প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৪ ২০:৩৭ পিএম
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য রাইস ব্রান তেল ও মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে নতুন সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) কমিটির সভা শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, স্থানীয়ভাবে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ১ কোটি ২০ লাখ লিটার (+৫%) রাইস ব্রান তেল ক্রয় করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। টিসিবি কর্তৃক তিনটি লটে ১ কোটি ২০ লাখ লিটার রাইস ব্রান তেল সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ক্রয়ের জন্য স্থানীয় তিনটি প্রতিষ্ঠানÑ মজুমদার প্রোডাক্টস, মজুমদার ব্রান অয়েল মিলস ও আলী ন্যাচারাল অয়েল মিলস অ্যান্ড অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব চাওয়া হলে প্রতিষ্ঠান তিনটি দরপ্রস্তাব দাখিল করে। টিইসি কর্তৃক দরপ্রস্তাব তিনটি পরীক্ষান্তে রেসপনসিভ হয়। দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশকৃত কোম্পানির কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ লিটার রাইস ব্রান তেল ১৮৯ কোটি ৬০ লাখ টাকায় সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার (+৫%) মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয় করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয়ের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে মাত্র একটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। দরপ্রস্তাবটি কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ একমাত্র দরদাতা প্রতিষ্ঠান উমা এক্সপো প্রা. লিমিটেড, ভারতের কাছ থেকে ১০ হাজার মে. টন মসুর ডাল প্রতি কেজি ১০১ দশমিক ১৩ টাকা হিসাবে সর্বমোট ৯৬ কোটি ১৪ লাখ টাকায় ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার (+৫%) মে. টন মসুর ডাল ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ১০ হাজার মে. টন মসুর ডাল ক্রয়ের জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে দুটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। দুটি দরপ্রস্তাবই কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানÑ রায় অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড, বগুড়া; এবং নাবিল নাবা ফুডস লিমিটেড, ঢাকার কাছ থেকে ১০ হাজার মে. টন মসুর ডাল প্রতি কেজি ১০৫ দশমিক ৪৫ টাকা হিসাবে সর্বমোট ১০৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকায় ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিএডিসির জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার টন সার
কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি, টিএসপি, পটাশ সার কিনবে সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা আলাদা প্রস্তাবে ভিন্ন ভিন্ন চারটি লটে সারগুলো কিনবে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় সৌদি আরব থেকে প্রথম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানি করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। এই লটে ডিএপি সার কিনতে ২৫৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাবে জানানো হয়, বিএডিসি কর্তৃক সৌদি আরব থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে ডিএপি সার আমদানি করা হয়। ইতঃপূর্বে সম্পাদিত চুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় বিদ্যমান চুক্তির শর্তসমূহ অভিন্ন রেখে গত বছরের ১৩ আগস্টে পুনরায় চুক্তি নবায়ন করা হয়। সার আমদানি চুক্তিতে উল্লিখিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে সৌদি আরব থেকে প্রথম লটে ৪০ হাজার (+১০%) মে. টন ডিএপি সার বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যে সর্বমোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫৯ কোটি ১৬ লাখ টাকায় আমদানির প্রস্তাব প্রত্যাশামূলক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কোর ওসিপি, এসএ থেকে তৃতীয় লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানি করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিএডিসি কর্তৃক মরক্কো হতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে টিএসপি সার আমদানি করা হয়। ইতঃপূর্বে সম্পাদিত চুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় বিদ্যমান চুক্তির শর্তসমূহ অভিন্ন রেখে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পুনরায় চুক্তি নবায়ন করা হয়। সার আমদানি চুক্তিতে উল্লিখিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে ওসিপি, এসএ মরক্কো থেকে তৃতীয় লটে ৩০ হাজার (+১০%) মে. টন টিএসপি সার বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যে সর্বমোট ১ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কোর ওসিপি, এসএ থেকে তৃতীয় লটে ৪০ হাজার মে. টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিএডিসি কর্তৃক মরক্কো থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে ডিএপি সার আমদানি করা হয়। ইতঃপূর্বে সম্পাদিত চুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় বিদ্যমান চুক্তির শর্তসমূহ অভিন্ন রেখে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পুনরায় চুক্তি নবায়ন করা হয়। সার আমদানি চুক্তিতে উল্লিখিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে ওসিপি, এসএ মরক্কো থেকে তৃতীয় লটে ৪০ হাজার (+১০%) মে. টন ডিএপি সার বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যে সর্বমোট ২ কোটি ১৯ লাখ ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৪০ কোটি ৯০ লাখ টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি।