প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০২৩ ২০:৫৮ পিএম
আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৩ ২১:১৬ পিএম
ফাইল ফটো
দেশের তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে ক্রেতাদের সহযোগিতা চেয়েছে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটি আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনকে (এএএফএ) একটি চিঠির মাধ্যমে এ সহযোগিতা চেয়েছে। গতকাল সোমবার বিজিএমইএ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এএএফএর সভাপতি স্টিভেন ল্যামারের উদ্দেশে লেখা ওই চিঠিতে সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, নতুন মজুরি বাস্তবায়নে ক্রেতাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে যেসব পণ্য জাহাজিকরণ করা হবে, নতুন মজুরির আলোকে তার মূল্য সমন্বয় করা প্রয়োজন। এ ছাড়া এখন থেকে যত ব্যবসায়িক চুক্তি করা হবে, তা এই নতুন ন্যূনতম মজুরির সাপেক্ষে করতে হবে বলে উল্লেখ করেন বিজিএমইএ সভাপতি। ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে, সেই প্রত্যাশাও করেন ফারুক হাসান।
স্টিভেন ল্যামারের প্রতি ফারুক হাসানের অনুরোধ, তিনি যেন এএএফএর সদস্যদের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেন, যেন তারা যথাযথ একাত্মতার সঙ্গে বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের বিষয়টি বিবেচনা ও তাদের সহযোগিতা করেন।
গত ৮ নভেম্বর এএএফএর সভাপতি স্টিভেন ল্যামারের উদ্দেশে লেখা ওই চিঠিতে বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান জানান, সরকার গত ৭ নভেম্বর গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ২০২৩ সালের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করেছে। ন্যূনতম মজুরি বোর্ড কর্তৃক পেশ করা প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ঘোষণাটি আসে এবং শ্রমিকপক্ষ ও নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধিসহ অংশীদারদের সম্মতিতেই এটি গৃহীত হয়েছে বলে চিঠিতে জানানো হয়। নতুন ন্যূনতম মজুরি নীতি অনুযায়ী, সপ্তম গ্রেডের শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ টাকা, যা ১১৩ দশমিক ৬৩ মার্কিন ডলারের সমতুল্য। শ্রমিকদের মোট মজুরি বেড়েছে ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। এবার শ্রমিকদের মূল মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে মোট মজুরির ৬৩ দশমিক ৪১ শতাংশ।
বিষয়টি সম্পর্কে এএএফএকে বিজিএমইএ আগেই অবহিত করেছিল। গত সেপ্টেম্বরে এক চিঠিতে বিজিএমইএ ডিসেম্বর থেকে যেসব পোশাক উৎপাদিত হবে, ক্রয়াদেশের বিপরীতে সেগুলোর দাম যৌক্তিকভাবে বাড়াতে মার্কিন ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত ২৭ জুলাই একটি চিঠি দেন এএএফএর সভাপতি স্টিভেন ল্যামার। সেই চিঠিতে তিনি শ্রমিক নেতা শহীদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত শাস্তির দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকের জন্য ন্যায্য মজুরি নির্ধারণেরও অনুরোধ জানান। পোশাকশ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধি, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের উন্মুক্ত সংলাপেরও দাবি জানিয়েছিল এএএফএ।