× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সবুজ পাহাড়ে হলুদ চাষের সমারোহ

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৩ ০৯:৪৭ এএম

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৩ ১৫:৪৮ পিএম

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের পাহাড়ে চাষ হচ্ছে হলুদ। প্রবা ফটো

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের পাহাড়ে চাষ হচ্ছে হলুদ। প্রবা ফটো

পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকদের কাছে লাভজনক ফসলের নাম হলুদ চাষ। এই অঞ্চলের মাটিও হলুদ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এটি একটি মসলাজাতীয় খাদ্যদ্রব্য। প্রায় সব ধরনের রান্না করা খাবার তৈরিতে এই উপকরণটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া হলুদের চাহিদা ও বাজারদর ভালো হওয়ার কারণে পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে এ মসলাজাতীয় ফসল চাষে আগ্রহ বেড়েছে। যার ফলে দিন দিন বাড়ছে এই চাষ। রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই উপজেলায়ও বিপুল পরিমাণে চাষ হয় হলুদের। 

সম্প্রতি উপজেলার ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়নের কুকিমারা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ের কোলজুড়ে একের পর এক হলুদের ক্ষেত। পাশাপাশি সবুজ পাহাড়ের কোলঘেঁষে এসব হলুদ চাষ নজর কাড়ছে সবার। জানা গেছে, স্থানীয় বেশিরভাগ চাষিই এই হলুদের চাষে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। 

স্থানীয় কৃষক সুবিমল তঞ্চঙ্গ্যা জানান, হলুদ আবাদ সাধারণত ৯ মাসব্যাপী হয়ে থাকে আর বিঘাপ্রতি কাঁচা হলুদ পাওয়া যায় প্রায় ১২০ থেকে ১২৫ মণ। হলুদে রোগবালাই নেই বলে কৃষকদের তেমন ঝামেলা পোহাতে হয় না। তবে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করলে এর ফলন ভালো পাওয়া যায়। পাশাপাশি বাজারদর বেশি হওয়ায় হলুদের আবাদে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা।

পাহাড়ের কোলে জুমচাষের পাশাপাশি দীর্ঘ বছর ধরে হলুদের চাষ করে আসছেন স্থানীয় আরেকজন কৃষক মনিধন তঞ্চঙ্গ্যা। তিনি হলুদ চাষের বিষয়ে জানান, একসময় জুমচাষ করে সংসার চালাতেন তিনি। তবে একবার স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি হলুদ চাষ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। হলুদ চাষে অর্থ বিনিয়োগ করেন। পরে তিনি জুমচাষের চেয়ে হলুদ চাষ করেই বেশ লাভবান হয়েছেন বলে জানান। এরপর থেকেই তিনি হলুদের চাষ করে আসছেন। এ ছাড়া পাহাড়ে হলুদের চাষ সবচেয়ে বেশি ভালো হয় বলে তিনি জানান। এতে তিনি বেশ লাভবান হয়েছেন।

স্থানীয় আরেক কৃষক সুমেল তঞ্চঙ্গ্যা হলুদ চাষের বিষয়ে জানান, প্রতিবিঘা জমি হলুদ চাষের জন্য তাদের খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। গত বছর প্রকারভেদে ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি মণ হলুদ বাজারে বিক্রি হয়েছে। সেই তুলনায় এ বছর হলুদের বাজারদর আরও বেশি হবে বলে ধারণা করছেন কৃষকরা। সে কারণে তারা হলুদ বিক্রি করে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন।

এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেহ জানান, দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় পার্বত্য অঞ্চলে চাষ করা হলুদের কদর অনেকটা বেশি থাকে। আর বিশেষ করে কাপ্তাইয়ে যেই জাতের হলুদের চাষ হয়, এটি অনেকটা ভালো মানের। তাই এর বিক্রিও বেশি হয়ে থাকে। এ ছাড়া তিনি জানান, কাপ্তাই উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ১৪টি ব্লকে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে ওয়াগ্গা ব্লকে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ হয়ে থাকে। এ ছাড়া কৃষি বিভাগ থেকে স্থানীয় চাষিদের হলুদ চাষে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে। বিশেষ করে সার প্রয়োগ কিংবা পোকামাকড় দমনে কী কী করা প্রয়োজন, সেই বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া পাহাড়ের অধিকাংশ কৃষক জুমচাষের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে হলুদের চাষ করে থাকেন, এতে তারা সঠিক পরিচর্যা করার সুযোগ পান। পাশাপাশি হলুদ সংরক্ষণ করে রাখা যায় বলে প্রান্তিক কৃষকরা হলুদ চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। যার ফলে পার্বত্য অঞ্চলে দিন দিন হলুদের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা