সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ ১০:৩৩ এএম
আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ ১৮:৫৭ পিএম
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট। ছবি : সংগৃহীত
হাওরের বিস্ময় অলওয়েদার সড়ক ও দিগন্ত বিস্তৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে প্রতিদিনই ছুটে আসে দেশের নানা স্থানের দর্শনার্থী ও পর্যটক। এই হাওর ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করতে, পর্যটকদের বিশেষত রাত্রিযাপনকে নিরাপদ ও নির্ভার করতে হাওরের মিঠামইন উপজেলায় ব্যক্তি-উদ্যোগে গড়ে উঠেছে নান্দনিক ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট’।
এই তারকা রিসোর্টে রয়েছে চার স্টার হোটেলের সুযোগ-সুবিধা। ৪০ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে এই রিসোর্ট। এ এলাকারই ভূমিপুত্র সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এ কারণেই এ রিসোর্টের নাম রাখা হয়েছে ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট’।
চিকিৎসক এ বি এম শাহরিয়ার তার পৈতৃক সম্পত্তিতে গড়ে তুলছেন এই রিসোর্ট। যার অবস্থান মিঠামইন উপজেলার জিরো পয়েন্ট থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ঘাগড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে। একটি পুকুরকে ঘিরে নির্মাণ করা হয়েছে রিসোর্টটি। পুকুরের উত্তর পাশে রয়েছে রেস্টুরেন্ট, দক্ষিণ পাশে মোট ১০টি ডুপ্লেক্স কটেজ। এসবের চারদিকে রয়েছে অসংখ্য গাছপালা। কটেজগুলোর দক্ষিণে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বিস্তৃত জলরাশির পাশে সবুজের এই সমারোহ মুহূর্তেই মুগ্ধ করে মানুষকে। শুকনো মৌসুমে এখানে মোটরসাইকেল ও গাড়িতে করে যাতায়াত করা গেলেও বর্ষায় চলাচলের মাধ্যম নৌকা ও স্পিডবোট।
এই অবসর যাপন কেন্দ্র থেকে বর্ষায় ভাসমান গ্রাম, শুষ্ক মৌসুমে বিস্তৃত সবুজ ধানের ক্ষেত আর প্রান্তর দেখে অভিভূত হতে হয়। সন্ধ্যার পর দ্বীপের মতো গ্রামগুলোতে চোখে পড়ে আলোকবর্তিকা। সাধারণভাবে এই রিসোর্টের ডিলাক্স স্যুটের ভাড়া ৮ হাজার টাকা, ভিআইপি স্যুটের ১২ হাজার টাকা, ভিভিআইপি স্যুটের ২০ হাজার টাকা এবং প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটের ভাড়া ৪০ হাজার টাকা। ডিলাক্স ও ভিআইপি স্যুটে রয়েছে ডাইনিংসহ দুটি কক্ষ। আর ভিআইপি ও ভিভিআইপিতে তিনটি কক্ষ। আর প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে আছে ছয়টি কক্ষ। পুরো প্যাকেজে শুধু সকালের নাশতা দেবেন উদ্যোক্তারা। অন্যান্য সময় খাবার কিনে খেতে হবে রেস্টুরেন্ট থেকে।
এ বিষয়ে রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. এ বি এম শাহরিয়ার বলেন, তাদের বিশ্বাস রিসোর্ট ও এর সার্বিক পরিবেশ দেখে পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। পর্যটকরা যাতে থাকতে পারেন, সেজন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকেন। বিশেষত মধ্যবিত্ত ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করতে তারা প্রয়োজনে অনেক ছাড় দিয়ে থাকেন। তবে পিক ডে কিংবা পিক সিজনে পর্যটকদের স্থান দিতে হিমশিম খান তারা। রিসোর্টের নামকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হাওর এলাকায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মতো মানুষের জন্ম হয়েছে বলেই এখানে এত বিশাল উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ হয়েছে। হাওরের মানুষের জীবনযাত্রার মানেরও এত উন্নতি। উনার এলাকায় প্রথম গড়ে ওঠা রিসোর্ট এটি। তাই এর নাম রাখা হয়েছে ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট।’
অলওয়েদার সড়ক নির্মাণের পর থেকে কয়েক বছর ধরে কিশোরগঞ্জের হাওর নিয়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ বেড়েছে। পানিতে ডুবে থাকা সড়কে ও সারা বছর ভেসে থাকা সড়কে গাড়ি চালানোর ছবি ফেসবুকে শেয়ার করছেন অনেকেই। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে দল বেঁধে আসছেন পর্যটক। প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট ছাড়াও হাওরে রয়েছে একাধিক রিসোর্ট ও আবাসিক হোটেল।
প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. শাহরিয়ার আরও বলেন, উন্নত বিশ্বের আদলে রিসোর্টে সুইমিংপুল করা হয়েছে। পূর্ব পাশে ভবিষ্যতে খেলার মাঠ করার পরিকল্পনা রয়েছে। মিঠামইন অলওয়েদার সড়ক থেকে শুকনো মৌসুমে গাড়ি যাতায়াতের রাস্তা রয়েছে। বর্ষায় স্পিড বোট অথবা ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে সরাসরি রিসোর্টে আসা যায়। অবসরহীন জীবনে সুযোগ বুঝে হাওরের নির্মল বাতাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে এখানে ছুটে আসে অসংখ্য মানুষ।’
জেলা শহরের বাসিন্দা ডা. হোসনা বেগম ও ডা. হেলাল দম্পতি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট হাওরের বিস্ময়। সকল সুবিধাসংবলিত রিসোর্টটি খুব সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। এখানে কেউ এলে নিঃসন্দেহে তাকে রোমান্টিকতায় পেয়ে বসবে।’
হাওর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, ‘হাওরে পর্যটনের বিকাশে সবকিছুই করা হয়েছে। প্রয়োজনে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে আরও আবাসিক হোটেল-মোটেল করা হবে। পর্যটক ও দর্শনার্থীদের চাহিদা মেটাতে গভীর হাওরে নানা সুবিধাসংবলিত প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। রিসোর্টে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থাও বেশ আকর্ষণীয়।’