প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২২ ১৭:৫৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
তৃতীয় দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখি প্রবণতায় চাঙাভাব ফিরতে শুরু করেছে দেশের পুঁজিবাজারে। ফলশ্রুতিতে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে “ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন” দামে আটকে থাকা শেয়ারের লেনদেনও বাড়ছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-ডিএসইতে সর্বনিম্ন দরে লেনদেন হয়েছে ২১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। যা আগের দিন ছিল ২৩৩ টি। অর্থ্যাৎ সর্বনিম্ন দর থেকে উঠে এসেছে ২০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার।
গত ৩১ অক্টোবরে ২৯২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয় সর্বনিম্ন দামে। ১ নভেম্বর ইতিবাচক প্রবণতায় ৩৫টি প্রতিষ্ঠানে শেয়ার দর বাড়লে ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকা শেয়ার সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫৭ টিতে। পরেরদিন আরও ২৪ টি প্রতিষ্ঠান ফ্লোর প্রাইস থেকে ভেঙে বেশি দামে লেনদেন হয়। অর্থ্যাৎ শেষ তিনদিনে প্রায় ৮০ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর সর্বনিম্ন দাম থেকে উপরে লেনদেন হচ্ছে।
সর্বনিম্ন দামে আটকা থাকা শেয়ারের সংখ্যা কমে যাওয়ায় লেনদেনও বাড়ছে পুঁজিবাজারে। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন হয় ১ হাজার ৫১২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। যা গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
আর ডিএসইর প্রধান সূচক ২২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৬ হাজার ৪১০ পয়েন্টে। ডিএসইএক্সের এই অবস্থানও গত ১৫ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৬৮ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড। লেনদেন হয়নি ২০ টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের। লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৮৪টির, কমেছে ৮২ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০২টির দর।
ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করছে বেক্সিমকো লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ১৩৯ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া শীর্ষ পাঁচে থাকা ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ৬৫ কোটি ৬৬ লাখ, জেনিক্স ইনফোসিসের ৬৪ কোটি ৯ লাখ এবং লুব-রেফ বাংলাদেশের ৫৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
ডিএসইতে দর বাড়ার শীর্ষে অবস্থান করছে ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেড়ে অবস্থান করছে ১২৬ টাকা ৯০ পয়সায়। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়ে লেনদেন হয়েছে ১৪৫ টাকা ৯০ পয়সায়। এ ছাড়া নাভানা ফার্মার ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ, প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্সের ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং সানলাইফ ইনস্যুরেন্সের ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ দর বেড়েছে।
ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপার ম্যানুফেকচারিং লিমিটেড। এ শেয়ারটির দর ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে সবশেষ ৩৪৭ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক লিমিটেডের দর ৭ দশমিক শূণ্য ৬ শতাংশ কমে অবস্থান করছে ৭৭ টাকা ১০ পয়সায়। এ ছাড়া সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজের ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ, আমরা টেকনোলজির ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং ইউনিয়ন ইনস্যুরেন্সের ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ দর হারিয়েছে।
এদিকে ডিএসইর এসএমই বোর্ডের মূল্যসূচকে সামান্য বেড়েছে। ডিএসএমই-এক্স ২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪১৩ পয়েন্টে। লেনদেন হওয়া ১৩টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৮টির এবং কমেছে ৫টির দর।
অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-সিএসইর কার্যক্রম শেষ হয়েছে ইতিবাচক প্রবণতার মধ্য দিয়ে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৪০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৮ হাজার ৯৪৫ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা বেশি।