× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বৈদেশিক সম্পর্ক

আলোচনায় বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা

এম আর মাসফি

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৩ ০৯:০২ এএম

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৩ ১৭:৩৭ পিএম

আলোচনায় বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে গত ২৪ মে ভিসানীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। ঘোষণার চার মাসের মাথায় দেশটির পক্ষ থেকে সেটা প্রয়োগ শুরুর কথাও জানানো হয়েছে। রাজনীতিকসহ কয়েকটি শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার পর সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যেমন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে কিছুদিন ধরে এ নিয়ে ব্যাপক গুজবও ছড়ানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, শুধু ভিসানীতি প্রয়োগ করেই থামবে না যুক্তরাষ্ট্র, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে এ দেশের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করতে পারে তারা। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, এই নিষেধাজ্ঞায় ইউরোপীয় ইউনিয়নও যুক্ত থাকতে পারে বলে আলোচনা হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের নানা উইং থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমনকি সভা-সমাবেশেও এ ব্যাপারে কথা বলা হচ্ছে। বিষয়টি সরকার নাকচ করে দিলেও উদ্বেগ কিন্তু তাদের মধ্যেও আছে। বিশেষ করে তলে তলে এই উদ্বেগ ব্যবসায়ী সমাজে বেশি ছড়িয়েছে। 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম সম্প্রতি এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আসার কোনো আশঙ্কা নেই। মূলত মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করতে এটা প্রচার করা হয়েছে। সেই ভয়ভীতি কাজে লাগিয়ে একটা গোষ্ঠী ফায়দা লুটতে পারে।’ 

তবে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা সরাসরি না এলেও ভিন্ন কৌশলে এ রকম কিছু আসার শঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। সম্প্রতি লন্ডনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মতো না হলেও অন্যভাবে বাংলাদেশের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক রাষ্ট্রেরই একটি কৌশল আছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও আছে। তারা হয়তো অন্যদিকে করবে। এমন নয় যে তাদের নিষেধাজ্ঞাও যুক্তরাষ্ট্রের মতো হবে।’

যোগাযোগ করা হলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহাবুবুল আলম জানিয়েছেন তিনি দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আসার কোনো আশঙ্কা দেখছেন না। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যবসায়ী যদি রাজনীতি করেন। তার কোনো কর্মকাণ্ডে যদি নিষেধাজ্ঞা আসে সেটা ভিন্ন কথা। ব্যবসা-বাণিজ্যে কেন নিষেধাজ্ঞা আসবে? আমি মনে করি না, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আসবে।’

অন্যদিকে রাজনৈতির বিশ্লেষক ও বিশিষ্টজনরা মনে করেন, আশঙ্কা যা-ই থাকুক না কেন বাংলাদেশের উচিত হবে না বিদেশিদের সেটা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়ার। তাদের মতে, ‘আমাদের রাজনৈতিক সংকট আমাদেরকেই সমাধান করতে হবে। আলোচনায় বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এজন্য কার্যকর সংলাপের বিকল্প নেই।’ 

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার গতকাল সোমবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে এগুলো গুজব, কেউ নিশ্চিত না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি যেহেতু সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঘোষণা করা হয়েছে, তাই সমাধানের উপায়টা আমাদের কাছেই আছে। যদি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক বিশুদ্ধ নির্বাচন হয় তাহলে কোথাও কোনো প্রভাব পড়বে না। কিন্তু যদি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন না হয় তাহলে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। এতে তাদের কাছে আমাদের কূটনৈতিক গুরুত্ব কমে যেতে পারে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘যে নিষেধাজ্ঞা আসে নাই সেটা কেন আমরা আগ বাড়িয়ে ডেকে আনতে যাব। এ ধরনের আশঙ্কা থেকে দূরে থাকার রাস্তা হচ্ছে, বিপদমান কর্তৃপক্ষগুলো যাতে ঝুঁকিটা বুঝতে পারে। যাতে তারা দেশের স্বার্থটা মাথায় রাখে। কেউ যাতে দেশের স্বার্থের ওপরে দলের স্বার্থকে প্রাধান্য না দেন। কোনোভাবেই দেশের স্বার্থকে নষ্ট করা যাবে না।’

যে কারণে উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, রাজনীতিবিদদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তেমন সাড়া না পাওয়ায় এবার ব্যবসা-বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ তৈরি করা হলে বাজারে দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে। ব্যবসায়ীরা চাপে পড়লে শিল্প-কারখানা বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যার প্রভাব সরাসরি সাধারণ জনগণের ওপর পড়তে পারে। ফলে সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে বাধ্য হবে।

সম্প্রতি এ রকম একটি অনুমানের কথা বলেছেন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। একটি বেসরকারি টেলিভিশনে তিনি বলেছেন, ‘দেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পক্ষ থেকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। সেটা আসার সম্ভাবনা প্রবল। আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি সেটা আরোপ করেই তাহলে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার হয়ে যাবে। তার ফলে যে অ্যাপারেল বা আমাদের রেডিমেড গার্মেন্টস সেক্টর আছে সেটা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।’

দেশের অর্থনীতিবিদরা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এখনই কিছু বলতে নারাজ। তারা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা যদি আসে, তাহলে সেটার ধরন দেখে বলা যাবে কেমন প্রভাব পড়বে। যদি কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসে তাহলে এক রকম হবে। আবার যদি সব পণ্য রপ্তানির ওপরেই নিষেধাজ্ঞা আসে তাহলে অন্য রকম হবে। 

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘যেহেতু দেশের ব্যবসা বাণিজ্যে এখনও কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র, তাই আগ বাড়িয়ে এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।’ 

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনও বিষয়টি নিয়ে আগাম মন্তব্য করার পক্ষপাতী নন। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার ধরনের ওপর নির্ভর করবে তার কেমন প্রভাব পড়বে। যদি কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় তাহলে এক রকম হবে। আবার যদি সব পণ্য রপ্তানির ওপরেই নিষেধাজ্ঞা দেয় তাহলে অন্য রকম হবে।’ 

বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন নিষেধাজ্ঞা এলেও সেটা পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা হবে না। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সব নাগরিকের জন্য কিন্তু ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এলেও সেটা পুরো দেশের জন্য না হয়ে দায়ী বা অভিযুক্ত ব্যবসায়ী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য হতে পারে। এক্ষেত্রে তারা উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতির বিষয়টি সামনে এনেছেন। 

বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। তাতে বলা হয়েছে, নতুন নীতির আওতায় বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বাংলাদেশিদের ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের কয়েকটি ধারা অনুযায়ী নতুন যে ভিসানীতি ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, সরকার সমর্থক এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এক বিবৃতিতে নতুন ভিসানীতির ওই ঘোষণা দেন। পরে বিবৃতিটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনেও বাংলাদেশের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি চালুর বিষয়টি তুলে ধরেন।

চিন্তিত নন ব্যবসায়ী নেতারা

যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আসবে না বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, ‘বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আসবে না। কারণ তাদেরও তো পণ্যের প্রয়োজন আছে। তারা নিজের স্বার্থেই নিষেধাজ্ঞা দেবে না। আর দিলেও আমাদের বিকল্প বাজার তৈরি হচ্ছে।’ 

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে জানতে চাইলে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা মনে করছি না যে দেশে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আসবে। ভিসা নিয়ে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে সেটা রাজনীতিবিদদের ওপর। আর এলেও আমাদের বিকল্প বাজার তৈরি হচ্ছে। যদিও আমাদের পণ্যের বড় বাজার ইউরোপ-আমেরিকা।’

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আসবে না। গত মাসের রপ্তানির চিত্রে আপনারা দেখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সব দেশেরই রপ্তানি ঋণাত্মক। সেক্ষেত্রেও আমাদেরই সবচেয়ে কম। তাদেরও তো পোশাকের প্রয়োজন আছে। চায়না থেকে নেবে না। তাহলে অন্য কোথাও থেকে তো তাদের নিতে হবে।’

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় যা হয়

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তরের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যখন কারও ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে, সেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা দেশের সঙ্গে তাদের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনো রকম লেনদেন বা সম্পর্ক রক্ষা করতে পারে না। যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশও করতে পারে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞা তাদের বন্ধু দেশগুলো মানতে বাধ্য নয়। কিন্তু কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি বা অস্ট্রেলিয়ার মতো যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অনুসরণ করে থাকে।

কয়েকটি আলোচিত নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময় দেশ হিসেবে ইরান, উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া, কিউবা, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে দেশ ভেদে এসব নিষেধাজ্ঞার প্রকৃতি আলাদা। ইরান, উত্তর কোরিয়া, কিউবা, ভেনেজুয়েলা এবং সিরিয়ার ওপর ব্যাপক আকারে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে এসব দেশের সরকার বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠান কোনো রকম লেনদেন বা বাণিজ্য করে না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, এমন কোনো দেশ ইরান থেকে তেল কিনতেও পারে না। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বা ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি একপ্রকার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।

এ ছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী এবং মাদকবিরোধী নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিভিন্ন দেশের একাধিক ব্যক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বা সহযোগী দেশগুলোতে থাকা সম্পদ জব্দ করার পাশাপাশি তারা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে পারেন না।

সম্প্রতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার অভিযোগে চীনের ৪২ কোম্পানিকে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় যুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কোম্পানিগুলো ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ও মিসাইল গাইডেন্স সিস্টেম রাশিয়ার কাছে সরবরাহ করছে বলে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অভিযোগ। চীনা কোম্পানি ছাড়াও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, ভারত, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠানের নাম। দেশটির বাণিজ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যালান এস্তেভেজ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীকে সহায়তা করা হলে নিষেধাজ্ঞা আরোপে দ্বিধা করা হবে না। প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানেই অবস্থিত হোক।’

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ম্যাথিউ এক্সেলরড জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত প্রযুক্তি পণ্য রাশিয়ার কাছে বিক্রি করে। ফলে তাদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি পণ্য রাশিয়ার সামরিক খাতে ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তিনি বলেন, ‘‌নতুন নিষেধাজ্ঞার একটি স্পষ্ট বার্তা হলো, কেউ যদি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা খাতকে মার্কিন প্রযুক্তি সরবরাহ করে; তাকে খুঁজে বের করা হবে। নেওয়া হবে যথাযোগ্য ব্যবস্থা।’

এর জবাবে চীন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ অর্থনৈতিকভাবে নিপীড়নের শামিল। তাদের উচিত হবে ভুল শুধরে নিয়ে অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেওয়া।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা