মেসবাহুল হক
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২২ ১৬:০২ পিএম
আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২২ ১৭:১৫ পিএম
ছবি : প্রবা
চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও ফেনীর সোনাগাজীতে ৩৩ হাজার একর জমিতে ৩০টি জোনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর গড়ে তোলা হচ্ছে। এ শিল্পনগরের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী জোন-৭ এলাকা সিটি সেন্টার বা বিজনেস হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাই এ অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ১৬৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ঋণ চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ-বেজা। ১ শতাংশ সুদে এ ঋণ চাওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বেজার চিঠিতে বলা হয়েছে—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের মহাপরিকল্পনা মোতাবেক প্রায় ৮৭০ একর আয়তনের জোন-৭ এলাকা সমগ্র শিল্পনগরের বিজনেস হাব হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এ এলাকা বিভিন্ন অফিস, ব্যাংক, বীমার শাখা, গাড়ি পার্কিং, ডিপার্টমেন্ট স্টোর, হোটেল ও স্বল্পপরিসরে আবাসিক কাজে ব্যবহৃত হবে। তাই ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরস্থ জোন-৭-এর মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৬৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ৭ আগস্ট প্রকল্পটির ওপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রকল্প যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভায় সরকারের কাছ থেকে ১ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তাই অর্থ বিভাগের কাছে এ ঋণের সম্মতি চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, প্রকল্প যাচাই কমিটির সভায় সরকারের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে তারা অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তবে অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি তারা যাচাই-বাছাই করে দেখছেন।
এদিকে ৪ হাজার ৩৭৪ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে চলছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। গত বছরের জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়নাধীন ওই প্রকল্পে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দেশের বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরকে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য দ্রুততম সময়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় শিল্পনগরের দুটি জোনকে সবুজায়ন করার পাশাপাশি আধুনিক সেবা সংযুক্ত করা হবে। দেশের বৃহত্তম এ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে বিশ্বের নামিদামি ব্র্যান্ডগুলোকে আকৃষ্ট করা এবং মানসম্পন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর উন্নয়ন’ শীর্ষক এ প্রকল্প হাতে নেয় বেজা।
এরপর গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি ৪ হাজার ৩৭৪ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক। এ প্রকল্পে ৩ হাজার ৯৬৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। চার বছরের এ প্রকল্পের কাজ ২০২৫ সালে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের কাজ দেরিতে শুরু হওয়া এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের অনুমোদন প্রাপ্তিতে বিলম্বের কারণে প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি-পিএসসির সভায় বেজার পক্ষ থেকে বলা হয়—প্রকল্পের বিভিন্ন ভৌত কাজের এনভায়রনমেন্ট সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট, ডিজাইন, সহনশীলতা পরীক্ষাসহ ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে বিশ্বব্যাংকের অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি ধীরে হচ্ছে। তাই কাঙ্ক্ষিত হারে অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে চলতি অর্থবছরে প্রকল্পের অনুকূলে এডিপিতে বরাদ্দকৃত ৯৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা অর্থের প্রয়োজন হবে।
সভায় আরও বলা হয়—উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব-ডিপিপির ক্রয় পরিকল্পনায় গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণকাজ ডেলিগেটেড কাজ হিসেবে বাস্তবায়ন করার বিষয়টি স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও বিশ্বব্যাংক থেকে এ ক্ষেত্রে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে প্রকল্পের ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে বিশ্বব্যাংকের অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির বিষয়টি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা করে সমাধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বেজা সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও ফেনীর সোনাগাজীতে ৩৩ হাজার একর জমিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর গড়ে তোলা হচ্ছে। নতুন এ প্রকল্পের আওতায় সেখানকার দুটি জোনের প্রায় ২ হাজার একর ভূমি উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক, টেলিকমিউনিকেশন, বিদ্যুৎ, পানির জন্য পৃথক নেটওয়ার্ক ও কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট-সিইটিপি স্থাপন করা হবে। ওয়ানস্টপ সার্ভিস ও একটি দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রও গড়ে তোলা হবে প্রকল্পের আওতায়। এ ছাড়া এনভায়রনমেন্টাল ল্যাব ও মনিটরিং সিস্টেম এবং বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ও বর্জ্য নিষ্কাশন সুবিধা তৈরির কাজ করা হবে। বিশ্বমানের সবুজ কারখানা স্থাপনের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে এ শিল্পনগর।
প্রবা/এসজি/জেও