× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ডিক্যাব টকে ইইউ ভাইস প্রেসিডেন্ট

জিএসপি সুবিধার পূর্বশর্ত মানবাধিকার সুরক্ষা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২২ ১৮:২৫ পিএম

ডিক্যাব টক

ডিক্যাব টক

ঢাকায় সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের প্রধান ও ইইউ ভাইস প্রেসিডেন্ট হেইডি হটুলা বলেছেন, ইউরোপের বাজারে ২০২৯ সাল পর্যন্ত জিএসপি সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। এর পর এই সুবিধা বহাল রাখতে বাংলাদেশকে শ্রমিক অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি সার্বিক মানবাধিকার রক্ষার প্রতিও জোর দিতে হবে। কারণ ইইউ শ্রমিক অধিকার রক্ষাকে সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি দিয়েই বিবেচনা করে। 

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকার কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টকে’ অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডিক্যাব টকে তার সঙ্গে ইউরোপিয় প্রতিনিধি দলের অপর সদস্য ম্যাক্সিমিলিয়ান কারাহ এবং ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করে ডিক্যাব সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হেইডি হটুলা বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের কথা এবং এ আইন সংশোধন করে আন্তর্জাদিক মানদণ্ডে উন্নীত করার বিষয়ে তারা আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। ভবিষ্যতে ডাটা প্রটেকশন অ্যাক্টের (তথ্য সুরক্ষা আইন) মতো আইন হলেও সেগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে। ইউক্রেন সংকট বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন. ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন কোনোভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। এ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইইউর দৃঢ় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার এবং কারখানাগুলোতে শ্রম পরিবেশের অগ্রগতি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

হেইডি হটুলা আরও বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য বেড়েছে। বিশেষ করে গত এক দশকে ইইউ-বাংলাদেশ বাণিজ্যের পরিমাণ আগের দশকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হলেও পরবর্তী তিন বছর এ সুবিধা অব্যাহত থাকবে। ২০২৯ সালের পর এ সুবিধা অব্যাহত রাখতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশকে ইউরোপিয় ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের শর্ত মানতে হবে। বিশেষ করে শিশুশ্রম সম্পূর্ণ বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। সব ধরনের শিল্পে শিশুশ্রমের বিষয়ে ইইউ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। বর্তমান বিদ্যমান আইন সংশোধন করে আইনকে আরও বেশি শ্রমিক অধিকার এবং শ্রমিক বান্ধব করতে হবে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষার বিবেচনায় ইইউ শ্রমিক অধিকারের বিষয়টিকে দেখে। ফলে বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার যে বিষয়গুলো আছে তা দূর করতে হবে। 

বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকারের বাস্তব অবস্থা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ইইউ ভাইস প্রেসিডেন্টে বলেন, তারা বেশ কয়েকটি কারখানা বর্তমান সফরে এসে পরিদর্শন করেছেন। ভবিষ্যতে আরও কারখানা পরিদর্শন করবেন। ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার রক্ষা এবং কারখানাগুলোতে শ্রমবান্ধব পরিবেশের উন্নয়নে তারা সন্তুষ্ট। তবে এক্ষেত্রে আরও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা আছে এবং এ বিষয়গুলো নিয়ে তারা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইইউ প্রতিনিধি দলের অপর সদস্য ম্যাক্সিমিলিয়ান কারাহ বলেন, একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ইইউ এর বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে এবং এ অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তবে একই সঙ্গে ইইউ কঠোর অবরোধের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করার নীতিতেও বিশ্বাস করে না। কিন্তু রাশিয়ার আগ্রাসন রোধে যেসব পদক্ষেপ না নিলেই নয়, ইইউ কেবল সেসব পদক্ষেপই নিচ্ছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা