প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৩ ২১:৪৬ পিএম
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৩ ২১:৫১ পিএম
হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদের হাতে বঙ্গবন্ধু রপ্তানি ট্রফি তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। প্রবা ফটো
শুধু গার্মেন্টস শিল্পের ওপর নির্ভর না করে রপ্তানির জন্য পণ্যের বহুমুখীকরণের তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। আর এটি করা সম্ভব হলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ২০২০-২১ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, শুধু রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্পের ওপর নির্ভর করা যাবে না। রপ্তানিযোগ্য আরও অনেক পণ্য আছে। যত বেশি পণ্য আমাদের রপ্তানিতে অন্তর্ভুক্ত হবে, তত বেশি দেশে রপ্তানি করা যাবে। সার্বিক বাণিজ্যের কলেবর ততই বৃদ্ধি পাবে। নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশ সমৃদ্ধি লাভ করবে।
তিনি বলেন, আমাদের রপ্তানি এখনও তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশকিছু নতুন পণ্য ও সেবা আমাদের রপ্তানির ঝুড়িতে সংযোজিত হয়েছে। এসময় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সকল ব্যবসায়ীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
স্বর্ণ ট্রফির মধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফি’ পেয়েছে সেরা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রিফাত গার্মেন্টস লিমিটেড। তৈরি পোশাক (ওভেন) খাতে রপ্তানি ট্রফি পেয়েছে স্নোটেক্স আউটারওয়্যার লিমিটেড, নিটওয়্যার খাতে পেয়েছে ফ্ল্যামিংগো ফ্যাশনস লিমিটেড। সব ধরনের সুতা খাতে স্বর্ণ ট্রফি পেয়েছে বাদশা টেক্সটাইল লিমিটেড। টেক্সটাইল ফেব্রিক্স খাতে পেয়েছে হা-মীম ডেনিম লিমিটেড। একইভাবে খাতওয়ারি মোট ২৮টি প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণ ট্রফি দেওয়া হয়।
এরপর পোশাক খাতের (ওভেন) প্রতিষ্ঠান একেএম নিট ওয়্যারকে রৌপ্য ট্রফি দেওয়া হয়। একই ট্রফি দেওয়া হয় পোশাক খাতে (নিটওয়্যার) প্রতিষ্ঠান জিএমএস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, স্কয়ার টেক্সটাইল পিএলসি, এনভয় টেক্সটাইল লিমিটেড এবং মমটেক্স এক্সপো লিমিটেডসহ মোট ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে।
এ ছাড়াও তারাশিমা অ্যাপারেলস লিমিটেড, লিবার্টি নিটওয়্যার, এনজেড টেক্সটাইল এবং আকিজ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডসহ ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে ব্রোঞ্জ ট্রফি দেওয়া হয়।
জ্ঞানভিত্তিক একটি উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্যের উত্তরোত্তর উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে টিপু মুনশি বলেন, বৈশ্বিক সকল প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্ব বাণিজ্যে টিকে থাকার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, পণ্যের মান উন্নয়ন এবং রপ্তানি তালিকায় নতুন নতুন পণ্য যুক্ত করতে হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ.এইচ.এম আহসান।
উল্লেখ্য, ২০২০-২১ অর্থবছরের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের ভিত্তিতে সেরা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ ২৮টি পণ্য ক্যাটাগরিতে ৭৩টি প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি প্রদান করা হয়। সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফি প্রদান করা হয়।