জামালপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৩ ২১:৪৫ পিএম
আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৩ ১৬:৩৯ পিএম
জামালপুরের দিগপাইত এলাকায় বেজার উদ্যোগে স্থাপিত জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রবেশপথ। প্রবা ফটো
জামালপুর সদরের দিগপাইত এলাকায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) উদ্যোগে স্থাপিত হয়েছে জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল। চলতি বছরের শেষের দিকে বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান হবে অন্তত ২৫ হাজার মানুষের। ইতোমধ্যে ১৯টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ১৮৮ একর জমি (প্লট আকারে) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে দেশি-বিদেশি শিল্প উদ্যোক্তারা বিভিন্ন কারখানা স্থাপন করছেন। একই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে অবশিষ্ট এলাকায় উন্নয়ন কাজ চলছে।
২০২২ সালের ২০ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরো প্রকল্পটি চালু হলে এতে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে অন্তত ৫০ কোটি ডলার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে ৪৩৭ একর জমির ওপর স্থাপিত জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে এখন চলছে নানা কর্মযজ্ঞ। বিভিন্ন কলকারখানা স্থাপনের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। দেশি-বিদেশি শিল্পউদ্যোক্তারা সেখানে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। তবে এখনও উৎপাদনে যায়নি কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সূত্র বলছে, বন্যাপ্রবণ এলাকা হওয়ায় সেখানে মহাসড়কের সমান উচ্চতায় মাটি ভরাট করা হয়েছে। পুরো অর্থনৈতিক অঞ্চলের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর, প্রকল্প এলাকার ভূমি উন্নয়নসহ প্রশাসনিক ভবন, গ্যাসস্টেশন, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, পানি শোধনাগার পাম্পহাউস, একাধিক কর্টেজ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে গ্যাস-পানি, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, ড্রেন ও নিরাপত্তাসহ সব ধরনের আধুনিক সকল সুবিধা।
জামালপুর কৃষিসমৃদ্ধ জেলা হওয়ায় প্রকল্প এলাকায় কৃষি ও মসলাজাতীয় পণ্য, পাট, চামড়া, সিরামিক, অ্যাগ্রো প্রসেসিং ইন্ডস্ট্রিজ, টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্টস ও ফার্মাসিউটিক্যালসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করা হবে।
জানতে চাইলে জামালপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ বলেন, ‘জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি শিল্পোদ্যোক্তারা শিল্পকারখানা স্থাপন করছেন। বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্পকারখানার উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।’
জেলার বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে শ্রমিকনির্ভর কলকারখানা স্থাপনের জন্য শিল্প উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এতে করে এ প্রকল্পে প্রচুর পরিমাণে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, মানুষের অর্থনৈতিক চাকা সচল হবে। জামালপুর জেলা একটি উন্নত সচ্ছল ও আধুনিক জেলায় পরিণত হবে।’
সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, এ বছরের ডিসেম্বরে অথবা আগামী বছরের শুরুতেই এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কিছু প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যাবে। এ অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে জেলার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। কর্মসংস্থান হবে ২৫ হাজার মানুষের। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি চালু হলে সার্বিকভাবে জামালপুরের অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে যাবে বলে জানান তিনি।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন জানান, ৪৩৭ একর জমির ওপর স্থাপিত জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রথম পর্যায়ে ২৩৯ একর জায়গার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের ১০২ একর জমিতে উন্নয়ন কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে ১৮৮ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ২৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতেই এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করবে। ফলে এখানে কর্মসংস্থান হবে অন্তত ২৫ হাজার মানুষের।