প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২২ ১৮:৪২ পিএম
আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২২ ১৯:০৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
উচ্চমূল্যস্ফীতি ও অনিয়ন্ত্রিত জ্বালানির দামের বিরূপ প্রভাব যুক্তরাজ্যজুড়ে। শিল্পোৎপাদন খরচ বাড়ায় ভেঙে পড়ছে দেশটির সাপ্লাই চেইন। বিপর্যস্ত হতে শুরু করেছে স্বাভাবিক জীবনধারা। অন্যান্য খাতের সঙ্গে এবার মুখরোচক খাবারের বাজার দামও লাফিয়ে বাড়ছে। গত দুই বছরে রেস্তোরাঁর খাবার থেকে শুরু করে স্ট্রিট ফুড, স্ন্যাকস এবং পানীয়-জাতীয় খাবারের দাম বেড়েছে ২৬ শতাংশ। দেশটির ৭৪০টি খাবার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র ইউকে হসপিটালিটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল সেবার ব্যয় বেড়েছে ১৮ শতাংশ। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
১৯৮০ সালে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির মুখে পড়েছিল যুক্তরাজ্য। তবে এবার বড় ঝুঁকির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি। কয়েক মাস ধরেই টানা ঊর্ধ্বমুখী খাদ্যদ্রব্যের দাম। রেস্তোরাঁয় পছন্দের মেন্যু অর্ডার করতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। হাই-স্ট্রিট ফুড চেইন বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২০ সালের অক্টোবরে যেখানে চিকেন রেস্তোরাঁয় অর্ধেক মুরগির দাম ছিল ৬ দশমিক ৭৫ ইউরো, এখন তা ২৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৫০ ইউরো। ১০টি মুরগির ডানা ৯ দশমিক ৬০ ইউরো থেকে ২২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১১ দশমিক ৭৫ ইউরো। কেকের দাম ৪ দশমিক ১৫ ইউরো থেকে ১৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক ৭৫ ইউরো। একই সময় সেন্ট্রাল লন্ডনের জিজিতে স্প্যাগেটি চোরিজো কার্বোনারা-জাতীয় খাবারের দাম বেড়েছে ২২ শতাংশ, চিকেন ও প্রসিউটো সালাদ ১৮ শতাংশ, মিষ্টি আলু ভাজা ৯ শতাংশ। গ্রিক রেস্তোরাঁগুলোতেও একই অবস্থা, হলউমি ফ্রাইয়ের দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশ, সৌভলাকি ১৬ শতাংশ, লবণ কড ১৫ শতাংশ।
বিশ্ববিখ্যাত বার্গার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ম্যাকডোনাল্ডস গত জুলাই মাসে ১৪ বছরের মধ্যে তাদের বার্গারের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত কফি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইউসিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কফির দাম বেড়েছে ২২ শতাংশ। বাকিংহামশায়ারের আউটলেটগুলোতেও ছোট কোমল পানীয়ের দাম বেড়েছে ২২ শতাংশ, মিডিয়াম ক্যাপুচিনো ১১ শতাংশ।
এদিকে গবেষণা সংস্থা সিজিএ এবং সফটওয়্যার ফার্ম ফোর্থের একটি পাব, ক্লাব এবং রেস্তোরাঁ-সংক্রান্ত ব্যবসায়িক সমীক্ষা বলছে, গড় খাবার মেন্যুর দাম বছরে ১৩ শতাংশ বেড়েছে, পানীয়ের দাম বেড়েছে ১১ শতাংশ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে গত কয়েক মাসেই প্রায় ২ হাজার ২০০টি রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়েছে। যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে লন্ডনের সিম্পসনস ট্যাভার্ন কিংবা সিটি চপহাউসের মতো অনেক ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। ইউকে হসপিটালিটির প্রধান নির্বাহী কেট নিকোলস বলেন, ‘এ খাতটিতে একের পর এক সংকট আসছে। করোনা মহামারিতে আমরা প্রায় ১০ শতাংশ শিল্প হারিয়েছি। এখন যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে আমরা অনেক ব্যবসা হারাতে পারি।’
তবে খাদ্য শিল্পকে বাঁচাতে ত্রাণসহায়তা এবং ভ্যাট কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। স্টেক এবং সামুদ্রিক খাবারের রেস্তোরাঁ-হকসমুর গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী উইল বেকেট বলেন, ‘যদিও খাদ্য শিল্পের কিছু খাতে এখনও শক্তিশালী চাহিদা রয়েছে, তবে অনেক রেস্তোরাঁয় বাড়তি খরচ এবং চাহিদা কমায় বিক্রি কম হচ্ছে। ফলে আমাদের ব্যবসার জন্য একটা কঠিন সময় আসছে।’
সিজিএর গবেষণা থেকে জানা যায়, মূল্যস্ফীতির ফলে বার্ষিক হিসাবে খাবারের দাম বেড়েছে ১৩ শতাংশ। গ্রাহক কম দামে খাবার সরবরাহ করার চেষ্টা অব্যাহত আছে জানিয়ে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের একজন মুখপাত্র বলেন, অন্যান্য খাতের মতো আমাদের খাতও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার পরিস্থিতির কারণে প্রভাবিত হয়েছে। আমাদের কিছু খাবারের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আমরা এখনও গ্রাহকদের যতটা সম্ভব কম খরচে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।