চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২২ ২২:০৬ পিএম
আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২২ ২২:১১ পিএম
খাতুনগঞ্জে পানি থেকে পেঁয়াজ সরাচ্ছেন শ্রমিক । ছবি: প্রবা
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের পানিতে দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে কয়েক হাজার দোকানে-আড়তে-গুদামে পানি ঢুকে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সিত্রাংয়ের প্রভাব ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের চেয়ে বেশি ছিল। কিন্তু সেটি আমরা খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা আঁচ করতে পারিনি। সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় দেখলাম পানি ঢুকতেছে। ১৫ মিনিট পর রাত পৌনে ১০টায় দেখি পুরো খাতুনগঞ্জ পানিতে সয়লাব।
‘দ্রুত পানি ঢুকে যাওয়ায় এবার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সময় পেলে ব্যবসায়ীরা মালামাল কিছুটা সরাতে পারতেন। পানি দ্রুত ঢুকে পড়ায় আমরা অনেকে সেই সুযোগ পাইনি। আড়তে পানি ঢুকে যাওয়ায় মালামাল ভিজে ব্যবসায়ীদের অন্তত হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, আগের রাতে গুদামে থাকা পণ্যের মধ্যে ভিজে যাওয়া পণ্য রোদে শুকানোর চেষ্টা করছেন শ্রমিকেরা। পেঁয়াজ, আদা, রসুন, চিনি, ছোলা, মটর, জিরাসহ নানা ধরনের পণ্য শুকাতে দেওয়া হয়েছে। কিছু পণ্য শুকানোর চেষ্টা হলেও চিনিসহ অন্য অনেক ধরনের পণ্য শুকানোর সুযোগ নেই। আবার সড়কে স্থান সংকটের কারণেও শুকানো যাচ্ছে না।
মেসার্স আল মারুয়া বাণিজ্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইউসুফ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তাদের আড়তে প্রায় ৩৫০ বস্তা চিনি ছিল। বস্তার নিচের সারির তিন লাইনে থাকা অন্তত ১০০ বস্তা চিনি নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। তিনি বলেন, অন্য সময় পানি উঠতে সময় নিত। এবার দ্রুত পানি ওঠায় চিনি সরানোর সুযোগই পাননি। মধ্যরাতে ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই পুরো খাতুনগঞ্জ এলাকা তলিয়ে যায়।
তিনি বলেন, খাতুনগঞ্জে প্রায় ২১ হাজার দোকান রয়েছে, যার অধিকাংশ তলিয়ে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাবে দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজারে কিছুটা পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
মারুল বাণিজ্যালয়ের মতোই খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, আসাদগঞ্জের অধিকাংশ আড়তে পানি ঢুকেছে। গুদামগুলোর সামনে দুই-তিন ফুট করে ইটের গাথুঁনি দিয়ে দেয়াল তৈরি করা হয়েছে। এই দেয়াল টপকে পানি প্রবেশ করেছে গুদামগুলোতে। ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ ক্ষতির কথা বললেও প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
সকালে খাতুনগঞ্জে ঢুকতেই দেখা যায়, শুক্কর সওদাগরের সাদা পাতার আড়ত থেকে পানি সেচে বাইরে ফেলছেন মনির হোসেন। তিনি বলেন, রাতে খাতুনগঞ্জে হাঁটু থেকে কোমরপরিমাণ পানি জমে যায়। নিচু এলাকার আড়তগুলোতে কোমরপরিমাণ পানি ঢোকে।
শুক্কর সওদাগরের আড়ত থেকে একটু সামনে গেলে হাতের বাম পাশে মেসার্স আকবর অ্যান্ড ব্রাদার্স। সোমবার রাতে মরিচ, হলুদ, ধনিয়া, জিরা, এলাচের ওই আড়তেও পানি ঢুকে যায়। সকালে সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, আড়তের ফ্লোরে পানি আছে। ফ্লোরে থাকা মরিচ, হলুদ ও ধনিয়ার বস্তার নিচের অংশ ভিজে গেছে। ভিজে যাওয়া ওই বস্তাগুলো সরানোর কাজ করছিলেন আড়তের মালিক মোহাম্মদ ইব্রাহীম। রাতে তার আড়তে হাঁটুপরিমাণ পানি ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, আড়তে পানি ঢুকে যাওয়ায় তার প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
মধ্যম চাক্তাই এলাকার মেসার্স নিউ রহমানিয়া ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সচরাচর তাদের গুদামে পানি ওঠে না। কিন্তু এবার তলিয়ে গেল। পানিতে প্রায় ৬০ বস্তা রসুন ভিজে গেছে।
প্রবা/টিকে