এম আর মাসফি
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৩ ১৪:২৪ পিএম
আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৩ ১৮:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে দেশের সাত সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়কে সোলার লাইট স্থাপনে উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যকে পাশ কাটিয়ে ৯০ শতাংশ সড়কে বিদ্যুৎনির্ভর এলইডি লাইট স্থাপন করা হয়েছে। যদিও বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং কার্বন নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য সফল হয়নি।
জানা যায়, ২০১২ সালে ৩১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সোলার স্ট্রিট লাইটিং প্রোগ্রাম ইন সিটি করপোরেশন প্রকল্প নেয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। মূল প্রকল্পে সাত সিটি করপোরেশনেই সোলার এলইডি লাইট লাগানোর কথা থাকলেও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) সংশোধন করে মাত্র ১০ শতাংশ লাগানো হয়েছে সোলার এলইডি লাইট আর বাকি ৯০ শতাংশই লাগানো হয়েছে এলইডি লাইট ও অন্যান্য।
আইএমইডি বলছে, সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় লাইটের সঙ্গে অপারেশনাল ড্রাইভার সংযুক্ত আছে। তবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় লাইট চালানোর জন্য আলাদা ড্রাইভার বক্স রয়েছে। সকল সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য বিশেষ লাইট ব্যবহার করা বাঞ্চনীয় ছিল। প্রকল্পটির আওতায় ৯টি জিপ ও ৭টি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনা হয়েছে। যানবাহনসমূহ সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য দপ্তরে সরবরাহ করা হয়েছে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর ক্রয়কৃত সকল যানবাহন পরিবহন পুলে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
প্রকল্পটি নেওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে সরকারের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০২০ সালের মধ্যে ২৩ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাওয়ার সিস্টেম মাস্টারপ্ল্যান ২০১০-এ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানি বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০০৮ অনুসারে ২০২০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস থেকে মেটানোর লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।
নবায়নযোগ্য শক্তির সকল উৎসের মধ্যে সৌরশক্তির সেবা কার্যকর ব্যবস্থা। এজন্য সরকার ইতোমধ্যে ৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি চালু করেছে। এ উদ্যোগের আওতায় দেশের সাতটি সিটি করপোরেশন সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি গ্রহণ করে এবং করপোরেশনের রাস্তায় স্ট্রিট লাইটিং ব্যবস্থায় সৌরশক্তির মাধ্যমে বাতি জ্বালানোর লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুৎ-চালিত এলইডি টেকনোলজির প্রতিস্থাপন করার জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।
প্রকল্পটি নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল- প্রচলিত স্ট্রিট লাইটের পরিবর্তে এলইডি স্ট্রিট লাইট প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিল হ্রাস, গ্রিন এনার্জি জেনারেশন বৃদ্ধি ও কার্বন নির্গমন হ্রাস করা।
সংশোধিত প্রকল্পের মূল কার্যক্রম ছিল, ২০ কিলোমিটার সোলার বেজড পিভি এলইডি স্ট্রিট লাইট স্থাপন, ২০০ কিলোমিটার নন-সোলার বেজড পিভি এলইডি স্ট্রিট লাইট (গ্রিড) স্থাপন, ১৪৫২ সেট সোলার বেজড পিভি এলইডি স্ট্রিট লাইট সিস্টেম স্থাপন ও ১৩৪৩১ সেট নন-সোলার বেজড পিভি এলইডি স্ট্রিট লাইট সিস্টেম স্থাপন।
প্রকল্পের অর্জন হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচলিত স্ট্রিট লাইটের পরিবর্তে এলইডি স্ট্রিট লাইট প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎশক্তির সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। তবে ডিপিপির মূল কম্পোনেন্ট পরিবর্তন করা হয়েছে। গ্রিন এনার্জি জেনারেশন বৃদ্ধি এবং কার্বন নির্গমন কমেছে, সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিল হ্রাস পেয়েছে।
আইএমইডি তাদের সুপারিশে বলেছে, পরবর্তীতে সমধর্মী প্রকল্প গ্রহণ করা হলে সকল সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য বিশেষ লাইট ব্যবহার করতে হবে।