আনিছুর রহমান
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২২ ১৯:৩৭ পিএম
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২২ ১৫:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চলতি মাসে ওষুধ ও রসায়ন খাতের প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের দুই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস। এরপর গত ১৮ অক্টোবর সেকেন্ডারি মার্কেটে এ কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন শুরু হয়। ওইদিন ২৪ টাকায় নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার লেনদেন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিক্রেতা না থাকায় ১০ শতাংশ বেড়ে লেনদেন হয় ২৬ টাকা ৪০ পয়সায়। এ সময় ১ হাজার ১৮২টি শেয়ার লেনদেন হয়। এরপর থেকে বিক্রেতা শূন্যতায় টানা সর্বোচ্চ দর বেড়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারের। ফলে ২৭ অক্টোবর ৮ কর্মদিবস পর শেয়ারটির দাম দাঁড়ায় ৫১ টাকা ১০ পয়সা।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ২৭ অক্টোবর কোম্পানিটি ২০২২ সালের জুন হিসাব বছরের লভ্যাংশ ঘোষণা করে। আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করে বিনিযোগকারীদের ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দেয় পরিচালনা পর্ষদ। লভ্যাংশ ঘোষণার পরের দিন বেচাকেনায় কোনো সার্কিট ব্রেকার থাকে না, অর্থাৎ দাম বাড়া-কমায় কোনো সীমা থাকে না। সেই সুযোগে রবিবার (৩০ অক্টোবর) নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারের দাম বাড়ে ৪০ টাকা বা ৭৭ শতাংশ।
রবিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সর্বনিম্ন ৭০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৯৯ টাকায় লেনদেন হয়। যদিও লেনদেন শেষ হয়েছে ৯১ টাকায়। বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীরা এমন অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধিকে কারসাজি হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, ‘সাকিট ব্রেকার’ না থাকার সুযোগে শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ মনে করেন, ‘দেশের শেয়ারবাজারে একটি চক্র খুবই প্রভাবশালী। তারা বিভিন্ন কারসাজি করে অস্বাভাবিক দাম বাড়াচ্ছে। নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের দাম বাড়ানোও এর বাইরে না। এ চক্রটি অস্বাভাবিকভাবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ালেও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ফ্লোর প্রাইজে আটকে আছে। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে কোনোভাবেই উপকৃত হচ্ছেন না।’
তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, ‘গত আট দিন নাভানা ফার্মাসিটিক্যালসের লেনদেন হয়নি বললেই চলে। কারণ যে দামে শেয়ারটি বেচাকেনা হয়েছে, সে দামে কেউ বিক্রি করেননি। তাই রবিবার সার্কিট ব্রেকার না থাকায় যে দামে বিক্রি হয়েছে, সেটাকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।’
যদিও চলতি মৌসুমে এর চেয়ে ভালো লভ্যাংশ ঘোষণা করেও ফ্লোর প্রাইজে অবস্থান করছে ভালো মৌলভিত্তির অনেক শেয়ার। যাদের মধ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করে ফ্লোরে আটকে আছে বেশকিছু কোম্পানির শেয়ারদর।
গত জুন শেষে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৩ টাকা ৪২ পয়সা; যা আগের বছরে ছিল ২ টাকা ৪৮ পয়সা। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩ টাকা ৪১পয়সা। আগের বছর যা ছিল ৪১ টাকা ১৯ পয়সা।
প্রবা/এসজি/এমআই