× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বইমেলায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪ ২১:৩৭ পিএম

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ ১৭:১৫ পিএম

বইমেলায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সময় ঘনিয়ে আসায় দিনরাত বিরতিহীন চলছে সাজসজ্জার কাজ। অধিবর্ষ হওয়ায় এবার বইমেলা হবে ২৯ দিনের। মেট্রোরেল চালু হওয়ায় বইপ্রেমী মানুষের আনাগোনা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবার সব মিলিয়ে ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে বইমেলায়। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় এই মেলার দ্বার উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতবারের মতো এবারও বইমেলার প্রতিপাদ্য ‘পড়ো বই গড়ো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এবারের আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কেএম মুজাহিদুল ইসলাম। একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. হাসান কবীর ও বইমেলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশ লিমিটেডের সিএমও মীর নওবত আলী সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন। 

মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘৬৩৫ প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯৩৭টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবার। এর মধ্যে একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৪টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত বছর বইমেলায় অংশ নিয়েছিল ৬০১ প্রতিষ্ঠান। এবারের মেলা হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মিলে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট জায়গায়। একাডেমি প্রাঙ্গণে একটি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬টি প্যাভিলিয়ন থাকবে।‘

তিনি বলেন, ‘‘উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘কালেক্টেড ওয়ার্কস অব শেখ মুজিবুর রহমান : ভলিউম-২’সহ কয়েকটি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করবেন। সেই সঙ্গে ২০২৩ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার বইমেলায় গতবারের বিন্যাস অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। তবে কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে, মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে গতবারের মেলার বাহির পথ এবার একটু সরিয়ে কালীমন্দির গেটের কাছাকাছি নেওযা হয়েছে। এ ছাড়া টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্ল্যান্ট ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অংশে মোট আটটি প্রবেশ ও প্রস্থান পথ থাকবে।

‘খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে রাখা হয়েছে। এবার এমনভাবে খাবারের স্টলগুলো বিন্যস্ত করা হয়েছে, যেন বইমেলায় আসা পাঠকের মনোযোগ বিঘ্নিত না হয়। নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ অন্যান্য পরিষেবাও থাকছে। গত বছরের মতোই মন্দির গেটে প্রবেশের ঠিক ডান দিকে বড় পরিসরে রাখা হয়েছে শিশুচত্বর, যাতে শিশুরা অবাধে বিচরণ করতে পারে এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত বই সহজে সংগ্রহ করতে পারে। এবার লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায়। সেখানে প্রায় ১৭০টি লিটল ম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বইমেলার প্রবেশ ও প্রস্থানপথে পর্যাপ্তসংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। নিরাপত্তার জন্য মেলা এলাকায় তিন শতাধিক ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা রাখা হচ্ছে। বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে। ধুলা কমাতে কিছু অংশে ইট বিছানো হবে। এ বছর বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও ‘লেখক বলছি’ মঞ্চ এমনভাবে বানানো হচ্ছে, যা শুধু মঞ্চ নয়, ঝড়-বৃষ্টিতে প্রয়োজনে সেখানে আশ্রয় নিতে পারবে মেলায় আসা লোকজন।

সময়সূচি

প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবে না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মেলায় 'শিশুপ্রহর' থাকবে। প্রতিদিন বিকাল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে সেমিনার এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে। এ ছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মেলা শুরু হবে সকাল ৮টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কণ, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে।

বাংলা একাডেমিতে গণতন্ত্র নেই : নূরুল হুদা

এক দশক আগে পাওয়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার সম্প্রতি ফিরিয়ে দিয়েছেন কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার। গণতন্ত্রহীনতা, আমলাতান্ত্রিকতা, প্রতিষ্ঠানের মানের নিম্নগামিতা এবং আড়াই দশক ধরে নির্বাচন না দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো লোক দিয়ে একাডেমি পরিচালনায় নির্বাহী পরিষদ গঠন করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে তিনি পুরস্কার প্রত্যাহার করেন। এ বিষয়ে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক নূরুল হুদাকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের বাইরে গিয়ে একজন লেখক নূরুল হুদা হিসেবে যদি বলি, তাহলে বলব, ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছিল। ২০০০ সাল থেকে অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ব্যাহত হওয়ার কারণ আমার স্মৃতিতে যা আছে তা হলো, নির্বাচন প্রক্রিয়ার ভোটার।’

তিনি বলেন, ‘ভোটাররা হলো যারা পুরস্কারপ্রাপ্ত, বাংলা একাডেমি ফেলো, সদস্যরা। অস্বাভাবিকভাবে সদস্যসংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল। একটি ঠিকানা থেকে অনেককে ভোটার করা হয়। ফলে নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।’

নূরুল হুদা বলেন, ‘গত ডিসেম্বরের মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, চলতি বছর নির্বাচন হবে। নির্বাচন করতে হলে একটা ভোটার তালিকা তৈরি করতে হবে এবং ভোট করার জন্য বিধিমালা তৈরি করতে হবে। বিধিমালা আমরা তৈরি করেছি। মন্ত্রণালয়ে আমরা গিয়েছি। শিগগিরই বিধিমালা আসবে। আমরা আশা করছি, মার্চ বা এপ্রিলের আগেই সম্পন্ন করব। অগণতান্ত্রিকের বিষয়টি ঘটেছে। আমরা সেটা সমাধানের চেষ্টা করছি।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা