× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খেলাপি ঋণ বেড়ে বেসামাল কৃষি ব্যাংক

রেদওয়ানুল হক

প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৪ ০০:২৭ এএম

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৪ ১১:২২ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ দিন দিন মারাত্মক হারে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও কৃষকের ঋণ পরিশোধ স্বাভাবিক ছিল। বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে প্রতি মাসে আদায় বাড়ছে। ফলে এ খাতে সার্বিক খেলাপির হার কমছিল। যা পুরো ব্যাংক খাতে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করেছে। চলতি অর্থবছরের সাত মাসে আদায়ের পরিমাণ বেড়েছে ১০ শতাংশ। তবে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে হঠাৎ হোঁচট খেয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। মাসের ব্যবধানে ব্যাংকটির কৃষি খাতের শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা বেড়ে গেছে। ফলে অন্য ব্যাংকের ভালো ফলাফলের পরও সার্বিক কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কৃষি খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৯৩ কোটি টাকা। জানুয়ারি শেষে এ অঙ্ক দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৫৫১ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান বলেন, কৃষি ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি ভালো। পুরোনো যেসব সমস্যা ছিল তা সমাধানের মাধ্যমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পেরেছি। সাধারণত তিন মাস পরপর শ্রেণীকৃত ঋণের হিসাব চূড়ান্ত হয়। মাসভিত্তিতে যে তথ্য তৈরি করা হয়েছে, সেখানে সংখ্যাগত ভুল আছে কি না সেটি পরীক্ষা করে দেখব।

তিনি আরও বলেন, কৃষি ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণের হিসাবপদ্ধতি এখনও ম্যানুয়েল হয়, এটাকে অটোমেটেড করার প্রক্রিয়া চলছে। এটি সম্পন্ন হলে কোনো ভুল থাকবে না। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৩৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। শতকরা হিসাবে যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ডিসেম্বরে এ অঙ্ক ছিল ৩ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা। মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৫৫৮ কোটি। গত অর্থবছরের এই সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে বছর ব্যবধানে বেড়েছে ৪৩১ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) বাৎসরিক লক্ষ্যমাত্রার ৬০ দশমিক ৪৪ শতাংশ বা ২১ হাজার ১৫৩ কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বিতরণ করা মোট কৃষি ঋণের স্থিতি ৫৫ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩১ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা বকেয়া। 

খেলাপি ঋণের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা। শতকরা হিসেবে যা ১০ দশমিক ২২ শতাংশ। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোয় এর পরিমাণ ৫৩২ কোটি বা ২ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

এদিকে জানুয়ারিতে কৃষি ঋণ বিতরণও কমেছে। এ মাসে ২ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে এই পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। এক মাসের ব্যবধানে এ খাতে ঋণ বিতরণ কমেছে ২১৮ কোটি টাকা। এর আগে নভেস্বর মাসে বিতরণ হয়েছিল ৩ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে ডিসেম্বরে এই খাতে ঋণ বিতরণ কমেছিল ২৭৩ কোটি টাকা। পরপর দুই মাস কমল কৃষি ঋণ বিতরণ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) এ খাতে ২১ হাজার ১৫৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে বিতরণ করা হয়েছিল ১৮ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে গত অর্থবছরের তুলনায় এই সময়ে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ব্যাংকগুলো কৃষি ঋণের ২০ হাজার ৩১০ কোটি টাকা আদায় করেছে। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে আদায়ের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় ঋণ আদায় বেড়েছে ১ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা বা ১০ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রকৃত কৃষকের কাছে কৃষি ঋণ পৌঁছলে তা খুব একটা খেলাপি হওয়ার কথা না। কৃষি ঋণের নামে যেসব ঋণ অন্য খাতে যায় সেগুলো খেলাপিতে পরিণত হয়। 

কৃষি অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, প্রকৃত কৃষকের কাছে যে ঋণ সরাসরি যায় সেটার রিটার্ন খুবই ভালো। কিন্তু যেগুলো এনজিও বা অন্য মাধ্যমে যায় সেগুলো কৃষি ঋণ কিন্তু আসলেই কৃষক তা পায় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব ঋণ খেলাপি হয়।

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্য ঠিক করেছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর কৃষি ঋণের লক্ষ্য ছিল ৩০ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। সাত মাসের লক্ষ্য ছিল ২০ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৭ হাজার ৫৫১ কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণ হয়েছে। যার পরিমাণ পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার ৬২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৩ হাজার ৬০২ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে, যা তাদের পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার ৫৯ দশমিক ২২ শতাংশ।

ফসলের মৌসুমের ভিত্তিতে সারা বছর সমান হারে কৃষিঋণ দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। এরপরেও কয়েকটি ব্যাংক ঋণ বিতরণে পিছিয়ে রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ১১টি ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার ৩০ শতাংশ কম ঋণ বিতরণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে মোট ঋণের মধ্যে ন্যূনতম ২ শতাংশ কৃষি ঋণ বিতরণ করতে হয়। কোনো ব্যাংক লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে ওই ব্যাংককে জরিমানা গুনতে হয়।

অপরদিকে কম সুদে কৃষকদের হাতে ঋণ পৌঁছাতে এবার ক্ষুদ্র ঋণদাতা সংস্থার (এমএফআই) ওপর বেসরকারি ব্যাংকের নির্ভরশীলতা আরও কমিয়ে আনা হচ্ছে। এজন্য ব্যাংকের নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত ৫০ শতাংশ কৃষি ঋণ বিতরণ বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এতদিন ছিল ৩০ শতাংশ। এ ছাড়া কৃষি ঋণের কত অংশ কোন খাতে দিতে হবে, তাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের জন্য প্রণীত কৃষি ঋণ নীতিমালায় বলা হয়, ভবনের ছাদে বিভিন্ন কৃষিকাজ করা একটি নতুন ধারণা। বর্তমানে শহরাঞ্চলে যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূলত বাড়ির ছাদে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে ফুল, ফল ও শাকসবজির যে বাগান গড়ে তোলা হয় তা ছাদবাগান হিসেবে পরিচিত।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা