প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:৪৪ পিএম
বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে প্রতিবছরই ঋণ নেয় সরকার। কখনও প্রথাগত বাণিজ্যিক ব্যাংক আবার কখনও বাংলাদেশে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে থকে। তবে এখন ঋণ চাহিদার পুরোটাই নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নিচ্ছে সরকার। এতে করে সরকারের ব্যাংকঋণের সুদহার দ্রুত বাড়ছে। ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদ উঠেছে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশে। দুই সপ্তাহের মধ্যেই এ হার ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে। ১০ দশমিক ৫০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে ট্রেজারি বন্ডের সুদহার।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আইএমএফের শর্ত পালনে বাজারে সুদহার বাড়ানোর এ পথ বেছে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যার প্রভাবে ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ও ঋণের সুদহার বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ২ হাজার ৫৩০ কোটি ডলার বিক্রির বিপরীতে বাজার থেকে উঠে এসেছে ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। বাজারে তারল্য বাড়াতে সরকারের ঋণ চাহিদার বেশিরভাগই সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরবরাহ করা হয়। সর্বশেষ গত ২ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারকে সরাসরি ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা ঋণ দেয়। এভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি ঋণ মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে- এমন সমালোচনার মুখে আপাতত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ বিতরণ থেকে বিরত রয়েছে।
এদিকে আইএমএফ ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সুদহার ও বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করাসহ বিভিন্ন শর্ত দিয়েছে। শর্ত মেনে গত জুনে ৯ শতাংশ সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা তুলে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ছয় মাসের গড় সুদের (স্মার্ট) সঙ্গে সাড়ে ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করে সুদহার নির্ধারণ করছে ব্যাংকগুলো। এ ব্যবস্থা পুরো বাজারভিত্তিক না হলেও আগের মতো নির্দিষ্ট নয়। আইএমএফ প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরে আসার প্রথম দিন গত ৪ অক্টোবর নীতি সুদহার ৭৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসের স্মার্ট রেট ছিল ৭ দশমিক ২০ শতাংশ। এর মানে চলতি মাসে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে পারছে। সিএমএসএমইতে সুদহার আরও ১ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের তিনটি নিলাম হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ অক্টোবরের নিলামে সুদহার ওঠে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। ২ অক্টোবরের নিলামে যা ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। গত মাসে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের গড় সুদহার ছিল সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। গত বছরের এ সময়ে যা সাড়ে ৬ শতাংশের নিচে ছিল। অন্য সব বিল, বন্ডের সুদহারও এভাবে বাড়ছে। গত ১৮ অক্টোবর ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদ উঠেছে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ। গত মাসে যা ছিল ৯ দশমিক ২০ শতাংশ। এক বছর আগের এ সময়ে ছিল মাত্র ৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।
প্রসঙ্গত নতুন পদ্ধতিতে সুদের হার চালু করার পর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধীরে ধীরে বাড়ছে ঋণের সুদহার। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের পর ঋণের সুদ হার বেড়েছে অক্টোবর মাসেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে সুদহারের নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এর আগে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ব্যাংকঋণে সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ৯ শতাংশ। প্রতি মাসেই স্মার্ট রেট প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর সঙ্গে সাধারণভাবে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৫ শতাংশ সুদ যোগ করতে পারবে।
তবে কৃষিঋণে স্মার্টের সঙ্গে যোগ করা যাবে ২ শতাংশ। এতে করে কৃষিঋণে সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৯ দশমিক ১৪ শতাংশ। আর সিএমএসএমই, ব্যক্তিগত ও গাড়ি কেনার ঋণে অতিরিক্ত ১ শতাংশ তদারকি বা সুপারভিশন চার্জ নেওয়া যাবে।
সেই হিসেবে চলতি অক্টোবর মাসে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ২০ শতাংশ সুদ নিতে পারবে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ হারে মার্জিন যোগ করে ঋণের বিপরীতে সুদ নিতে পারবে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এনবিএফআই। তাদের সর্বোচ্চ সুদহার হবে ১২ দশমিক ২০ শতাংশ এবং আমানতে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ। তবে অক্টোবরে ঠিক করা ঋণের এই সুদহার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিবর্তন করা যাবে না।