প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:০১ পিএম
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:৪৮ পিএম
বাজারে প্রচলিত ভোজ্য তেলের মধ্যে ৬৫ শতাংশ তেলই ড্রামে সরবরাহ করা হয়। নানা ধরনের কেমিক্যালের ড্রামে তেল সরবরাহ করা হয় বলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও। এসব তেলের ৫৯ শতাংশ ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ নয়। বাকি ৪১ শতাংশের মধ্যে ৩৪ শতাংশে সঠিকমাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ নেই। মাত্র ৭ শতাংশ তেলে ন্যূনতম মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া গেছে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর করা এক গবেষণায় এসব তথ্য প্রমাণিত হয়েছে।
বুধবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে ‘সবার জন্য ভিটামিন সমৃদ্ধ নিরাপদ ভোজ্য তেল অগ্রগতি, বাধা ও করণীয়’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালার শেষ দিনে গবেষণার তথ্যটি তুলে ধরা হয়। প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) কর্মশালাটির আয়োজন করে। এতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ২৬ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
২০১৭ সালে করা ওই গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করেন প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রাম মো. হাসান শাহরিয়ার। কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহা. ইফতেখার, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) ডেপুটি ডিরেক্টর রেজাউল হক, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইম্প্রোভড নিউট্রিশনের (গেইন) পোর্টফুলিও লিড ড. আশেক মাহফুজ, প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রাম মো. হাসান শাহরিয়ার, বাংলা ট্রিবিউনের বিজনেস ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের লার্জ স্কেল ফুড ফর্টিফিকেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি অ্যাডভোকেট ডা. উম্মে আফরোজা তামান্না, প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. রিনা রাণী পাল প্রমুখ।
মো. হাসান শাহরিয়ার বলেন, ‘দেশে ভোজ্য তেলের প্রায় ৭০ শতাংশ পাম তেল, ২০ শতাংশ সয়াবিন ও ৬ শতাংশ সয়াবিনসহ অন্যান্য তেল। ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণে প্রধান বাধা খোলা ড্রামে তেল বিক্রি। আইসিডিডিআরবির ২০১৭ সালের গবেষণায় সেটিই প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিটামিন এ ও ডি না থাকাকে নীরব ঘাতক হিসেবে উল্লেখ করেছে। ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান ভিটামিন এ ও ডি অন্তর্ভুক্তকরণে কাজ করছে। ভারত পাঁচটি পণ্যে এ ও ডি অন্তর্ভুক্তকরণে কাজ করছে।’
প্যাকেজিং বা মোড়কজাত ভোজ্য তেল সম্পর্কে মুশতাক হাসান মুহা. ইফতেখার বলেন, ‘মানুষ খাদ্য খায় বাঁচার জন্য। ভোজ্য তেলে এ সমৃদ্ধকরণের আইন করার পর ১১ বছর চলে গেলেও কাজ হচ্ছে না কেন, সেই প্রতিবন্ধকতা কারা তৈরি করছে, সেটি দেখা দরকার। ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তেলে ভিটামিন ডি যুক্ত করা নতুন বিষয়। এটি কোন কোন ধরনের খাদ্যে করা যাবে তা নিয়ে কাজ করা যেতে পারে। আর সরকারি প্রতিষ্ঠান নানা কাজে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এটি সমস্যা সমাধানে সঠিক ব্যবস্থা নয়। এর মাধ্যমে মূল কাজ থেকে দূরে চলে গেছে। সমস্যার মূল উৎসটি সমাধান করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ড্রামে সরবরাহ না করে কাচের বোতল, টিনের ও প্লাস্টিকের বোতলে মোড়কজাত করা দরকার। সূর্যের আলো থেকে আড়ালে রাখলে তেলে ভিটামিন এ ও ডি বজায় থাকবে।’
খাদ্যে ভেজালসহ নানান ধরনের কাজে যুক্তদের শাস্তি দেওয়া সম্পর্কে রিয়াজুল হক বলেন, ‘গত এক বছরের বিএসটিআই ২ হাজার ৯০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে। সেখানে ৩ হাজার ১২১ মামলা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১০ কোটি টাকা।’
ড. আশেক মাহফুজ বলেন, ‘ভোজ্য তেল সরবরাহ করা ১০টি কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণ করলেই তেলে ভিটামিন এ ও ডি সমৃদ্ধ করা সম্ভব। সরকার ভিটামিন ডি সমৃদ্ধকরণে কাজ করবে।‘
মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তেলে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণের আইন ২০১৩ সালে হলেও এখনও খোলা ড্রামে বিক্রি হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব বিএসটিআইয়ের থাকলেও বাজারে তাদের তদারকি নেই।’