× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রণোদনা কমায় ক্ষোভ, শঙ্কা দেখেন না অর্থনীতিবিদরা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২০:৪৯ পিএম

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২০:৪৯ পিএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ডলার সংকটের মধ্যেই পণ্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তা বা ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ দেশের ব্যবসায়ীরা। আগামী জুন পর্যন্ত এটি প্রত্যাহার বা পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে মনে করেন তারা। কারণ ঘোষিত সুবিধার আলোকে রপ্তানি আদেশ নেওয়া হয়েছে। এখন ৬ মাস আগে থেকে সেটি প্রত্যাহার হয়ে গেলে লোকসানে পড়তে হবে। তা ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও ভিন্ন নামে প্রণোদনা অব্যাহত রাখতে হবে; কারণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত ‘রপ্তানি’। আয় বাধাগ্রস্ত হলে রিজার্ভ ধরে রাখা কঠিন হবে বলেও মনে করেন ব্যবসায়ী নেতারা। 

গত ৩০ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রপ্তানি খাতে নগদ সহায়তা কমানোর কথা জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হলেও এ সিদ্ধান্তে তাদের শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, রপ্তানিতে প্রণোদনা বা ভর্তুকি অনন্তকাল ধরে চলতে পারে না। সরকারের উচিত ব্যবসাক্ষেত্রে যেসব অদক্ষতা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা আছে, সেগুলোর উন্নতি করা।

সম্প্রতি এলডিসি থেকে উত্তরণকে সামনে রেখে ধাপে ধাপে পণ্য রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা বা ভর্তুকি দেওয়া থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে খাতভেদে নগদ সহায়তা ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। নগদ সহায়তার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত। এখন নগদ সহায়তা কাটছাঁট করা হলে তৈরি পোশাক শিল্পের কমপক্ষে অর্ধেক পণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনা পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া নগদ সহায়তা কমছে শীর্ষস্থানীয় রপ্তানি খাত চামড়া, পাটজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, আসবাব, প্লাস্টিকসহ বেশ কিছু পণ্যে। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এ সিদ্ধান্ত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে মত দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

রপ্তানিকারকদের দাবি, করোনার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং তারপর হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি টানাপড়েনের মধ্যে রয়েছে। তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা কমেছে। এই কঠিন সময়ে গত বছর রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আকার কমানো হয়েছে। প্রতিনিয়ত ব্যবসার খরচ বাড়ছে। গ্যাসের সংকট কাটছে না। অথচ ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণ করে রাখা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে হঠাৎ নগদ সহায়তা কাটছাঁট করার সিদ্ধান্তে বড় চাপের মধ্যে পড়বে দেশের রপ্তানি খাত।

এ বিষয়ে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ও জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২৬ সালের আগে ভর্তুকি প্রত্যাহারে কোনো সুযোগ নেই। এরপর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী ভর্তুকি প্রত্যাহার হলেও তা ভিন্ন নামে চালু রাখতে হবে। উন্নত দেশগুলো বিভিন্ন নামে প্রণোদনা দিচ্ছে।’ 

তিনি বলেন, বর্তমানে যেটি করা হয়েছে তা মোটেও ভালো হয়নি। কারণ চলতি অর্থবছরের জুন পর্যন্ত প্রণোদনার ঘোষণা ছিল; সেটি হিসাব করে ব্যবসায়ীরা অর্ডার নিয়েছে। যদি এমন কিছু করতেই হতো তাহলে অন্তত আগামী জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে কিছু একটা করা যেত।’ 

এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘মোটা দাগে এক দুই শতাংশ কমানো হয়েছে বলা হলেও বাস্তবে কমেছে ৭০ শতাংশের বেশি।’ 

তিনি বলেন, সার্কুলারে শুভংকরের ফাঁকি রয়েছে; সেখানে কোনো কোনো পণ্যে এক শতাংশ কমানো হলেও অপ্রচলিত বাজার বা নতুন বাজারের মধ্যে তিনটি দেশ উঠিয়ে নিয়েছে, অথচ নতুন বাজারের সার্বিক পরিমাণের ওই তিনটি দেশেই ৫০ শতাংশ পণ্য রপ্তানি হয়। অন্যদিকে পাঁচটি এইচএস কোডে ভর্তুকি প্রত্যাহার হয়েছে; এই পণ্যগুলো পোশাক খাতের মোট রপ্তানির ৫৬ শতাংশ। তাই আগামী জুন পর্যন্ত সুবিধা দিয়ে জারিকৃত পূর্বের সার্কুলারে পরিবর্তন না আনার দাবি জানান ফারুক হাসান।

সরকারের সিদ্ধান্তে একমত অর্থনীতিবিদরা

তবে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগকে পাত্তা না দিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত অর্থনীতিবিদরা। তারা মনে করেন, বর্তমানে রপ্তানি খাতে প্রণোদনা খুব একটা সমস্যা তৈরি করতে পারবে না। ব্যবসায়ীরা সহজেই এটি পুষিয়ে নিতে পারবেন। সরকারি দপ্তরগুলোর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন হলে বর্তমান অনেক সমস্যা দূর হবে। ফলে অনেক ক্ষতি কমে আসবেÑ যা প্রণোদনার পরিমাণের চেয়ে বেশি। তা ছাড়া দক্ষ জনবল ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রণোদনা প্রত্যাহারের সময় নিয়ে যে আলোচনা আছে সেটার বিষয় হলো এক্সচেঞ্জ রেট, এর ফলে রপ্তানির কাঁচামালের দাম বেড়ে যাবে। তবে অদূর ভবিষ্যতে ‘এক্সচেঞ্জ রেট এপ্রিসিয়েশন’ হওয়ার সম্ভাবনা কম। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিলে বলা যায়, সরকারের হাতে তেমন কোনো বিকল্প ছিল না। মোটামুটিভাবে আমার মনে হয় এই সিদ্ধান্ত ঠিকই আছে। কারণ সারা জীবন ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল হয়ে অর্থনীতি পরিচালনা করা যায় না।’ 

ব্যবসায়ীদের আপত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা সবসময়ই কর কমানোসহ নানা ধরনের সুবিধা নিতে চেয়েছে, এটাই স্বাভাবিক। দিন শেষে দেখা যাবে ফ্যাক্টরিগুলো ভালোভাবেই চলছে; তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।’

একই ধরনের মত দিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সরকারের এই সিদ্ধান্ত রপ্তানিতে কোনো প্রভাব তৈরি করবে না। কারণ ভর্তুকি দেওয়া হয়েছিল এই শিল্পকে সহায়তা করার জন্য; যাতে এটি সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এখন যদি বলা হয়, আমাদের পোশাক খাত এখনও সক্ষম হয়নি, তাহলে এটি হতাশাজনক খবর হবে। তাই এখানে যতটুকু সমস্যা হবে, তা পুষিয়ে নিতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে হয়রানি বন্ধে মনোযোগ দিতে হবে।’

রপ্তানি খাতে নগদ সহায়তা কমানোর বিষয়টি গত ৩০ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এর আগে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য গত আগস্টে রপ্তানি প্রণোদনার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল; এখন মাঝপথে এসে তা স্থগিত করা হয়েছে।

নগদ সহায়তা কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশ হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধিবিধান অনুসারে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ হলে কোনো ধরনের রপ্তানি প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা দেওয়া যায় না। তবে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর একবারে নগদ সহায়তা প্রত্যাহার করা হলে রপ্তানি খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। সে জন্য চলতি বছর থেকে অল্প অল্প করে নগদ সহায়তা কমানোর বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাব অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি ছিল। তবে চলতি অর্থবছরে প্রথমার্ধে প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। অর্থবছরে প্রথম ছয় মাসে ২ হাজার ৭৫৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক ৮৪ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, সরকার ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানির প্রণোদনা জন্য ৯ হাজার ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। তবে প্রণোদনার প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা এখনও পরিশোধ করতে পারেনি সরকার।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা