উৎসব শুরু ২৭ সেপ্টেম্বর
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৫:১৪ পিএম
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৬:৩১ পিএম
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেল্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিথিরা। প্রবা ফটো
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হতে যাচ্ছে চার দিনব্যাপী বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ‘মুজিবস বাংলাদেশ’ প্রচারের অংশ হিসেবে এ ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করেছে।
সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেল্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলন করেন বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের।
বিশ্ব পর্যটন দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড গ্রিন ইনভেস্টমেন্ট’ বা পর্যটনে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ।
সংবাদ সম্মেলনে সচিব জানান, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ফেস্টিভালের উদ্বোধন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি। একই দিন সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রারও আয়োজন করা হয়েছে।
চার দিনব্যাপী ফেস্টিভ্যালে ১৬০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে এয়ারলাইনস, হোটেল, রিসোর্ট, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, ট্যুরিস্ট-ভেসেল, ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরের মতো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলার পর্যটন পণ্য ও সেবা প্রদানকারীরা অংশ নেবেন বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে পর্যটক ও পর্যটন কেন্দ্রের নিরাপত্তা, আবাসন, এভিয়েশন, পর্যটন খাতে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এবং পর্যটনশিল্পে নারীর অংশগ্রহণ, প্রত্নপর্যটন, খাদ্যপর্যটন, পর্যটন ও এভিয়েশন সাংবাদিকতা, প্লাস্টিক ফ্রি সেন্টমার্টিন ইত্যাদি বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
উৎসবে আয়োজন থাকবে দেশি-বিদেশি ইউনিক ও অথেন্টিক খাবার সম্পর্কে জানার ও উপভোগ করার সুযোগ। দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে থাকবে জামতলার সাদেক গোল্লা, নরসিংদীর নকশি পিঠা, নাটোরের কাঁচা গোল্লা, কুষ্টিয়ার কুলফি, পুরান ঢাকার হাজী বিরিয়ানি, বাকরখানি, মুক্তাগাছার মণ্ডা, চট্টগ্রামের মেজবান, খুলনার চুইঝাল, বিসমিল্লাহর কাবাব, কুমিল্লার রসমালাইসহ ৬৪ জেলার ৭০টির বেশি ঐতিহ্যবাহী ফুড স্টল। এ উৎসবে তাঁত, জামদানি তৈরির প্রক্রিয়া দেখা যাবে। এতে ঐতিহ্য মসলিন পুনরুদ্ধার হওয়ার গল্প এবং মসলিন তৈরির প্রক্রিয়া প্রদর্শন করা হবে।
চার দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে থাকবে গম্ভীরা, সিলেটের আঞ্চলিক গান, গাজী কালুর পট, পথ নাট্য, বাউল গান, পুঁথি পাঠ, কাওয়ালী এবং বিশিষ্টশিল্পীদের গানের আয়োজন ইত্যাদি। এ ছাড়া সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিশেষ আয়োজন থাকবে বাংলাদেশ ফেস্টিভালের চতুর্থ দিন অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর।
পর্যটন সচিব মোকাম্মেল হোসেন বলেন, দর্শনার্থীরা তাদের আকর্ষণীয় ট্যুর প্ল্যান তৈরি করতে এ উৎসব সহায়তা করবে। দর্শনার্থীরা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ইতিহাস, ঐতিহ্য, পুরাকীর্তি, পর্যটন সম্পদ সম্পর্কে জানতে পারবেন। প্রতিটি জেলার পর্যটন আকর্ষণের ছবি দেখার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপনের জন্য আমরা প্রতি বছর নিয়মিতভাবে এ ধরনের আয়োজন করার পরিকল্পনা করছি। এই উৎসব হবে একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখান থেকে বাংলাদেশের সব পর্যটন আকর্ষণ জানার সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল বাংলাদেশের সব ঐতিহ্যকে যেমন আপনার কাছে উপস্থাপন করবে তেমনি অপরূপ এই বাংলার আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়ানোর সব সুযোগ সুবিধা তুলে ধরবে।