প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৬:০৯ পিএম
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২১:৪০ পিএম
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ অভিযানে জব্দ অবৈধ ফরেন কারেন্সিসহ বাংলাদেশি টাকা। প্রবা ফটো
নগদ ডলার কারসাজি ও হুন্ডি প্রতিরোধে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথ অভিযান চালিয়ে অবৈধ ফরেন কারেন্সিসহ বাংলাদেশি টাকা জব্দ করেছে। এর সঙ্গে জড়িত অভিযোগে মামলা দিয়ে ছয়জনকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকার শখ সেন্টার ভবনের মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়।
গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে একাধিক কাউন্টার খুলে গোপনে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি দামে ডলার বিক্রি, রেজিস্টারে অসংগতিপূর্ণ লেনদেন প্রদর্শন, অতিরিক্ত ডলার মজুদ, দালালচক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে ব্যবসাসহ হুন্ডি কার্যক্রমে জড়িত বেশ কয়েকটি মানি এক্সচেঞ্জে অনিয়মের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। অভিযান পরিচালনার সময়ে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম পাওয়া যায় চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে।
সেখানে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন কাউন্টার থেকে ২৪ হাজার ৮৪ ইউএস ডলার, ৫০ হাজার ৯৫৭ সৌদি রিয়াল, ৪ হাজার ৬৮০ ইউরো, ১ লাখ ১৯ হাজার ভারতীয় রুপি, ৮ হাজার ৮৯০ রিংগিতসহ বিভিন্ন দেশের আরও কিছু মুদ্রা এবং ১৯ লাখ ১২ হাজার ৩৫০ টাকা জব্দ করা হয়।
এ ছাড়া বকাউল মানি এক্সচেঞ্জের সঙ্গে জড়িত দালাল জামাল উদ্দিন সিকদার নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে যথাযথ উৎসবহির্ভূত অবৈধ ৫ হাজার ৮৭৮ রিংগিত, ১ হাজার ৩৫ দিরহাম এবং ৫ হাজার ৫০০ ভারতীয় রুপিসহ কিছু সিঙ্গাপুরি ডলার জব্দ করা হয়।
অভিযানকালে পল্টন এলাকার মানি এক্সচেঞ্জগুলোর সঙ্গে নিয়মিত লেনদেনকারী ভ্রাম্যমাণ দালাল/হুন্ডি ব্যবসায়ী মো. মকবুলের কাছ থেকে ৫৫ হাজার সৌদি রিয়াল, ৩ হাজার ৭০ ইউরো, ১ হাজার ৫৫০ রিংগিত এবং ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।
বেশ কয়েকজন দালাল/হুন্ডি ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, অতিরিক্ত কমিশনের বিনিময়ে এক্সচেঞ্জগুলোর পক্ষে দোকানের বাইরে ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় ফরেন কারেন্সি ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে।
এ ছাড়া দালালচক্রের একটি অংশ ভারত থেকে কাপড়/পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী আমদানির আড়ালে এলসির আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের টাকা হুন্ডি হিসেবে ব্যবহার করছে। আর এই হুন্ডির টাকা লেনদেনে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের গোপন সংকেত। এ বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আরও বড় অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার।
এদিকে অনিয়মের ঘটনায় পুরানা পল্টনের শখ সেন্টারের অন্যান্য, হক, নিউট্রাল, জনতা, পাফ, মেক্সিমকো, বকাউল, লিগ্যাল, ইস্টার্ন ইউনিয়ন মানি এক্সচেঞ্জে দিনভর অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য মালিক পক্ষকে মৌখিকভাবে সতর্কও করা হয়েছে।
অভিযানে প্রাপ্ত অবৈধ ফরেন কারেন্সিসহ বাংলাদশি টাকা এবং চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জের চারজন ও ভ্রাম্যমাণ দালালসহ মোট ছয়জনকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
আসামিমের মধ্যে চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জের সঙ্গে জড়িতরা হলেন- আহমেদ নোমান, মোহাম্মদ মাসুদ আলম, এমএম জাকারিয়া, শিহাব উদ্দিন মৃধা। অন্য দুজন হলেন- ভ্রাম্যমান দালাল মোহাম্মদ মকবুল হোসেন ও বকাউল মানি এক্সচেঞ্জের মো. জামাল উদ্দিন শিকদার।