হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:১৪ পিএম
আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)। আগামী বুধবার সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের সঙ্গে চুক্তি সই হবে। চুক্তি অনুযায়ী, ২২ বছরের জন্য পতেঙ্গা টার্মিনাল অপারেশনের দায়িত্ব পাবে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল। বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, বুধবার রেড সি গেটওয়ের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওইদিন সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হবে। সেই অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) সঞ্জয় কুমার বণিকও জানিয়েছেন, বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সোমবার বিকাল পর্যন্ত চূড়ান্ত অনুমোদন তাদের হাতে পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন সচিব ওমর ফারুক।
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র বলছে, চুক্তি স্বাক্ষর করার পরও রেড সি গেটওয়েকে চার মাস সময় দিতে হবে। এটা চুক্তিরই শর্ত, প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ দেওয়ার পর চার মাস সময় পাবে। এই চার মাসের মধ্যে তারা নিজেদের টাকায় হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট সংযুক্ত করবে। চুক্তি অনুযায়ী, রেড সি গেটওয়ে তিন ধরনের ফি দেবে বন্দর কর্তৃপক্ষকে। প্রথম চুক্তি স্বাক্ষরের সময় এককালীন বড় অঙ্কের একটি ফি দেবে। এরপর প্রতি টিইইউ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বিপরীতে একটা ফি দেবে এবং বার্ষিক একটা ফি দেবে প্রতিষ্ঠানটি।
জেটি স্বল্পতার কারণে জাহাজ বার্থিংয়ে গতি আনতে বঙ্গোপসাগরের কর্ণফুলী মোহনা থেকে একটু দূরে ড্রাইড্রক ও চট্টগ্রাম বোট ক্লাবের মাঝামাঝি ৩২ একর জায়গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। ১ হাজার ১৪৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকায় নির্মিত এই টার্মিনালটি ২০১৭ সালের ১৩ জুন প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের পর ২০১৯ সালের ডিসেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ওই সময় কাজ শেষ না হওয়ায় দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন মাসে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। এরপর অপারেটর নিয়োগ না হওয়ায় এখন পর্যন্ত পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর টার্মিনালটি বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজে অপারেট করবে নাকি সেখানে বাইরের অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে, এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা দেখা দেয়। পরে কন্টেইনার টার্মিনালটি চালু করতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় ‘ইকুইপ, অপারেট অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল’ প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন দেয় সরকার। একই সময় পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালসহ বন্দরের চারটি টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত ২৩ মার্চ অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি টার্মিনাল পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয়।
ওই সিদ্ধান্তের আলোকে সৌদি আরবের জেদ্দা ইসলামিক পোর্টের বৃহত্তম টার্মিনাল অপারেটর সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালকে (আরএসজিটি) পতেঙ্গা টার্মিনাল অপারেটের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিল্ড অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার (বিওটি) ভিত্তিতে পতেঙ্গা টার্মিনাল অপারেশনের কাজ পেতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ব্যাপারে একটি বিজনেস মডেল তৈরি করতেই ‘ইকুইপ, অপারেট অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল’ প্রকল্পের আওতায় ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনকে (আইএফসি) নিয়োগ দেওয়া হয়। ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর রেড সি গেটওয়ের সঙ্গে বৈঠক করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পরে আরও দুই দফা বৈঠক শেষে আগামী বুধবার চুক্তির ঠিক করা হয়।
এই টার্মিনালটি চালু হলে একসাথে তিনটি জাহাজ ভিড়তে পারবে। বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে পাঁচ লাখ টিইইউ। কমবে বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষার সময়। এছাড়া বাড়বে টার্মিনালটি বঙ্গোপসাগরে নিকটবর্তী হওয়ায় স্বল্প সময় ও স্বল্প ব্যয়ে জাহাজ আসা-যাওয়ার সুবিধা। সব মিলিয়ে এই টার্মিনাল চালু হলে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে ১৭ শতাংশ। বন্দরের বহরে যুক্ত হবে নতুন তিনটি জেটি। এর মধ্যে দুটি কন্টেইনার জেটি এবং একটি তেল খালাসের ডলফিন জেটি। কন্টেইনার টার্মিনালটিতে থাকবে মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, ফুয়েল স্টেশন স্বতন্ত্রভাবে চলতে সক্ষম এমন সকল সুযোগ-সুবিধা।