× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ছয় শর্তে অনমনীয় আইএমএফ

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২২ ১১:৩৮ এএম

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২২ ১১:৫৫ এএম

আইএমএফের ঢাকা সফররত প্রতিনিধি দলের প্রতিবেদনের ওপরই বাংলাদেশের ৪৫০ কোটি (৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন) ডলার ঋণ প্রাপ্তির বিষয়টি নির্ভর করছে।

আইএমএফের ঢাকা সফররত প্রতিনিধি দলের প্রতিবেদনের ওপরই বাংলাদেশের ৪৫০ কোটি (৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন) ডলার ঋণ প্রাপ্তির বিষয়টি নির্ভর করছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঢাকায় সফররত প্রতিনিধি দলের প্রতিবেদনের ওপরই বাংলাদেশের ৪৫০ কোটি (৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন) ডলার ঋণ প্রাপ্তির বিষয়টি নির্ভর করছে। ঋণ পেতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে নানা পরামর্শ ও শর্ত দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সংস্কার, মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ হ্রাস, রিজার্ভ গণনা পদ্ধতি, ঋণে সুদহারের সীমা বাতিল, একক ফরেন এক্সচেঞ্জ রেট এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকি কমানোর শর্তে অনমনীয় মনোভাব দেখিয়েছেন। দায়িত্বশীল কয়েকটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে তার কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ঢাকায় সফররত এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের আইএমএফ মিশনপ্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মিশনের হালনাগাদ তথ্য অবহিতকরণের সময় উল্লিখিত শর্তসমূহ বাস্তবায়নে ওপর জোর তাগিদ দেন। এ সময় গভর্নরের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়।

বুধবারের এ বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক জি এম আবুল কালাম আজাদ জানান, গভর্নরের সঙ্গে আইএমএফ দলের বৈঠক সম্পর্কে তার পক্ষে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। যদিও তিনি ২৭, ৩০ ও ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আলোচনা ফলপ্রসূ ও সন্তোষজনক দাবি করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে। গত জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অবলোপনকৃত প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি অর্থঋণ আদালতে বিভিন্ন ব্যাংকের ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা আটকা রয়েছে। আর খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, ঋণ পুনঃতফসিলের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকা রয়েছে। এসবের পেছনে দায়ী ঋণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, যা ব্যাংক খাতে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করেছে।

সূত্র আরও জানায়, গত কয়েকদিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিভিন্ন নথি থেকে প্রাপ্ত বিষয় সম্পর্কে তারা গভর্নরকে অবহিত করেন এবং এসব প্রয়োজনীয় সংস্কারের তাগিদ দেন। তার মধ্যে অন্যতম হলোরিজার্ভ হিসেবে আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি বিপিএম-৬ (ব্যালান্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন) পদ্ধতি অনুসরণ, ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সংস্কার, মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ হ্রাস, ঋণে সুদহারের সীমা বাতিল, ফরেন এক্সচেঞ্জ রেট, ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের গঠন, চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের তদবির, অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ মঞ্জুর, বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়মের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, ফাইন্যানশিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট (এফএসএসপি) বাস্তবায়ন, ব্যাংক সুপারভিশন, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন আইনসহ কয়েকটি আইনের সংস্কার এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকি বাতিল।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আইএমএফের শর্ত দেশের আর্থিক খাতের জন্য ভালো। এগুলো করতে পারলে ব্যাংক খাতের সমস্যা দূর হতো। আর রিজার্ভ গণনার বিষয়ে তো হারানোর কিছু নেই। শুধু গণনার পার্থক্য। এখন সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভর করছে এসব বাস্তবায়ন করার বিষয়টি।

জানা গেছে, বর্তমানে ডলারের রেটে ভিন্ন ভিন্ন দর রয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে ব্যাংকগুলো জোটবদ্ধ হয়ে প্রবাসী আয়ে প্রতি ডলারের দাম ৫০ পয়সা কমিয়ে সর্বোচ্চ দাম দিচ্ছে ১০৭ টাকা। আর রপ্তানিকারকদের দেওয়া হয় ব্যাংকভেদে ১০৪ থেকে ১০৫ টাকা। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি করছে ৯৭ টাকায়।

বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিম বলেন, ‘ব্যাংকগুলো এতদিন এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে ডলার কেনায় ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা দর দিয়ে আসছিল। নতুন করে তা ১০৭ টাকা করা হয়েছে।’

এদিকে আইএমএফ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সংস্কার চেয়েছে। আর চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে মোট ৮২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রেখেছে সরকার। ভর্তুকির বেশিরভাগই জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের জন্য রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা