× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইএমএফ

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২২ ১৯:৫৬ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

দেশের উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পগুলোর ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সঠিক ভাবে হচ্ছে না। যার ফলে প্রকল্পের সংশোধন করতে হচ্ছে। বেড়ে যাচ্ছে ব্যয়। লাগছে দ্বিগুণের বেশি সময়। যার ফলে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। তাই প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি সঠিক ভাবে করার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মূদ্রা তহবিল-আইএমএফ। যদিও পরিকল্পনা কমিশন এই পরামর্শকে আমলে নিয়ে সেই অনুযায়ী নির্দেশনা দিচ্ছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা কমিশনের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভায় আইএমএফের পরামর্শসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে আইএমএফ। সেখানে তারা বিভিন্ন বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনকে পরামর্শ দেয় এবং বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চায়।

সভায় আলোচনার বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সচিব মামুন আল রশিদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আজকে আমাদের নিয়মিত সমন্বয় সভা ছিল। সেখানে সম্প্রতি আইএমএফের দেওয়া পরামর্শসহ, পরিকল্পনা কমিশনের জনবল সংকট, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকি পরিকল্পনার বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।’

আইএমএফের পরামর্শের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আইএমএফের প্রতিনিধিদল আমাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। তারা আমাদেরকে প্রকল্পের যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয় তা সঠিক ভাবে করার জন্য বলেছেন। আমরাও তাদের পরামর্শকে সাধুবাদ জানিয়েছি। আমরাও মনে করি প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি আরো যৌক্তিক হওয়া দরকার।’

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, অনেক বড় বড় প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেখানে কোন ফিজিবিলিটি স্টাডি থাকে না। যদিও ৫০ কোটি টাকার বেশি প্রকল্প হলেই ফিজিবিলিটি স্টাডি থাকা আবশ্যক। সম্প্রতি প্রস্তাবিত ৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকার ইভিএম প্রকল্পেও কোন ফিজিবিলিটি স্টাডি দেওয়া হয়নি। এছাড়া কোন প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হলেও তা সঠিক হয় না। পরে আবার ডিজাইন, প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বাড়াতে হয়।’

অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে সভায় আলোচনার বিষয়ে পরিকল্পনা সচিব বলেন, ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিকির আড়াই বছর পেরিয়ে গেছে। সাধারণত দুই বছর পেরোলেই অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়। সেজন্যই মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরির বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে এ মূল্যায়ন প্রতিবেদন দেবে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)।’

অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রথম এসডিজি অ্যাকশন প্ল্যান ছিল ২০১৮ তে, দ্বিতীয় এসডিজি অ্যাকশন প্ল্যানের ৯০ শতাংশ কাজ আমরা শেষ করেছি। এসআইআর কনফারেন্সে মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে তাদের অ্যাকশন প্ল্যান আমরা নিয়েছি। যেসব মন্ত্রণালয়ের তথ্য বাকি আছে, তাদের বেশিরভাগই পুরোনো। যেটি আগের অ্যাকশন প্ল্যানে আছে। নতুন তথ্যের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়গুলোকে নিয়ে বসবো। ছয়টি মন্ত্রণালয়ের ডাটা পাইনি এখনও, তবে সেগুলো আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ কাজ আমরা ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই শেষ করতে পারবো বলে আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এসডিজির হালনাগাদ প্রতিবেদন শেষ করবো আগামী ছয় মাসের মধ্যে। এজন্য ইতোমধ্যে আমরা একটি কর্ম-পরিকল্পনাও তৈরী করের্ছি। ক্যাবিনেটের সঙ্গে আমাদের যে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি আছে সেখানে আমাদের সময় দেয়া আছে মে মাস পর্যন্ত। তার আগেই আমরা কাজটি শেষ করতে পারবো।’

সভায় পরিকল্পনা কমিশনের জনবল সংকট নিয়ে আলোচনার বিষয়ে মামুন আল রশিদ বলেন, আমাদের যে পরিমাণ জনবল প্রয়োজন তা আমাদের নেই। রাজস্বে যে পরিমাণ জনবলের অনুমোদন আছে সেটাও নেই। এছাড়া বাইরের জনবলের পরিকল্পনা কমিশনে কাজ করার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয় বলে জানান তিনি।

দেশে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলে আসছেন প্রতিনিয়ত। কথা উঠেছে মন্ত্রণালয়গুলোর মানসম্মত কারিগরি জনবল ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাবের বিষয় নিয়েও। প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর কোন কাজেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বালাই নেই। অনিয়ম, অস্বচ্ছতা, কর্তব্যে গাফিলতি, অদক্ষতা এবং দুর্নীতি প্রতিটি প্রকল্পকাজের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রতিটি প্রকল্পে অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণে ব্যয় বাড়ছে বিপুল পরিমাণে। সারা দেশে নির্মিত উড়াল সড়কসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় কত বার বাড়ানো হয়েছে সে উদাহরণ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আসছে প্রায় প্রতিদিনই।

যেমন, খুলনা থেকে মংলা পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প ছিল তিন বছর মেয়াদি। ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৭২১ কোটি টাকা। কিন্তু ১২ বছর হতে যাচ্ছে প্রকল্প এখনো সমাপ্ত হয়নি। ফলে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৩২৭ কোটি টাকায়। আবারো মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা থেকে দেশের উন্নয়নকাজ কিভাবে চলছে তা অনুমেয়। অনেক প্রকল্প বিলম্বিত হওয়ার জন্য এ মুহূর্তে মহামারী পরিস্থিতিকে দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু মহামারীর আগের এক দশকে কেন তিন বছরের কাজ শেষ হলো না সেই প্রশ্ন উঠছে বিশেষজ্ঞ মহলে।

প্রবা/এসজি

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা