প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:১৩ পিএম
চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা, যা নির্ধারণ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। অর্থ বিভাগের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হলেও এটি অর্জন করা ‘অসম্ভব’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইএমএফের কাছে এই অসম্ভব রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এনবিআর।
গতকাল মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের সঙ্গে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের বৈঠক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অতিরিক্ত ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। এর মধ্যে আয়কর খাতে ৯ হাজার ১০০ কোটি টাকা, ভ্যাট থেকে ৩ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা ও ১১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা কাস্টমস খাতে আদায় করা হবে।
শুল্ক বিভাগের পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে পেট্রোবাংলার বকেয়া ৮ হাজার ৮০২ কোটি টাকা আদায়। এ ছাড়া আমদানি পর্যায়ে শুল্কহার পরিবর্তন ও অন্যান্য পদক্ষেপের মাধ্যমে বাকি টাকা আদায় করতে চায় তারা। আয়কর বিভাগ ভূমি রেজিস্ট্রেশন, ভ্রমণ কর, টোব্যাকো কর, পরিবেশ সারচার্জ, করের পরিধি বৃদ্ধি, কার্বোনেটেড বেভারেজ ও বকেয়া কর আদায়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায় করবে। ভ্যাট বিভাগ সিগারেটের করহার বৃদ্ধি, মোবাইল ফোন, পলিপ্রোপাইলিন স্ট্যাপল ফাইবার, বল পয়েন্ট কলম, সফটওয়্যার, এলপিজির অব্যাহতি উঠিয়ে ও ইএফডি মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে অতিরিক্ত লক্ষ্য পূরণ করবে।
যদিও বকেয়া আদায়ে এনবিআরের অদূরদর্শিতা, ভূমি রেজিস্ট্রেশনে কর আদায় কমে যাওয়া, করের পরিধি বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পিত নকশা না থাকা, বিভিন্ন পর্যায়ে অব্যাহতি তুলে টাকা আদায়ের সঠিক কৌশল প্রণয়নে ব্যর্থতার ফলে এই লক্ষ্য পূরণ হওয়া নিয়ে আইএমএফ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের পরিসংখ্যান বলছে, রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের কৌশল কাজ করছে না।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ শতাংশের সামান্য বেশি, আর গত পাঁচ বছরে ছিল ১১ শতাংশের কাছাকাছি। তবে কোনো বছরই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। এর মধ্যে করোনার অর্থবছর ২০২০-২১ এ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। চলতি অর্থবছর এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা আদায় নিয়েও সংশয় রয়েছে।
সম্প্রতি আইএমএফের তৈরি করা প্রেজেন্টেশনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায়ের নির্ধারিত লক্ষ্য ছিল ৬১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। তবে এনবিআরের পরিসংখ্যানে এখনও অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের তথ্য নেই। প্রথম দুই মাসের তথ্যমতে, আগস্ট মাস পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৪৬ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে সেপ্টেম্বরে ১৫ হাজার কোটি টাকা আদায় হলেই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব।
আইএমএফের লক্ষ্য পূরণ করে কর জিডিপি অনুপাত শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়াতে হলে এনবিআরের আয়কর, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ও কাস্টমস খাতে ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে ৯ হাজার ১০০ কোটি টাকা আয়কর খাতে, ৩ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা ভ্যাট খাত থেকে ও ১১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা কাস্টমস খাত থেকে বাড়তি আদায় করতে হবে। এ টাকা কর জিডিপি অনুপাতের শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ।