× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এবার আখ চাষে বেশি ঝোঁক

আব্দুর রহমান মিল্টন, ঝিনাইদহ

প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ২১:৫৮ পিএম

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:০৭ পিএম

চিনিকলে সরবরাহের জন্য ক্ষেত থেকে আখ তুলছেন চাষিরা। প্রবা ফটো

চিনিকলে সরবরাহের জন্য ক্ষেত থেকে আখ তুলছেন চাষিরা। প্রবা ফটো

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান মোবারকগঞ্জ চিনিকল এলাকায় আখ চাষ বাড়ছে। ফলে এবার পূরণ হয়েছে চলতি রোপণ মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রা। চলতি মাড়াই মৌসুমে ৪০ দিনে ৫০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৩ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। আর মিলগেটে প্রতি মণ আখের দাম ধরা হয়েছে ২২০ টাকা। গত শুক্রবার থেকে মাড়াই মৌসুম শুরু হয়।

গত ২০২২-২৩ মাড়াই মৌসুম মিলটি আখের অভাবে মাত্র ২৮ দিনে শেষ করে। ওই মৌসুমে কৃষকরা মাঠে আখ রোপণ না করায় মিলের রেকর্ডে সব থেকে কম সময় উৎপাদনে ছিল। এ সময় মিলটি ৩৫ হাজার ৩৬০ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১ হাজার ৭৪৫ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করেছিল। ওই বছর আখের মণ ছিল ১৮০ টাকা, একই সময় ২০২২-২৩ রোপণ মৌসুমে কৃষকরা আখ চাষ করেছে ৩ হাজার ১০০ একর। 

যদিও মিলের রেকর্ড বলছে, এর আগে প্রতি মৌসুমে মিল এলাকার কৃষকরা ৮ থেকে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষ করত। আখের মূল্য বৃদ্ধি না করায় এ সংখ্যা দিন দিন কমছিল। তবে মিলের কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতারা বলছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও অতি প্রয়োজনীয় এ চিনিশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে আখের মূল্য আরও বৃদ্ধি ও জাত উন্নয়ন, আখ চাষে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও বিকল্প শিল্পকারখানা গড়ে তোলা এবং মোটা অঙ্কের ঋণ সুদ মওকুফ করলে মিলটি লাভজনক শিল্পে পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন তারা। 

কালীগঞ্জের বলিধাপাড়া মাঠে ২ একরে আখ চাষ করেছেন কৃষক ইসরাইল হোসেন । তিনি জানান, আখের দাম বাড়ায় তারা খুশি। তার মতো অনেক চাষি ঝুঁকছেন আখ চাষে।

মিলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) গৌতম কুমার মণ্ডল জানান, চলতি রোপণ মৌসুমে ৫ হাজার একর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গত এক মাসে ২ হাজার ৫০ একর জমিতে চাষ হয়েছে। সামনে আরও এক মাসে প্রায় ১ হাজার জমিতে কৃষকরা আখ চাষ করবে বলে তাদের আশা। এ ছাড়া মাঠে দণ্ডায়মান ৩ হাজার একরের মধ্যে প্রায় ২ হাজার একর মুড়ি আখ থাকবে। সব মিলিয়ে আগামী ২০২৪-২৫ মাড়াই মৌসুমে আখ রোপণ ও চিনি উৎপাদন বাড়বে। কৃষকরা আখের মূল্য বেশি পাওয়ায় এ বছর চাষে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

মোবারকগঞ্জ সুগার মিল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০২২-২৩ মাড়াই মৌসুমে লাভক্ষতির কোনো হিসাব এখনও শেষ হয়নি। তবে ২০২১-২২ মাড়াই মৌসুমে মিলটির লোকসান হয়েছিল ৬৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর আগের বছর ২০২০-২১ আখ মাড়াই মৌসুমে মিলটি চিনি উৎপাদন করে ৭ হাজার ৮৬২ মেট্রিক টন। এই পরিমাণ চিনি উৎপাদন করতে মিলের লোকসান দিতে হয়েছে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা। 

মোবারকগঞ্জ চিনিকলের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের আইন ও দরকষাকষি সম্পাদক গোলাম রসুল জানান, কৃষকের আখের মূল্য আরও বাড়াতে হবে। আখের মূল্য বৃদ্ধি করলে কৃষকরা আখ চাষ করবে। মিলের প্রধান এবং একমাত্র কাঁচামাল আখ। সেই আখ চাষ বৃদ্ধি করা না গেলে মিল বাঁচানো যাবে না। 

মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, আখের দাম বৃদ্ধি করে ২২০ টাকা মণ করা হয়েছে। গত বছর ৩৫ হাজার মেট্রিক টন আখ পাওয়া গেছে। এ মৌসুমে ৫০ হাজার মেট্রিক টন আখ পাওয়া যাবে। ৬ হাজার একর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এই ভারী শিল্পটি।

প্রসঙ্গত, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহরে ১৯৬৫ সালে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৭ দশমিক ৯৩ একর নিজস্ব জমির ওপর নেদারল্যান্ডস সরকার মোবারকগঞ্জ চিনিকলটি স্থাপন করে। এর মধ্যে ২০ দশমিক ৬২ একর জমিতে কারখানা, ৩৮ দশমিক ২২ একর জমিতে কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক কলোনি, ২৩ দশমিক ৯৮ একর জমিতে পুকুর এবং ১০৭ একর জমিতে পরীক্ষামূলক ইক্ষু খামার রয়েছে। 

এ ছাড়া ১৮ দশমিক ১২ একর জমি জুড়ে রয়েছে সাবজোন অফিস ও আখ ক্রয়কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠাকালীন মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে ৬০ কর্মদিবস আখ মাড়াই চলে। লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় ১৯৬৭-৬৮ মাড়াই মৌসুম থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন শুরু করে। ঝিনাইদহের ৬ উপজেলা ছাড়াও যশোরের দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত মিলে আটটি জোনের আওতায় চাষযোগ্য জমির পরিমাণ রয়েছে সাড়ে ৩ লাখ একর। আখ ক্রয়কেন্দ্র রয়েছে ৪৮টি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা