প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:০৯ পিএম
আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:৪১ পিএম
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে স্মার্ট ফ্যামেলি কার্ডের বিপরীতে পণ্য নিতে সুবিধাভোগীদের ভিড়। ছবি : আলী হোসেন মিন্টু
প্রতি মাসে ন্যায্যমূল্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কার্ডধারীদের মধ্যে পণ্য বিতরণ করে থাকে। এসব পণ্যের পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সুবিধাভোগীরা। তারা বলছেন, যে পরিমাণ পণ্য দেওয়া হয় তা দিয়ে একটি পরিবারের এক মাস চলে না। ৫/৬ সদস্যের একটি পরিবারের পুরো মাসের জন্য পণ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ করার দাবি তাদের। বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমান একটি কার্ডের বিপরীতি ২ কেজি তেল, ২ কেজি মসুর ডাল, ৫ কেজি চাল ও এক কেজি চিনি দেয় টিসিবি।
বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পিডব্লিউডি কোয়ার্টার হলে স্মার্ট ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ ও চালসহ টিসিবি পণ্য বিক্রি কার্যক্রম নভেম্বর ২০২৩-এর উদ্বোধন করা হয়। পণ্য নিতে এসে নিজেদের দাবির কথা তুলে ধরেন কার্ডধারীরা।
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, ওয়ার্ডটির কাউন্সিলর মামুন রশিদ শুভ্র ও মেসার্স জে কে ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী মনির হোসেন জমাদ্দার।
টিসিবির পণ্য নিতে এসে শান্তিবাগ এলাকার স্মার্ট কার্ডধারী শাহজাহান খান বলেন, একটি পরিবারে ৫/৬ জন মানুষ থাকে। তাদের জন্য ২ কেজি তেল, ২কেজি মসুর ডাল, ৫ কেজি চাল ও এক কেজি চিনি এসব কিছুই না। তবে এগুলো পেয়ে কিছুটা উপকার হচ্ছে। যদি এর পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয় তাহলে একটি পরিবার ভালোভাবে চলতে পারতো। আশাকরি আগামীতে সরকার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবে।
তিনি বলেন, পুরো প্যাকেজটিতে ৫৪০ টাকা দিতে হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊগতির বাজারে এসব পণ্য পেয়ে আমাদের কিছুটা হলেও উপকার হচ্ছে।
মনোয়ারা বেগম বেগমনামের এক কার্ডধারী বলেন, আমার পরিবারে ৫ জন সদস্য। স্বামী মারা গেছেন। এসব পণ্যের পরিমাণ বাড়ালে কষ্ট কিছুটা কম হতো।
প্রতি মাসে চিনি দেওয়ার দাবি জানিয়ে কেয়া আক্তার বলেন, বর্তমানে চিনি ও পেঁয়াজের দাম বেশি। চালের দাম বাজারে কমই আছে।
দুই বছরের বাচ্চা নিয়ে পণ্য নিতে এসেছেন সালমা বেগম। তিনি বলেন, তার পরিবারে ৪ জন সদস্য। পণ্যের পরিমাণ বাড়ানো দরকার।
আসমা আক্তার নামে অপর কার্ডধারী বলেন, বর্তমানে পেঁয়াজের দাম দেড়শ টাকা, চিনির দাম ১৪০ টাকা। সরকার যদি এসব পণ্য দিতো তাহলে ভালো হয়। এই অল্প পরিমাণ পণ্য পাওয়ার পর আমাদেরকে দোকানে যেতেই হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে টিপু মুনশি বলেন, বর্তমানে দেশে ৫ কোটি মানুষ এ কার্ডের মাধ্যমে সুবিধা পাচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যে আরও ১ কোটি কার্ড দেওয়া সম্পন্ন হবে। এজন্য কোনো ধরনের অর্থ দিতে হবে না।
পেঁয়াজের সংকট নিয়ে বলেন, আমাদের বছরে ২৪ লাখ টন পেঁয়াজ দরকার হয়। সেখানে ৮ লাখ টন আমদানি করতে হয়। বর্তমানে ভারতের নানা ধরনের বিধিনিষেধের কারণে দেশটি থেকে এক কেজি পেঁয়াজ আমদানি করতে ১০০ টাকার বেশি ব্যয় হয়। আগামী দেড় মাসের মধ্যে নতুন জাতের পেঁয়াজ বাজারে চলে আসবে। আশাকরি তখন দাম কমে আসবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এ পর্যন্ত ৬৮ হাজার টন আলু দেশে আমদানি হওয়ায় দাম কমা শুরু হয়েছে। তা ছাড়া ডিম আমদানির কথা শুনে এক টাকা, এক টাকা করে দাম কমছে।
পাকিস্তানের দোসর ও অসাধু ব্যবসায়ীরা সব সময় দাম বাড়িয়ে মানুষকে কষ্টে ফেলছে বলেও মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
শেখ ফজলে নুর তাপস বলেন, ১২ নং ওয়ার্ডে ৯ হাজার কার্ড দেওয়া হয়েছে। আর পুরো ঢাকা মহানগর দক্ষিণে এ পর্যন্ত ৭লাখ কার্ড বিতরণ করেছে। কোথাও কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
টিসিবির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট লাগব হলেও মধ্যবিত্তদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। মানুষকে প্রশান্তি দিতে না পারলে সব উদ্যোগ ভেস্তে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তাপস বলেন, বিএনপিসহ যারা আগুন সন্ত্রাসে জড়িত তাদেরকে বলবো সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোন পথ নেই। ছাড় দিয়ে হলেও দেওয়া হবে। তবু বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে হবে।
তপন কান্তি ঘোষ বলেন, নতুন কার্ডধারীরা এসব কার্ড দিয়ে পণ্য কিনবেন। আর যারা নতুন কার্ড পায়নি তারা পুরাতন কার্ড দিয়ে পণ্য কিনতে পারবে।