প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২২ ১৯:২৪ পিএম
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২২ ১৯:৫২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কারিগরি ত্রুটির কারণে ২৪ অক্টোবর তিন ঘণ্টা ১২ মিনিট লেনদেন বন্ধ ছিল দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-ডিএসইতে। এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবারও হঠাৎ লেনদেন বন্ধ হয়ে যায় ডিএসইতে। রবিবার নির্ধারিত সময়ে লেনদেন শুরু করতে পারেনি ডিএসই। দেড় ঘণ্টা পর লেনদেন শুরু হয় সকাল ১১টায়, যা চলে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। এরপরে আরও পাঁচ মিনিট পোস্ট ক্লোজিং সেশনের মাধ্যমে শেষ হয় রবিবারের লেনদেন কার্যক্রম।
লেনদেন বন্ধ হওয়ার কারণ সম্পর্কে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানের উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজকের লেনদেন বন্ধে প্রযুক্তিগত কোনো সমস্যা ছিল না। সার্কিট ব্রেকার প্রয়োগ জটিলতার কারণে এই লেনদেন শুরু করতে দেরি হয়েছে। ৭০টি সিকিউরিটিজের সার্কিট ব্রেকার তুলে দেওয়ার পরিবর্তে সবগুলোর সার্কিট ব্রেকার তুলে দেওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। ফলে পুনরায় সার্কিট ব্রেকার ঠিক করে লেনদেন শুরু করতে দেরি হয় ডিএসইর। এজন্য ডিএসই কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশও করেছে।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, ‘গত ২৪ অক্টোবর ডিএসইর লেনদেন বন্ধ থাকার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের তদন্তে রবিবারের লেনদেন বন্ধ থাকার বিষয়টিও উঠে আসবে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
এর আগে ২৪ অক্টোবর কারিগরি ত্রুটির কারণে লেনদেন তিন ঘণ্টা ১২ মিনিট বন্ধ ছিল। সেদিন কারিগরি সমস্যায় সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট থেকে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। পরে লেনদেন শুরু হয় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে, যা চলে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। এরপর পাঁচ মিনিট চলে পোস্ট ক্লোজিং সেশন। সেদিন তিন ঘণ্টা ১২ মিনিট লেনদেন বন্ধ থাকার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি। তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।
পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে আছেন বিএসইসির পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হাসান, উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারিসুল হাসান রিফাত, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ দস্তগীর হোসাইন, সিসিবিএলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এম. ইমাম হোসেন এবং সিডিবিএলের মহাব্যবস্থাপক মঈনুল হাসান।
এদিকে দেড় ঘণ্টা পর ডিএসইতে লেনদেন শুরু হলে সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়, যা লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ৭০টির মতো কোম্পানির লভ্যাংশের ঘোষণা আসায় দাম বাড়ায় সার্কিট ব্রেকার ছিল না। কিন্তু ফ্লোর প্রাইস বহাল থাকায় দাম কমার সার্কিট ব্রেকার ছিল। ফলে দুই-একটি কোম্পানি ছাড়া লভ্যাংশ ঘোষণা করা বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম ফ্লোর প্রাইসে নেমে এসেছে। এতে বেড়েছে ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন দামে আটকে থাকা কোম্পানির সংখ্যা। দিন শেষে ফ্লোর প্রাইসে অবস্থান করছে ২৮০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড।
রবিবার ডিএসইএক্স ৪৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৬ হাজার ৩৩৪ পয়েন্টে। আর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৮২৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, যা গত দিনের চেয়ে ২৬৮ কোটি টাকা কম। লেনদেন হয়েছে ৩৬৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৪টির, কমেছে ৯১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩১টির।
ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করছে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের শেয়ার। প্রতিষ্ঠানটির ৬৫ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া শীর্ষ পাঁচে থাকা আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের ৪৪ কোটি ৫২ লাখ, ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেডের ৪৩ কোটি ৮০ লাখ এবং সি-পার্ল বিচ রিসোর্টের ৩৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।
ডিএসইতে দাম বাড়ার শীর্ষে অবস্থান করছে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যাল। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৭৮ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ বেড়ে অবস্থান করছে ৫১ টাকায়। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চার্টার্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির ১০ শতাংশ বেড়ে লেনদেন হয়েছে ১১ টাকায়। এ ছাড়া ইস্টার্ন ক্যাবলস ও হাক্কানি পাল্পের ১০ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্সের ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ দর বেড়েছে।
ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষে রয়েছে তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলস। এ শেয়ারটির দর ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমে সবশেষ ১৯২ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশে মনোস্পুল পেপারসের দর ৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কমে অবস্থান করছে ৩৭১ টাকা ৮০ পয়সায়। এ ছাড়া ইস্টার্ন হাউজিং ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ, বিডি ল্যাম্প ৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ এবং ইউনিক হোটেলের শেয়ার ৬ শতাংশ দর হারিয়েছে।
এদিকে ডিএসইর এসএমই বোর্ডের মূল্যসূচকও কমেছে। ডিএসএমই-এক্স ৬১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৫৩ পয়েন্টে। লেনদেন হওয়া ১৩টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১টির, কমেছে ১২টির দর।
অপরবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-সিএসইর কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্নতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৮ হাজার ৬৯২ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ৪০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১৬ কোটি টাকা বেশি।
প্রবা/এসজি/টিই