনগঞ্জে মণপ্রতি (এক মণ সমান ৩৭ দশমিক ৩৩ কেজি) চিনির দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। এক দিন আগে যেখানে প্রতি মণ চিনির দাম ছিল ৪ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার ৯৫০ টাকা, সেখানে গতকাল প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ৫০ টাকায়। গুদামে আগুন লাগার কারণে কোনো ঘাটতি দেখা দেওয়ার আগেই এভাবে চিনির দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে কারও কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
খাতুনগঞ্জের আরএম এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শাহেদুল আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাজারে চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে গতকালের তুলনায় আজ (মঙ্গলবার) বাজারে চিনির দাম সামান্য বেড়েছে। কেজিতে ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা বেড়েছে।’
তিনি জানান, এস আলম সুগার রিফাইনারি লিমিটেড থেকে গড়ে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চিনি বাজারে সরবরাহ করা হতো। এখন ওই কারখানা থেকে সরবরাহ কিছুটা কমলে বাজারে একটা প্রভাব তো পড়বেই। কারণ দেশের চিনির চাহিদার বড় একটি অংশ তারা পূরণ করে থাকে।
এদিকে আগুনের ঘটনায় বাজারে চিনির সরবরাহে ঘাটতির কোনো কারণ নেই বলে দাবি করছেন অনেকেই। তাদের মতে, চলতি অর্থবছরের গত আট মাসে চিনি আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করলেই এটা বোঝা যাবে। রমজানেও বাজারে চিনির সরবরাহ সংকট হবে না বলে তারা মনে করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতি মাসে চিনির গড় চাহিদা ১ লাখ ৬০ হাজার টন থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার টন হলেও গত আট মাসে চাহিদার বেশি আমদানি হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বার্ষিক ১৯ লাখ টানের চাহিদার বিপরীতে গত আট মাসে (২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) দেশে চিনি আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৬৩০ মেট্রিক টন। সেই হিসাবে গত আট মাসে গড়ে প্রতি মাসে চিনি আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৩২৮ মেট্রিক টন। তাই এস আলম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডের গুদামে থাকা ১ লাখ টন চিনি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেবে না। কারণ চাহিদার তুলনায় আমদানি করা চিনির জোগান বেশি রয়েছে।
দেশে চিনির যে চাহিদা তার প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। সরকারি হিসাবে দেশে বর্তমানে চিনির বার্ষিক চাহিদা ১৯ লাখ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন। এর প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি করে মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেড, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড ও আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেড। এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের কেউ বাজারে চিনির সরবরাহ কমিয়ে দিলেই বাজারে সংকট তৈরি হয়। তখন চিনির দামও বেড়ে যায়।
এদিকে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল আলম গতকাল চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নে অবস্থিত অগ্নিদগ্ধ কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা চিনির কারখানার এই আগুনকে পুঁজি করতে চান। তবে আমাদের কাছে সরবরাহ করার জন্য চিনির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। দুয়েক দিন পর থেকে ডেলিভারি শুরু হয়ে যাবে।