চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৩ ১৬:২৫ পিএম
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৩ ১৭:০২ পিএম
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সক্ষমতা কোথায় সেটি আমরা বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছি। পদ্মা সেতু তৈরির মধ্য দিয়ে সমগ্র পৃথিবী দেখেছে যে, বাংলাদেশের সক্ষমতা কোথায় গিয়েছে। আমরা মেরিটাইম সেক্টরে জানিয়ে দিতে চাই, আমাদের সক্ষমতা কতটুকু। আমরা মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দও করছি, পায়রা সমুদ্র বন্দর করেছি। মোংলা বন্দর আপগ্রেডেশন করছি, আমাদের বে-টার্মিনালের কার্যক্রম অনেকদূর এগিয়ে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের অগ্রগতি আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। এগুলো হলো আমাদের সক্ষমতা, এই মেরিটাইম সক্ষমতাকে আমরা আরও অনেক দূর এগিয়ে নিতে চাই।’
রবিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে চারটি কি-গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইয়ার্ডে ২৪টি নতুন ইক্যুইপমেন্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েলের সভাপতিত্বে এনসিটি ইয়ার্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তফা কামাল।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেরিটাইম বাদ দিয়ে উন্নত বাংলাদেশ সম্ভব নয়। পুরো পৃথিবী নৌপরিবহনের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন সমগ্র পৃথিবী জয় করার একমাত্র মাধ্যম হলো মেরিটাইম। তাই সরকার মেরিটাইম খাতে গুরুত্ব দিচ্ছে।
এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশ-বিদেশ নয়, আমরা বিশ্বের সঙ্গে থাকতে চাই। বিশ্বের যেকোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যদি কাজ করতে চায় আমরা তাদের স্বাগত জানাব।’
বিদেশি অপারেটরদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে অনেকগুলো প্রস্তাব আছে। বিশ্বের জনপ্রিয় যেসব অপারেটর আছে তারাও আমাদের কাছে প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। আমরা চট্টগ্রামের স্বার্থ, চট্টগ্রামবাসীর স্বার্থ এবং দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করেই তাদের সঙ্গে এই কার্যক্রমে যুক্ত হব।’
এর আগে মন্ত্রী এনসিটি টার্মিনালে সংযুক্ত ২৪টি নতুন যন্ত্রপাতির উদ্বোধন করেন।
নতুন স্থাপন হতে যাওয়া ২৪টি যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে- চারটি কি (শবু) গ্যান্ট্রি ক্রেন (কিউজিসি), ছয়টি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরটিজি), দুটি কন্টেইনার মুভার, দুটি ১০০ টন মোবাইল ক্রেন, দুটি ৫০ টন মোবাইল ক্রেন, চারটি রিচ স্টেকার ও চারটি ভেরিয়াবেল রিচ ট্রাক। গত বছর এসব যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এতদিন এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়নি।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য উঠানামার জন্য তিনটি টার্মিনাল রয়েছে। এগুলো হলো- জেনারেল কার্গো বার্থ, চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল এবং নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল। এই তিন টার্মিনালে নতুন ১০টি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হওয়ার পর এখন চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য উঠানো-নামানোর কাজে যুক্ত আছে ৬৫টি গ্যান্টি ক্রেন। এর মধ্যে ১৮টি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন। বাকিগুলো রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এককভাবে শুধু এনসিটিতেই স্থাপন করা হয়েছে ১৪টি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন। এসব ক্রেনের পেছনে চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। কনটেইনার ওঠানামায় ব্যবহৃত ভারী ইকুইপমেন্টের মধ্যে এর পরপরই রয়েছে রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরটিজি)। চট্টগ্রাম বন্দরে এ রকম মোট ৪৭টি আরটিজি স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু এনসিটিতেই বসানো হয়েছে ৩০টি। এ জন্য বন্দরের ব্যয় হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।