মেহেদী হাসান শিয়াম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১২:০০ পিএম
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৩:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা লোকসান এড়াতে ভারত থেকে আলু আমদানি বন্ধ রখেছেন। ৯ দিন ধরে বন্ধ আলু আমদানি। আমদানিকারকদের দাবি, বাজারে পর্যাপ্ত আলু সরবরাহের কারণে কম দামে দেশি আলু কিনছেন ভোক্তারা। ফলে ভারত থেকে আমদানিকৃত আলু বিক্রি না হওয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।
সরবরাহ কমার অজুহাতে আলুর দাম বেড়ে গেলে বাজার নিয়ন্ত্রণে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। আমদানির মেয়াদ ছিল গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। পরবর্তীতে আমদানিকারকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময়সীমা আরও ১৫ দিন বাড়ানো হয়। এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে নতুন করে আলু আমদানির অনুমতি দেয় সরকার।
আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাজারে আলুর দাম বেড়ে যায়। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৃতীয় দফায় আলু আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। ইতোমধ্যে বাজারে দেশি আলু উঠতে শুরু করেছে। ফলে ভারতীয় আলুর চাহিদা কমে গেছে।
আলু আমদানিকারক আসাদুল হক বলেন, বাজারে দেশি আলু নামার পর থেকেই ভারত থেকে আসা আলুর চাহিদা কমে গেছে। ফলে ভারতীয় আলু বিক্রি হচ্ছে খুব কম। এ অবস্থায় আলু আমদানিতে লোকসান হচ্ছে।
আরেক আমদানিকারক মিজানুর রহমান বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে অনুমতি পাওয়ার পর ভারত থেকে আলু আমদানি শুরু করি। এখন বাজারে দাম কম থাকায় ক্ষতি হচ্ছে। যদি সরকার আলু আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করে নিত, তবে আমদানি স্বাভাবিক রাখতে পারতাম।
তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে আলু আমদানি করতে প্রতি কেজিতে খরচ হয় (রকমভেদে) ২৫-২৮ টাকা। এদিকে আমদানির সমপরিমাণ টাকায় দেশি আলু বিক্রিই হচ্ছে বাজারে। লোকসান হওয়ায় আলু আমদানি বন্ধ রেখেছি।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি ও রপ্তানি গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুর রশিদ বলেন, অর্ধশতাধিক আমদানিকারক ভারত থেকে আলু আমদানি করতেন। প্রথমদিকে আলু আমদানি করে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হলেও, এখন আলু এনে লসের মুখে পড়ছেন। যার কারণে আমদানি বন্ধ রেখেছেন।
সোনামসজিদ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে তৃতীয় দফায় ৭৭ হাজার মেট্রিক টন আলু আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সোনামসজিদ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কার্যালয়ের উপপরিচালক সমির ঘোষ বলেন, অনুমতি পাওয়ায় আমদানিকারকরা মাত্র ১ হাজার ১০৬ টন আলু ভারত থেকে আমদানি করেছেন। সর্বশেষ আলু এসেছে ১০ ফেব্রুয়ারি। তারপর থেকেই আমদানি বন্ধ।
জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাজার তদারকি কর্মকর্তা মনেয়ার হোসেন বলেন, বাজারে দেশি আলু সরবরাহ থাকায় দাম কমেছে। পাইকারি পর্যায়ে ২০-২২ ও খুচরায় রকমভেদে ২৫-৩০ টাকা কেজিদরে আলু বিক্রি হচ্ছে। এখন ভারত থেকে আমদানি করার প্রয়োজন নেই। ফেব্রুয়ারি থেকে দেশি আলু বাজারে উঠতে শুরু করে। ফলে দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই বলেও জানান এই কর্মকর্তা।