প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৭:০২ পিএম
সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা। প্রবা ফটো
রেমিট্যান্স বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটসহ চলমান অর্থনৈতিক সব সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
এর আগে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ধারাবাহিকভাবে কমছে প্রবাসীদের ডলার পাঠানো বা রেমিট্যান্স প্রবাহের হার। আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরেও কম আসছে প্রবাসী আয়।
প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, প্রবাসীরা সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২২ দিনে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১০৫ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। এতে প্রতিদিন গড়ে ৪ কোটি ৭৯ লাখ ৫২ হাজার মার্কিন ডলার এসেছে দেশে। আগস্ট মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। যা তার আগের ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলে কমে যাচ্ছে রিজার্ভ।
বিদেশে শ্রমশক্তির বিপরীতে কেন প্রবাসী আয় বাড়ছে না তা খতিয়ে দেখার আহবান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন তো বহু মানুষ দেশের বাইরে যাচ্ছেন। তরুণরা স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে গিয়ে স্থায়ী হচ্ছেন। শ্রমিকরাও বৈধপথে বিদেশ যাচ্ছেন। কিন্তু সেই অনুপাতে দেশে রেমিট্যান্স আসছে না। রেমিট্যান্সটা যদি বাড়তো, যেভাবে আগে আসছিল; সেভাবে আসতো, তাহলে অর্থনৈকি সমস্যার সমাধান হয়ে যেতো।’
তিনি বলেন, ‘কেন রেমিট্যান্স বাড়ছে না, এটার সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজতে হবে। সমাধানের পথ বের করতে হবে। এজন্য আমাদের যারা অর্থনীতিবিদ রয়েছেন, এ সেক্টরের বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, তাদের কাছে আমরা উদ্ভাবনী পরামর্শ চাইবো। আপনারা রেমিট্যান্স প্রবাহ ঠিক রাখতে সংস্কারের প্রস্তাব-পরামর্শ দিলে আমরা গ্রহণ করবো।’
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক এবং বিশ্বব্যাংকের গভর্ন্যান্স গ্লোবাল প্রাকটিসের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্র্যাকটিস ম্যানেজার হিশাস ওয়েলি।
এর আগে সকালে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থপনা পুনর্গঠন বিষয়ে প্যানেল আলোচনা হয়। এতে আলোচক ছিলেন সাবেক পাঁচ অর্থসচিব। তারা হলেন- মো. জাকির আহমেদ খান, ড. মোহাম্মদ তারেক, মো. ফজলে কবির, মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, আব্দুর রউফ তালুকদার।