× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কেজিতে ১৪ টাকা বেশি দামে পেঁয়াজ কিনছে টিসিবি

তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৩ ১১:৫৭ এএম

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৩ ১২:১২ পিএম

কেজিতে ১৪ টাকা বেশি দামে পেঁয়াজ কিনছে টিসিবি

দেশের বাজার ঠিক রাখতে সম্প্রতি সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছে। তবে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে টিসিবির পেঁয়াজের যে ক্রয়মূল্য দেখিয়েছে তা সাধারণ ব্যবসায়ীদের তুলনায় কেজিপ্রতি প্রায় ১৪ টাকা বেশি। এ ছাড়া পেঁয়াজের ক্রয়মূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি আমদানি খরচ দেখানো হয়েছে।

গত শুক্রবার ভারত থেকে টিসিবি ২০১ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে। পণ্যটি ভারত থেকে ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে টনপ্রতি ২২০ ইউএস ডলার বা ২৪ হাজার ২৬৬ (গতকালের ডলার রেট ১১০ দশমিক ৩০ টাকা হিসাবে)। সে হিসাবে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২৪.২৭ টাকা। কিন্তু বেসরকারি পর্যায়ে আমদানিকারকরা একই পেঁয়াজ আমদানি করেছে ১৪০ ডলার বা ১৫ হাজার ৪৪২ টাকায়। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ১৫ দশমিক ৪৪ টাকা। হিসাব অনুযায়ী টিসিবি প্রতি কেজি পেঁয়াজ প্রায় ১৪ টাকা বেশি দামে কিনছে।

সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পেঁয়াজের এই আমদানি দরের ফারাক নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।

তবে টিসিবি দাবি করেছে তারা এনএস কনস্ট্রাকশন নামে একটা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পেঁয়াজ আমদানির দায়িত্ব দিয়েছে। তারাই মূলত ৩ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করবে ভারত থেকে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার সৌরভ দাবি করেছেন, তারা আমদানি করছেন না। তারা শুধু এসব মালামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে ম্যানেজমেন্ট করছেন।

প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে শুক্রবার বেনাপোল বন্দর দিয়ে ২০১ দশমিক ৫৯ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে। যার আমদানি মূল্য দেখানো হয়েছে সর্বসাকল্যে ৯০ হাজার ৩১২ ডলার। সে হিসাবে টনপ্রতি মূল্য পড়ে ৪৪৮ ডলার বা ৪৯ হাজার ৪১৪ টাকা। প্রতি কেজি পেঁয়াজের মূল্য পড়ে ৪৯ দশমিক ৪১ টাকা। কাস্টমসের ভ্যাট-ট্যাক্সসহ প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পড়ে ৫৩ টাকার বেশি। ২২০ ডলারে কেনা পেঁয়াজের সর্বসাকল্যে দাম পড়ছে ৪৪৮ ডলার। সে হিসাবে ভারত থেকে দেশে পৌঁছাতে শুধু খরচ হচ্ছে ২২৮ ডলার, যা পেঁয়াজের ক্রয়মূল্যের চেয়েও বেশি।

অথচ সাধারণ ব্যবসায়ীরা বেনাপোল বন্দর দিয়ে চলতি মাসেই একই পেঁয়াজ ২৭৮ মেট্রিক টন আমদানি করেছে। এসব মালের ক্লিয়ারেন্স করেছে বেনাপোলের পাঁচ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। যার ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছে ১৪০ ডলার। সেই হিসাবে ভারত থেকে আসা এসব পেঁয়াজের দাম পড়েছে ১৫ দশমিক ৪৪ টাকা। কাস্টমসের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালুসহ আমদানি করা এসব পেঁয়াজের দাম দাঁড়ায় ১৮ থেকে ২৪ টাকা। এসব পেঁয়াজের অ্যাসেসমেন্ট মূল্য ধরা হয়েছে টনপ্রতি ৩৩০ ডলার বা ৩৬ হাজার ৩৯৯ টাকা। সে হিসাবে কেজিপ্রতি দাম পড়ে ৩৬ দশমিক ৩৯ টাকা। যেখানে টিসিবির আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পড়েছে ৫৩ টাকার বেশি। অন্যদিকে সাধারণ ব্যবসায়ীদের আমদানি করা পেঁয়াজের অ্যাসেসমেন্ট মূল্য ৩৩০ ডলার। ১৪০ ডলার ক্রয়মূল্য বাদ দিলে খরচ দাঁড়ায় ১৯০ ডলার। যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খরচ। কিন্তু টিসিবির আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমসের ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে এই খরচ এসেছে ২২৮ ডলার।

তবে আড়তদারদের দাবি, আমদানিকারক ও সংরক্ষণকারীরা সিন্ডিকেট করেই অতি মুনাফার আশায় এ সংকট তৈরি করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারলে পণ্যটির দাম কমানো সম্ভব। যশোর বড় বাজারের আড়তদার বাদশা মিয়া বলেন, গতকাল মঙ্গলবার সকালে তারা ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে পাইকারিতে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে ভারতের পেঁয়াজ ৬০ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন ৭০ টাকা দরে। তার দাবি, আমদানিকারকরা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের বাজার অস্থির করে রেখেছে। সরকার যদি দাম বাড়ার গোড়া খুঁজে অভিযানে নামে তাহলে নিশ্চয়ই পেঁয়াজের দাম কমানো সম্ভব।

বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শোভা এন্টারপ্রাইজের মালিক নাবিল হোসাইন বলেন, আমদানি করা পেঁয়াজের ইনভয়েস মূল্য মুখ্য বিষয় নয়। মুখ্য বিষয় হলোÑ কাস্টমসের অ্যাসেসমেন্ট মূল্য ও ভারতের কাস্টমসের ইনভয়েস মূল্যের ওপর রপ্তানি শুল্ক চাপিয়ে দেওয়া। দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা করে ভারত রপ্তানি শুল্ক উঠিয়ে নিলে পেঁয়াজের দাম অনেক কমানো সম্ভব।

টিসিবির পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এনএস কনস্ট্রাকশনের ম্যানেজার সৌরভ বলেন, এটা তারা আমদানি করছেন না। তারা শুধু এসব মালামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে ম্যানেজমেন্ট করছেন।

বেনাপোল ১ নম্বর শুল্কায়ন গ্রুপের রাজস্ব কর্মকর্তা রেজাউল করিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বেনাপোল দিয়ে গত এক মাসে ৫০০ মেট্রিক টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে শুধু টিসিবির ইনভয়েস ভ্যালু ছিল ৪৪৮ ইউএস ডলার। আর ব্যবসায়ীদের ইনভয়েস ভ্যালু ছিল ১৪০ থেকে ১৬০ ডলারের মধ্যে। এসব পেঁয়াজের ক্রয়মূল্য ১৪ থেকে ২৪ টাকা পর্যন্ত। তবে টিসিবির আমদানি করা পেঁয়াজের মোট মূল্য পড়ে ৫৩ টাকার বেশি। 

সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পেঁয়াজ আমদানিতে দরের বিস্তর ফারাকের বিষয় জানতে চাইলে টিসিবির কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে এনএস কনস্ট্রাকশন নামে একটা প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করতে দিয়েছি। তাই বিষয়টা তারাই ভালো বলতে পারবে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের নামেই পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে।’ পেঁয়াজের দরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল হাসান বলেন, ‘ভারতে পেঁয়াজের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। এরপর ট্রান্সপোর্ট, কাস্টমস, এক্সপোর্ট খরচসহ দাম অনেক বেশি। যে কারণে আমদানি করে কম রেটে পেঁয়াজ দেওয়া সম্ভব না। আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে ৪৪৮ ডলার ও ৪৫০ ডলার রেট দিয়েছি। ভারত ও পাকিস্তান থেকে আমদানির ক্ষেত্রে ৪৫৭ ডলার রেট দিয়েছে। এর নিচে কেউ দিতে পারবে না। টেন্ডারের সময় অনেক জায়গা থেকে অনেক লোক এসেছে। অনেকে কমে দিতে চেয়েছে কিন্তু পরে ভেগে গেছে।’

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা