প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২২ ১৫:৩০ পিএম
রাজধানীর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে বুধবার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা- আইএলওর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ছবি : সংগৃহীত
মূল্যস্ফীতি যেভাবে বেড়েছে সেইভাবে বেতন-ভাতা বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। বুধবার রাজধানীর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা- আইএলওর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে আইএলওর ক্ষুদ্র ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজ-এসএমই বিশেষজ্ঞ গুনজান দালাকোটি, প্রধান টেকনিক্যাল উপদেষ্টা ইগোর বোস, জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়ক অ্যানি ডং, প্রোগ্রাম অফিসার খাদিজা খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি বাড়ার মূল কারণ তো আমাদের মনে রাখা উচিত। এটা আমাদের বাজারের ব্যর্থতা নয়। আমাদের বাজার এখন বিশ্ববাজারের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। অন্যবাজারের চাপগুলো আমাদের এখানে এসেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি দাবি করে বলতে পারি আমাদের মূল্যস্ফীতি যে হারে বেড়েছে আমাদের মত নিম্নআয়ের দেশের জন্য ভাল মনে করি।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আইএলও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মত সবক্ষেত্রে মজুরি বাড়িয়ে দিতে বলেনি। তারা শুধু বলেছে চা শ্রমিক ও উপকূলীয় জেলেদের মজুরী বাড়ানোর কথা বলেছে। আমরা তো সম্প্রতি চা শ্রমিকদের মজুরী বাড়িয়েছি। সামনের দিকে আরো বাড়ানো হবে। তবে আমি মনে করি চা বাগানের শ্রমিক ও উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের মজুরি বাড়ানোর দিকটা দেখা উচিত।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘চা শ্রমিকদের এক হাাজার টাকা বাড়িয়ে দিলেও তারা অনেক সময় চা বাগান ছেড়ে যায় না। তারা ঐ বাগানেই থাকতে চায়। কারণ তারা আবহমান কাল থেকে এই গ্রাম বাংলায় থাকে। এর একটা অন্যতম আর্থিক মূল্য আছে। অনেকে ভাবে তাদেরকে বাধ্য হয়ে কাজ করানো হচ্ছে আসলে বিষয়টা এমন নয়। তবে তাদের রেশন বাড়ানো উচিত।’
আইএমএফের ঋণে প্রকৃতপক্ষে অর্থনীতি স্বস্থির জায়গায় আসবে কী না এ প্রশ্নের জাবাবে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘আমার পকেটে ১০০ টাকা আছে কেউ ১০ টাকা ধার দিলে কিছুটা ভাল। আইএমএফের ঋণেও কিছুটা সাময়িক স্বস্তি মিলবে। তবে সরকার অস্বস্তিতে নেই, সবাই তো বাজারে যায়। বিষয়টা এমন নয় আজকে দাম এক, কালকে হঠাৎ করেই আরেক হলো। এমনিতেই তো কার্তিক মাসে ঘরের চাল কমে যায়। এটা নিয়মিত প্রক্রিয়া। মাসের শুরুতে পকেটে যেমন থাকবে, শেষেও তেমন থাকবে- তা নয়। মাসের শেষে পকেটে অভাব থাকে। আমাদের এখন রিজার্ভে আছে ৩৫ বিলিয়ন ডলার আছে। আইএমএফের আরো ৪ বিলিয়ন ডলার যোগ হলে এটা প্রায় ৪০ বিলিয়ণ ডলার হবে। এতে অর্থণীতিতে কিছুটা হলেও স্বস্থি আসবে।
প্রবা/এসজি