প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০২৩ ২১:০৬ পিএম
আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৩ ২১:৩৯ পিএম
প্রবা ফটো
আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ৩০টি ট্রাকে করে সাশ্রয়ী মূল্যে সয়াবিন, ডাল, আলু ও পেঁয়াজ বিক্রি করবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ফ্যামিলি কার্ডধারীর বাইরে থাকা মানুষ এসব পণ্য কিনতে পারবে।
প্রতি কেজি আলু ৩০, পেঁয়াজ ৫০, মসুর ডাল ৬০ এবং সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা দরে বিক্রি করা হবে। একজন ক্রেতা এসব পণ্য সর্বোচ্চ দুই কেজি করে কিনতে পারবেন। পণ্য সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে ট্রাকসেলের সংখ্যা বাড়ানো হবে। সোমবার (১৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমরা আমদানি উন্মুক্ত করে দিয়েছি। খাদ্যপণ্য আমদানিতে এলসি খুলতে ডলারের যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে।’
কয়েক মাস আগে রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য শহরের দরিদ্র মানুষের জন্য বেশকিছু পণ্য ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহের প্রস্তাব করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান।
সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভর্তুকি মূল্যে আলু, তেল, ডাল ও পেঁয়াজ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এটি খুবই সময়োচিত সিদ্ধান্ত। সারা দেশেই খাদ্য মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে বিরাজ করছে। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইনফরমাল বা অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত গরিব ও কম আয়ের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা বেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এই কর্মসূচি এসব মানুষের জন্য খাদ্য সরবরাহের পরিমাণ বাড়াবে।’ তিনি বলেন, ‘আমার প্রস্তাব থাকবে এই কাজে নিয়োজিত ট্রাকের সংখ্যা আরও যেন বাড়ানো হয়। এই সংকটকালে এই কর্মসূচির প্রসার সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আকার বাড়াতে সাহায্য করবে।
উল্লেখ্য, গ্রামের মূল্যস্ফীতির হার আরও বেশি। তাই ঢাকার বাইরে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এই কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে সরকারের সামাজিক দায়বদ্ধতার ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে। শুধু খেয়াল রাখতে হবে যে, যারা সত্যি সত্যি খাদ্যনিরাপত্তা সংকটে রয়েছেন তারাই যেন এই সামাজিক দায়বদ্ধ সুরক্ষার সুবিধা বেশি বেশি পান। তাই উপযুক্ত তালিকা করার কোনো বিকল্প নেই।’