প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:৪৪ পিএম
আলুর বাজার। ছবি : সংগৃহীত
কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না আলুর দাম। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। ভারত থেকে আমদানি করা আলুও বাজারে প্রভাব ফেলেনি।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, এই বন্দর দিয়ে গতকাল শনিবার ৩টি ট্রাকে ১ হাজার ৪৮০ বস্তায় ৭৪ মেট্রিক টন আলু আমদানি হয়েছে। এসব আলু কেনা হয়েছে ২৯ টাকা কেজিদরে। খুচরা পর্যায়ে ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বন্দরের কর্মকর্তারা।
কয়েকদিন আগেও পুরোনো আলু পাওয়া গেছে ৪৫ টাকা কেজিদরে। যা গতকালের বাজারে ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
আমদানি করা আলু রাজধানীর বাজারে ধরনের প্রভাব ফেলছে কি না যাচাই করতে গতকাল শনিবার খিলক্ষেত ও কুড়িল মুক্তিযোদ্ধা কে. বি কাঁচাবাজারে সরেজমিনে ও ঠাঠারী বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়। দেখা যায়, বাজারগুলোয় আলুর দাম প্রায় সমান।
খিলক্ষেত কাঁচাবাজারে কথা হয় বিক্রেতা মাসুদুর রহমান ও কাজী বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে। মাসুদুর রহমান বলেন, নতুন আলু ৭০ টাকা কেজি ও হল্যান্ডের পুরাতন ও লাল আলু ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, এক সপ্তাহ ধরে আমাদের বাজারে আলুর দাম বাড়তির দিকে। এক মাস আগে আলুর দাম ৪০ টাকায় নেমে গিয়েছিল। বর্তমানে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। বেলায়েত হোসেন বলেন, কেউ ৫ কেজি আলু কিনলে ২৩০ টাকা রাখছি। এক কেজি কিনলে ৫০ টাকা।
কথা হয় বাজারে আসা ফাতেমা খাতুনের সঙ্গে। তিনি আড়াই কেজি আলু কিনেছেন ৫০ টাকা কেজি দরে। তিনি বলেন, শীতের সবজি বাজারে উঠলেও আলুর দাম কমছে না। ৫ কেজি আলু কেনার দরকার ছিল দাম বেশি দেখে আড়াই কেজি কিনলাম।
কুড়িল মুক্তিযোদ্ধা কে. বি কাঁচাবাজারের বিক্রেতা সিয়ামুল ইসলাম ও শহিদুল হকের সঙ্গে কথা হয়। সিয়ামুল বলেন, আলুর দাম আমাদের বাজারে তিন দিন ধরে বেড়েছে। কেন বেড়েছেÑ এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। শহিদুল হক বলেন, বুধবার ৪৮ টাকা কেজিতে আলু কিনেছি। কেজিতে ২ টাকা বেশিতে বিক্রি করছি। সেখানে গাড়িভাড়াও আছে। নতুন আলু বিক্রি করছি ৮০ টাকা কেজিতে।
ঠাঠারী বাজারের আলু বিক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরেই আলুর দাম বাড়তি। আমরা ৫০ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি করছি। কেন বাড়ল- জানতে চাইলে বলেন, বাজারে আলু পাওয়া যাচ্ছে না। শ্যামবাজারেও দাম বেশি। আমরা বাড়তি দামে কিনছি। কম দামে কীভাবে বিক্রি করব?
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২ নভেম্বর দিনাজপুরের হিলি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে আলু আমদানি শুরু হয়। ভারত থেকে প্রায় ৫০ হাজার টন আলু আমদানির অনুমতি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
গত ১৪ নভেম্বর থেকে রাজধানীর ৬০টি পয়েন্টের মধ্যে প্রতিদিন ৩০টি পয়েন্টে মোট ৯ হাজার ক্রেতার কাছে ৩০ টাকা কেজি দরে দুই কেজি করে আলু বিক্রি করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার রবিন্দ্র কুমার সিংহ জানান, প্রতি মেট্রিক টন আলু ১৮০ মার্কিন ডলারে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। আলু কেনা, এলসি খরচ এবং ডিউটিসহ প্রতি কেজি আলু আমদানিকারকের খরচ পড়ছে প্রায় ২৯ টাকা। বাজারে ৩০ থেকে ৩২ টাকায় সরবরাহ করা সম্ভব। দেশীয় বাজারে আলুর দাম অনেক কমে আসবে বলেও মনে করেন তিনি।
হঠাৎ আবারও কেন বাড়ল আলুর দাম, এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আলু নিয়ে অনেক কাজ করেছি, আপনারা সবই জানেন। এখন বাজারে নতুন আলু ওঠা শুরু হয়েছে। হয়তো অচিরেই দাম কমবে। এর চেয়ে বেশি এখন আর কিছু বলা যাচ্ছে না।